এ রাজ্যে অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট করানোর জন্য একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেগুলির অন্যতম প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিং বাধ্যতামূলক করা। কৃত্রিম মেধা বা এআই প্রযুক্তি নির্ভর ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েবক্যাম দিয়েই চলবে প্রতিটি বুথে নজরদারি। প্রথম দফায় ২৩ তারিখ ভোট বীরভূমে। বুথে বুথে ক্যামেরা লাগানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ৩০৭৬টি বুথ এবং ১২০০-র বেশি ভোটার আছে এমন ১৮০টি অতিরিক্ত বুথ মিলিয়ে মোট ৩২৫৬টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা বুথ থাকছে। কমিশন আগেই জানিয়েছে, ওয়েব কাস্টিংয়ের জন্য প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরবে, এমন ক্যামেরা লাগানো হবে। প্রতিটি বুথে এমন দু’টি করে ক্যামেরা বসানো হবে। বুথের ভিতরে যেমন ক্যামেরা বসবে, তেমনই বসবে বুথের বাইরেও ক্যামেরা থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী, কোনও বুথে তিনটি ক্যামেরাও লাগানো হতে পারে।
জেলায় ইতিমধ্যেই ১৪০০-র বেশি বুথকে স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, দুটি করে ক্যামেরা থাকছেই। তবে কোনও স্পর্শকাতর বুথে অতিরিক্ত ক্যামেরা লাগানো হবে সেটা যে সংখ্যক ক্যামেরা প্রয়োজন এবং কমিশনের উপরে নির্ভর করছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার প্রত্যন্ত এলাকার বুথগুলিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে চিন্তা ছিল। কারণ ওয়েব কাস্টিং কোনও ভাবেই জোরাল ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া সম্ভব নয়। ফলে যে এলাকায় নেটওয়ার্কের সমস্যা ছিল, মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারদের নির্দেশ দিয়ে সেটা যথাযথ করিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কয়েকটি ধাপে নজরদারি চালানো হবে ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে। প্রথম ধাপে রিটার্নিং অফিসার, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, তারপরে সিইও এবং দিল্লির নির্বাচন সদন থেকেও চলবে নজরদারি। ওয়েব কাস্টিংয়ের উপর নজরদারির জন্য নির্দিষ্ট ভাবে একটি দলও কাজ করবে। যাতে কোনও বিচ্যুতি ধরা পড়লে ব্যবস্থা নিতে পারে নির্বাচন কমিশন।
ভোটের দিনে কোনও বুথে ওয়েবক্যাম অল্প সময়ের জন্যও নিষ্ক্রিয় থাকলে, সেখানে কোনও অনিয়মের অভিযোগ না থাকলেও পুনর্নির্বাচন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুথের মধ্যে এবং বুথের বাইরে নজরদারিতে সহায়ক হবে এআই প্রযুক্তিযু্ক্ত ওয়েবক্যামগুলি। তবে বুথে ওয়েবক্যাম লাগানোর আগে, বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে নজরদারির কাজ শুরু করেছে ফ্লাইং স্কোয়াডের গাড়ি। ওই গাড়িতে লাগানো হয়েছে কৃত্রিম মেধা যুক্ত ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)