বাঁকের মুখে একটি বেসরকারি বাস উল্টে জনা পনেরো যাত্রী জখম হলেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ মানবাজার-বান্দোয়ান রাস্তায়, মানবাজার থানার গোলকিডি গ্রামের বাঁকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ দিন গাড়িটি বান্দোয়ান থেকে মানবাজার অভিমুখে যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসের যাত্রী বোরো থানার দুর্জয়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৌরানি টুডু এবং সমতা মান্ডি নামের দুই তরুণী বলেন, ‘‘আমরা কেবিনে চালকের কাছে বসেছিলাম। বাসটাও বেশ গতিতে যাচ্ছিল। বাসের সব আসন ভর্তি ছিল। কয়েকজন দাঁড়িয়েও ছিলেন। গোলকিডি গ্রাম ঢোকার আগে একটা বাঁকের মুখে মানবাজারের দিক থেকে একটা ট্রাক আসতে দেখা যায়। ট্রাকটা পাশ কাটাতেই দেখা যায়, তার পিছনে দু’জন মোটরবাইক সওয়ারি। তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে চালক বাসটা হঠাৎ বাঁ দিকে ঘোরাতেই জমির দিকে নেমে গেল। তারপর সব কেমন ওলটপালট হয়ে গেল। আর কিছু মনে ছিল না।’’
তাঁরা জানান, পরে হুঁশ ফিরতে দেখেন, চারপাশ অন্ধকার। একে অন্যের উপরে পড়ে গিয়েছেন। অনেকে যন্ত্রণা ও আতঙ্কে চিৎকার করছিলেন। ততক্ষণে এলাকার মানুষজন দুর্ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা হাত লাগিয়ে বাসের ভিতর থেকে যাত্রীদের একে একে বের করে আনেন। মৌরানির হাতে সামান্য চোট লেগেছে। সমতা চোট পেয়েছেন বাঁ হাঁটুতে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, যাত্রীদের কারও আঘাত তেমন গুরুতর নয়। তবে দুর্ঘটনার আতঙ্কের ছাপ তাঁদের মধ্যে কাটেনি। যাত্রীরা অনেকেই দু’হাত কপালে ঠেকিয়ে বলছেন, ‘‘কী ভাবে বেঁচে গেলাম, কে জানে!’’
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, ঝোপঝাড়ে ভরা নিচু জমিতে বাসের চাকা উপরের দিকে উঠে রয়েছে। উদ্ধার কাজে তদারকিতে থাকা মানবাজার থানার সিআই সুবীর কর্মকার পুলিশ কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন গাড়ির ভিতরে কেউ আছে কি না ভাল করে দেখে নিতে । বাসের নীচে কেউ চাপা পড়ে রয়েছেন কি না তা নিয়ে সংশয় ছিলই। দুপুরের পর পুরুলিয়া থেকে ক্রেন নিয়ে এসে বাসটি তোলা হয়।