E-Paper

ইমেল আইডি ‘হ্যাক’ করে সাইবার জালিয়াতদের বিক্রি করে দিত সৌরভ

গত সপ্তাহে এ রাজ্যের বিভিন্ন আদালত, ডাকঘর থেকে শুরু করে পাসপোর্ট অফিসেও বোমা রাখার হুমকি মেল পাঠানো হয়েছিল। যার ভিত্তিতে পর পর তিন দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয় সরকারি অফিসে। ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় রাজ্য পুলিশের সাইবার শাখার হাতে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৬:৩২

—প্রতীকী চিত্র।

গুজরাতের বিভিন্ন স্কুলে এবং আদালতে বোমা রাখার হুমকি ইমেল পাঠানোর অভিযোগে এ রাজ্য থেকে ধৃত সৌরভ বিশ্বাস ওরফে মাইকেল অন্যের ইমেল আইডি হ্যাক করে সেগুলি চড়া দামে বিক্রি করত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে আমদাবাদ পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, হ্যাক করা ইমেল অ্যাকাউন্টগুলি কয়েক ডলারে সাইবার জালিয়াতদের বিক্রি করে দিত সৌরভ। সেই সব ইমেল অ্যাকাউন্ট থেকেই হুমকি মেল পাঠানো হত বলে অনুমান পুলিশের। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের ধারণা, সৌরভও সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই ঘটনার বাকি চক্রীরা বাংলাদেশে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। হুমকি মেলের পিছনে বাংলাদেশের একটি চক্র সক্রিয় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মুম্বই-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হুমকি মেল পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। সৌরভের কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

গুজরাতের বিভিন্ন স্কুলে ও আদালতে ভুয়ো হুমকি মেল পাঠানোর অভিযোগে আমদাবাদ পুলিশ গত রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পুলিশ জেলার গোপালনগর থানা এলাকা থেকে স্থানীর পুলিশের সাহায্যে সৌরভকে গ্রেফতার করে। গোপালনগর থানার শ্রীপল্লির গোবিন্দপল্লি এলাকায় তার বাড়ি। পুলিশের একাংশ জানিয়েছে, সৌরভ আদতে বাংলাদেশের বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে সে এ রাজ্যে এসেছিল। মঙ্গলবার আমদাবাদের আদালতে তাকে তোলা হয়। বিচারক তাকে ১৪ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আমদাবাদের ৪০টিরও বেশি স্কুলে বোমা রাখা আছে বলে হুমকি ইমেল পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে গুজরাত পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন এবং অপরাধ দমন শাখার পুলিশ বছর তিরিশের সৌরভকে শনাক্ত করে। তার পরেই এ রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তল্লাশি চালিয়ে গোপালনগর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে এ রাজ্যের বিভিন্ন আদালত, ডাকঘর থেকে শুরু করে পাসপোর্ট অফিসেও বোমা রাখার হুমকি মেল পাঠানো হয়েছিল। যার ভিত্তিতে পর পর তিন দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয় সরকারি অফিসে। ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় রাজ্য পুলিশের সাইবার শাখার হাতে। তারা বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তৈরি করে তদন্তে নেমেছে। অন্য দিকে, কলকাতা পুলিশের এসটিএফ পৃথক ভাবে তদন্ত করছে। রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, আমদাবাদ পুলিশের হাতে ধৃত সৌরভের সঙ্গে এ রাজ্যে হুমকি মেল পাঠানোর ঘটনার কোনও যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে গুজরাত পুলিশের সঙ্গে। প্রয়োজনে এ রাজ্যের পুলিশের একটি দল ধৃতকে জেরা করতে গুজরাতে যাবে।

এ দিকে, সৌরভ কী কাজকর্ম করত, তা তাঁরা জানতেন না বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তবে, তাঁরা জানান, সৌরভের কাঁধে একটি ল্যাপটপ থাকত সর্বক্ষণ! এলাকায় বিশেষ মেলামেশা ছিল না তার। এলাকাবাসীর দাবি, রবিবার সৌরভ গ্রেফতার হওয়ার পরেই তার স্ত্রী উধাও হয়ে গিয়েছেন। আধার কার্ডে সৌরভের বাড়ির ঠিকানা নিউ
ব্যারাকপুর থানার খলসিকোটা হলেও গত দু’বছর ধরে সে গোপালনগরে বসবাস করছিল। ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানালেন, সম্প্রতি একটি একতলা পাকা বাড়ি তৈরি করিয়েছিল সৌরভ। স্থানীয় এক যুবকের কথায়, “ওঁকে কোনও কাজ করতে দেখিনি।
তবে, সব সময়ে ল্যাপটপ সঙ্গে থাকত।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Cyber Crime Hack

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy