Advertisement
E-Paper

নতুন আলু ওঠার পরেও কমেনি দাম

নতুন আলু ওঠার পরেও কমেনি দাম। খুচরো বাজারে এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে পনেরো টাকায়। অথচ এই সময় প্রায় প্রতি বছর আলুর দাম পাঁচ থেকে ছয় টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হয়।

নমিতেশ ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৬ ০১:৫৯

নতুন আলু ওঠার পরেও কমেনি দাম। খুচরো বাজারে এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে পনেরো টাকায়। অথচ এই সময় প্রায় প্রতি বছর আলুর দাম পাঁচ থেকে ছয় টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হয়।

এ বারে বিধানসভা ভোটের মুখে আলুর ওই বাজারে নিয়েও প্রচার শুরু করেছে শাসক-বিরোধী সব দল। কেউ দাবি করছে, এ বারে কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন। কারও অভিযোগ, ফড়েদের রমরমা সর্বত্র। কুইন্টাল কুইন্টাল আলু কিনে তা জেলা ও পাশের রাজ্যের বিভিন্ন হিমঘরে মজুত করে রাখা হচ্ছে। বাজারে কৃত্রিম ভাবে সঙ্কট তৈরি করে বাজারে দাম বাড়িয়ে রাখা হয়েছে। একটি কৃষক সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকার ন্যায্য মূল্যে আলু কিনে সাধারণ মানুষের মধ্যে তা বিক্রি করার ব্যবস্থা করুক। তা হলে কেউ সমস্যার মধ্যে পড়বে না।

আলু ধান পাট চাষি সংগ্রাম সমিতির পক্ষে ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংঠনের নেতা নৃপেন কার্জি বলেন, “আলুর দাম এ বারে অন্যবারের তুলনায় বেশি। কিন্তু সেই টাকা সব চাষির ঘরে যাচ্ছে না। ফাটকাবাজি হচ্ছে। সে জন্যই আমরা চাই সরকার ন্যায্য মূল্যে আলু কিনুক কৃষকদের কাছ থেকে। যাতে কৃষকরা লাভের মুখ দেখে, সাধারণ মানু্ষরাও সমস্যার মধ্যে না পড়েন।” ফাটকাবাজির অভিযোগ তুলেছে বামেরাও। সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মহানন্দা সাহা অভিযোগ করেন, প্রান্তিক আলু চাষিরা এ বারেও সঠিক দাম পাচ্ছেন না। ফড়েদের রমরমা রয়েছে সর্বত্র। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকার ব্যবসা খুলে বসেছে। তাঁরাই আলু কিনে মজুত করে রাখছে। তাঁরাই বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, “দুদিকে নজর রাখা দরকার। কৃষকরা যাতে দাম পান। সাধারণ মানুষও যাতে সঠিক দামে বাজার থেকে তা কিনতে পারেন। আদতে তা হচ্ছে না। এর আগে তা নিয়ে চাষি আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে।”

Advertisement

শাসক দল তৃণমূল অবশ্য দাবি করেছে, এ বারে আলুর দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক তথা কোচবিহার জেলার নেতা উদয়ন গুহ বলেন, “কৃষকরা যাতে সঠিক দাম পাচ্ছে। গ্রামের কৃষকদের অনেকের সঙ্গেই আমার কথা হয়েছে। তাঁরা এ বারে খুশি। ফাটকাবাজির অভিযোগ ঠিক নয়। মিথ্যে অভিযোগ করছে বিরোধীরা।” ব্যবসায়ীরা অবশ্য জানিয়েছেন, চাষিরা কেজি প্রতি ১০ থেকে ১১ টাকা পাচ্ছেন। কোচবিহার জেলা সব্জি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক চাঁদমোহন সাহা বলেন, “আলু বাজারে একটু ঘাটতি রয়েছে। যে জন্য চাষিরা ভাল দাম পাচ্ছে। পরে বাজার কী হবে বলা যাচ্ছে না।”

কৃষি দফতর সূত্রের খবর, কোচবিহারে এ বারে প্রায় ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। পরের দিকে যারা চাষে তাঁরা কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়লেও সার্বিক ভাবে তেমন কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে কৃষকদের পড়তে হয়। সাধারণত এক হেক্টর জমিতে ২২ থেকে ২৫ টন আলু উৎপাদন হয়। এবারে ফলন অনেকটা সে রকমই হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষি দফতরের আধিকারিকরা। সামান্য কিছু এলাকায় আলুর উৎপাদন একটু কম হয়েছে। তাতে বাজারদর বাড়ার কথা নয়। কৃষি দফতর সূত্রেই জানা গিয়েছে, কোচবিহার থেকে আলু এ বারে ভিনরাজ্যে যাচ্ছে। পাশের অসম এবং বিহারেও আলু যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কোচবিহারের হিমঘরগুলির বাইরেও পাশের রাজ্যে বিভিন্ন হিমঘরে আলু মজুত করছেন কিছু ব্যাবসায়ী। যার জন্যেই বাজারে চাহিদার তুলনায় আলু অনেকটা কম রয়েছে। তাই দাম বেড়ে গিয়েছে। কোচবিহার জেলা কৃষি দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, “আলুর উৎপাদন এ বারে ভালই রয়েছে। সে কারণে দাম বেশি হওয়ার কারণ নেই। ভিনরাজ্যে আলু যাওয়ার কারণেই দাম বাড়ছে।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy