E-Paper

সীমান্ত-সমন্বয়ে জোর পুলিশের

বাংলাদেশ ও ভারতের মোট প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত আছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই সীমান্ত প্রায় ২,২১৯ কিলোমিটার লম্বা। এর মধ্যে প্রায় ১৬৫০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া আছে। বাকি ৫৬৯ কিলোমিটারে কোনও কাঁটাতার নেই।

শিবাজী দে সরকার, কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০৮:৫৩

—প্রতীকী চিত্র।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে বরাদ্দ জমি হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এ বার সীমান্তে দুষ্কৃতীরাজ এবং চোরাচালান ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য পুলিশ। প্রশাসন সূত্রের খবর, আইজি, ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইন শৃঙ্খলা)-র নির্দেশ, পাচার, অনুপ্রবেশ এবং অপরাধ ঠেকাতে নিয়মিত সীমান্ত সমন্বয় বৈঠক করতে হবে। সেই বৈঠকে বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা তথ্য লেনদেনের উপরেও বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও ভারতের মোট প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত আছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই সীমান্ত প্রায় ২,২১৯ কিলোমিটার লম্বা। এর মধ্যে প্রায় ১৬৫০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া আছে। বাকি ৫৬৯ কিলোমিটারে কোনও কাঁটাতার নেই। অনুপ্রবেশ, পাচারের নিরিখে এই বেড়াহীন সীমান্ত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে পুলিশের দাবি।

এক পুলিশকর্তার মন্তব্য, ‘‘নতুন সরকার আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে জ়িরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই এই নির্দেশ।’’ প্রসঙ্গত, সীমান্তে অপরাধদমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয়ের নীতি আগেও ছিল। কিন্তু সেই বৈঠক অনিয়মিত হত বলে পুলিশের একাংশের দাবি। বিএসএফ সূত্রের দাবি, তারা সীমান্তে নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে প্রচুর পাচার রুখে দেয় এবং পাচারকারীদেরও আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ বার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়লে সেই কাজ আরও দৃঢ় হবে। তবে রাজ্য পুলিশের তরফে বিএসএফের কাছে ইতিমধ্যে কোনও বার্তা পৌঁছেছে কি না, সে ব্যাপারে সদুত্তর মেলেনি।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একাংশের দাবি, সীমান্তে তারা এবং বিএসএফের গোয়েন্দা বাহিনী নিয়মিত নজরদারি করে। সেই সব তথ্য ‘সাবসিডিয়ারি মাল্টি এজেন্সি সেন্টার’ (এসম্যাক) বৈঠকে রাজ্যকেও দেওয়া হয়। তবে সীমান্ত সমন্বয়ে আলাদা বৈঠক হলে নিরাপত্তা ও অপরাধদমন আরও সহজসাধ্য হবে।

রাজ্য পুলিশের এক কর্তা জানান, সীমান্ত সমন্বয়ের ক্ষেত্রে থানা পর্যায়ে মাসিক বৈঠক করতে বলা হয়েছে। এসডিপিও পর্যায়ে প্রতি তিন মাস অন্তর সমন্বয় বৈঠক করবে হবে। ওই বৈঠকের তথ্য ও আলোচনার বিষয়বস্তু রাজ্য পুলিশের আইবি-র আইজি (সীমান্ত)-কে পাঠাতে হবে। তিনি সেই তথ্য সংরক্ষণ করবেন। পুলিশের খবর, সীমান্তে মানুষ পারাপারের দালালদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Police police

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy