মঙ্গলবার হাতির হানায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের হরিচরণডাঙ্গা গ্রামে হাতির হানায় মৃত্যু হল এক তরুণীর। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম মামনি ঘোড়ুই (২৪)। হাতির হানায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নের মুখে বন দফতরের ভূমিকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে শৌচকর্ম করতে বার হন মামনি ঘোড়ুই। সে সময় ঘরের দরজার কাছেই দাঁড়িয়েছিল চারটি হাতি। দু’টি হাতি মামনিকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে বেশ কিছুটা নিয়ে যায়। পরে তাঁকে মাটিতে আছাড় মেরে পায়ে পিষে দেয়। মামনির কান্নার শব্দ পেয়ে গ্রামবাসীরা বেরিয়ে এলে হাতিগুলি জঙ্গলের দিকে চলে যায়। এর পর ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় মামনিকে উদ্ধার করে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মৃতার বাড়িতে যান বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়। পরে তিনি বলেন, ‘‘একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বন দফতরের কাছে আমাদের আবেদন, অনেক দিন হল বড়জোড়ায় হাতির দল রয়েছে। এ বার হাতির দলটিকে অন্যত্র সরানো হোক।’’ বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ‘‘যে এলাকায় হাতি আছে, সেই এলাকা থেকে হাতি যাতে লোকালয়ে যেতে না পারে সে জন্য বিদ্যুতের বেড়া দেওয়া আছে। বিদ্যুতের বেড়া ভেঙেও হাতি যাতে লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আমরা বিদ্যুতের বেড়ার ধারে ধারে হুলা পার্টি মোতায়েন করে রেখেছি। এর পর থেকে আমরা তৃতীয় সুরক্ষা বলয় হিসাবে যে গ্রামগুলিতে হাতির হানার আশঙ্কা থাকছে, সেখানে আগে থেকেই হুলা পার্টি মোতায়েন রাখব। এর পাশাপাশি সরকারি নিয়ম মেনে মৃতার পরিবারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।’’