Advertisement
E-Paper

ছেলেমেয়েরা রাস্তায় ছুড়ে ফেলেছে, ঠাঁই দিল এক মুসলিম পরিবার

অবিবাহিত এক মেয়েকে নিয়ে প্রায় রাস্তায় এসে দাঁড়ানোর জোগাড় হয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৮ ০৩:১৬
আপনজন: সাকিনার সঙ্গে বেলারানি (বাঁ দিকে)। —নিজস্ব চিত্র।

আপনজন: সাকিনার সঙ্গে বেলারানি (বাঁ দিকে)। —নিজস্ব চিত্র।

তেরো সন্তানের জননী তিনি। তবু ছেলেমেয়েদের সংসারে ঠাঁই হয়নি বিধবা বৃদ্ধার। অবিবাহিত এক মেয়েকে নিয়ে প্রায় রাস্তায় এসে দাঁড়ানোর জোগাড় হয়েছিল।

কিন্তু মানবিকতা তো মুছে যায়নি। ফুরিয়ে যায়নি ভাল মানুষও। নবতিপর বৃদ্ধা বেলারানি দত্ত তাই নতুন ঘর পেয়েছেন। সাকিনা বিবির ঝুপড়িই এখন তাঁর ঠিকানা।

পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির খড়কি গ্রামের বাসিন্দা পঁচানব্বই ছুঁইছুঁই বেলারানিদেবী। বৃদ্ধা জানিয়েছেন, স্বামীর মৃত্যুর পরে তিন ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে জমিজমার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে অশান্তি শুরু হয়। আর তার জেরেই বছর চারেক আগে ছেলে-বউমারা তাঁকে বাড়ি থেকে বার করে দেন বলে বেলারানিদেবীর অভিযোগ। সেই সময় কাঁথির মহকুমাশাসকের কাছে নালিশ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি বলে বৃদ্ধার দাবি।

এর পর অবিবাহিত মেয়ে শোভারানিকে নিয়ে জুনপুটের রামপুরের কাছে বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলে আসেন বেলারানিদেবী। শোভারানি পরিচারিকার কাজ করতেন। কোনওরকমে মা-মেয়ের চলে যেত। তবে বাদ সাধে শরীর। স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত হন শোভারানি। আর পথ দুর্ঘটনায় হাত-পা ভাঙে বেলারানিদেবী। অর্থাভাবে বাড়ি ভাড়া মেটাতে পারেননি। বাড়ি ছাড়তে হয়। আর সেই সঙ্কটকালেই পাশে পান পূর্ব পরিচত ওই মুসলিম পরিবারকে।

আরও পড়ুন: ‘শোভনদার জীবন গুছিয়ে দিয়েছি আমি’, বললেন বৈশাখী

কাঁথির উত্তর দারুয়ায় সাকিনা বিবির ঝুপড়ি ঘরেই এখন থাকেন বেলারানি এবং শোভা। সাকিনার স্বামী বাইরে থাকেন। পরিচারিকার কাজ করে, চারাগাছ বেচে বহু কষ্টে দিন গুজরান করেন তিনি। তবু সংসারে আরও দু’টো মানুষকে ঠাঁই দিতে দু’বার ভাবেননি তিনি। সাকিনা বলছিলেন, ‘‘মাসিমা (বেলারানিকে ওই সম্বোধনেই ডাকেন) আমার স্বামীর পূর্ব পরিচিত। ঠিকমতো খেতে পাচ্ছিলেন না। অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাই আমাদের বাড়িতে এনে রেখেছি।’’

বেলারানিদেবী ও শোভাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথা অবশ্য মানছেন না তাঁর ছেলে, বৌমা, নাতি-নাতনিরা। এক পুত্রবধূ লক্ষ্মী দত্তের দাবি, “মাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়নি। উনি নিজেই মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। আমরা বহুবার ফিরিয়ে আনার জন্য গিয়েছি। কিন্তু উনি রাজি হননি।’’ বৃদ্ধার এক নাতি মতিলাল দত্তের আবার অভিযোগ, “ওই মুসলিম পরিবারের লোকেরা ঠাকুমাকে নানা ভাবে ভুল বোঝাচ্ছেন। ওঁদের বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে।’’ কী উদ্দেশ্য তা খোলসা করেননি মতিলালরা। সাকিনা অবশ্য স্পষ্ট ভাবেই বলছেন, ‘‘মানবিকতার তাগিদেই যা করার করেছি। এর পিছনে অন্য কোনও কারণ নেই।’’ গোটা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ বসু।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি ‘মোদী’! জানেনই না কংগ্রেসের ভাইস-প্রিন্সিপাল প্রার্থী

সাকিনার হাত দু’টো ধরে বসেছিলেন বেলারানিদেবী। চোখে জল। পাশে দাঁড়ানো শোভা বললেন, “দাদা-বৌদির সংসারে আমাদের জায়গা হয়নি। কিন্তু সাকিনা আশ্রয় দিয়েছেন। আমরা কৃতজ্ঞ।’’ আর বেলারানি বলছেন, ‘‘সাকিনাই আমার সত্যিকারের মেয়ে।’’

Shelter Spiritual Woman
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy