E-Paper

মন্ত্রী ‘কাঠের পুতুল’, খোঁচা আদিবাসী নেতার

এমন বহু আদিবাসী গ্রাম আছে যেখানে রাস্তা নেই। মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও মানবাজারে বাস স্ট্যান্ডে যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের পুনর্নির্মাণ করতে পারেননি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:০৫
সন্ধ্যারানি টুডু।

সন্ধ্যারানি টুডু। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী তথা মানবাজারের বিধায়ক সন্ধ্যারানি টুডুকে ‘কাঠের পুতুল’ বলে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করলেন আদিবাসী সংগঠনমসূহের মঞ্চ ‘ইউনাটেড ফোরাম অব অল আদিবাসী অর্গানাইজেশনস’-এর আহ্বায়ক রতনলাল হাঁসদা।

মন্ত্রী আদিবাসী সংগঠনের স্মারকলিপি নিতে অস্বীকার করেছেন, এই অভিযোগে গত ২০ ডিসেম্বর সংগঠনের তরফে মানবাজারে মিছিল ও সমাবেশ করে ওই সংগঠন। অভিযোগ অস্বীকার করে মন্ত্রী সে দিনই পাল্টা দাবি করেছিলেন, ‘‘এসডিও অফিসে স্মারকলিপি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলাম। ওঁরা মিথ্যা কথা বলছেন। সংগঠনের নেতাদের একাংশ আমার ভাবমূর্তি খারাপ করতে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’’ এই চাপান-উতোরের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে রতনলাল সন্ধ্যারানিকে ‘কাঠের পুতুল’ বলে কটাক্ষ করেন।

রবিবার রতনলাল বলেন, ‘‘৪৬টি আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীর কাছে কিছু দাবি জানানোর কথা ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি ছিল না। উনি নিজেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে উঠে এসে মন্ত্রী হয়েছেন। আমাদের কথা কাকে জানাব? সে কারণেই ওঁকে স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি আমাদের উপেক্ষা করেছেন।’’

কেন মন্ত্রীকে ‘কাঠের পুতুল’ মনে করেন? রতনলালের ব্যাখ্যা, ‘‘আমরা তিন বার ওঁকে বিধায়ক নির্বাচিত করেছি। কিন্তু এখনও উনি নিজে কিছু বলতে পারেন না। কেউ তাঁকে লিখে দিলে সেটা পড়ে শোনান। তাঁকে কাঠের পুতুল ছাড়া আর কী বলব? উনি গ্রামে নিজের বাড়িকে রাজপ্রাসাদ বানিয়েছেন। স্মারকলিপি নিতে না চাওয়ার অভিযোগকে ঢাকা দিতে সমাজমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে একের পর এক মিথ্যা কথা বলে চলছেন।’’ আদিবাসী সংগঠনের ওই নেতার প্রশ্ন, ‘‘এলাকার কী উন্নতি করেছেন মন্ত্রী? এমন বহু আদিবাসী গ্রাম আছে যেখানে রাস্তা নেই। মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও মানবাজারে বাস স্ট্যান্ডে যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের পুনর্নির্মাণ করতে পারেননি। ইন্দকুড়ির বাইপাস সংস্কার করতে পারেননি। মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালের বেহাল দশা ঘোচাতে পারেননি। আসলে উন্নয়নের কোনও সদিচ্ছা ওঁর নেই।’’ এর পরেই কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে রতনলাল বলেন, ‘‘মন্ত্রিত্ব চিরকাল থাকে না। আদিবাসীদের উপেক্ষার জবাব এক দিন আদিবাসীরাই দেবেন।’’

রতনলালের তোলা অভিযোগগুলি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হয়েছিল মন্ত্রীকে। কিন্তু তা বেজে গিয়েছে। তবে অভিযোগগুলি শোনার পরে তাঁর স্বামী, তৃণমূল নেতা গুরুপদ টুডু বলেন ‘‘এগুলির জবাব দেব না।’’ যদিও মন্ত্রীর অনুগামী বলে পরিচিত এক প্রভাবশালী জেলা তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‘দল ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এর উত্তর মন্ত্রী-ই দেবেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy