২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিউ টাউনে সন্ত্রাস করার অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তী ও শাহনওয়াজ আলি মণ্ডল ওরফে ডাম্পি সহ সাত জনের নামে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গত শুক্রবার নিউ টাউন থানায় জেনারেল ডায়েরি করেছেন বাসিন্দা সন্দীপা চক্রবর্তী নামে এক বিজেপি কর্মী।
অভিযোগ, ওই ভোটের সকালে প্রধান ভোটকেন্দ্র এপিজে আব্দুল কালাম কলেজের আশপাশের রাস্তা পুলিশের গার্ডরেল ফেলে আটকে দেওয়া হয়। অন্যান্য বুথেও দাপিয়ে বেড়ায় দুষ্কৃতীরা। স্থানীয়দের মারধর করে ভোট লুটের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ ওঠে।
সন্দীপার অভিযোগ, দেবরাজ, ডাম্পিদের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন আবাসিকদের সংগঠন নিউ টাউন ফোরাম ও নিউজের চেয়ারম্যান সমরেশ দাস-সহ আরও অনেকে। তাঁরা পঞ্চায়েত ভোট বয়কটের প্ল্যাকার্ড লিখে মানুষকে ভোট দিতে বাধা দেন বলেও অভিযোগ সন্দীপার। তিনি জানান, দেবরাজ, ডাম্পিদের নেতৃত্বে নিউ টাউনের প্রতিটি কেন্দ্রে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাস চলেছিল। তাঁকেও মারধর করা হয়।
ওই ঘটনার পরে নিউ টাউনের বাসিন্দারা তৎকালীন শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন। নিউ টাউনের বাসিন্দা তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতা অনুপম ঘোষ বলেন, ‘‘তখন বিজেপির ভোটের দায়িত্বে ছিলাম। সমরেশরা ভোট বয়কটের আড়ালে দেবরাজদের সন্ত্রাসে মদত দেন। মারধর করে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি।’’
এ প্রসঙ্গে দেবরাজ ও ডাম্পিকে ফোন করা হলেও সেই দু’টি বন্ধ ছিল। সন্ত্রাসের অভিযোগ অস্বীকার করে সমরেশের দাবি, নিউ টাউনকে পঞ্চায়েতে যুক্ত করার প্রতিবাদে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন। নিউ টাউনের উন্নয়নে স্বার্থে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান বলে দাবি করেন সমরেশ। বিজেপি নেতা অনুপমের পাল্টা দাবি, ‘‘সমরেশ বেলা ১২টার পরে ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করছেন। ওঁর মুখোশ খুলে গিয়েছে। ওঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের ওঁকে প্রয়োজন নেই।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)