E-Paper

‘সাঁওতাল কাটা’ পুকুরে পর্যটনকেন্দ্রের দাবি

সিউড়ি থেকে আমজোড়া হয়ে ম্যাসেঞ্জর জলাধার যাওয়ার রাস্তায় ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার দিগুলি গ্রামে রয়েছে জলাশয়টি।

শুভদীপ পাল 

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৮:৩১
সাঁওতাল কাটা পুকুর ও মাঠ। ঝাড়খণ্ডের দিগুলি গ্রামে।

সাঁওতাল কাটা পুকুর ও মাঠ। ঝাড়খণ্ডের দিগুলি গ্রামে। ফাইল চিত্র।

জেলা জুড়ে পালিত হল হুল দিবস। কিন্তু জেলা সদর সিউড়ি থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার হুল বিদ্রোহ দমনে ইংরেজদের অত্যাচারের সাক্ষী ‘সাঁওতাল কাটা’ কিছুটা হলেও বিস্মরণেই থেকে গেল। যদিও পুকুরটি ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলায় অবস্থিত। ওখানে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সরকারকে মিলিত ভাবে পর্যটনকেন্দ্র তৈরির দাবি তুলেছে আদিবাসী সংগঠনগুলি। এ নিয়ে চেষ্টা করেও দুমকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

সিউড়ি থেকে আমজোড়া হয়ে ম্যাসেঞ্জর জলাধার যাওয়ার রাস্তায় ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার দিগুলি গ্রামে রয়েছে জলাশয়টি। ইতিহাসবিদদের জানান, ১৮৫৫ সালে সিধু ও কানহোর নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয়। ওই বছরের ৩০ জুন সিধু-কানহোর ডাকে ভগনাডিহির সমাবেশ শেষে হাজার হাজার সাঁওতাল কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে বহু সাঁওতাল ও জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ বীরভূমে আসছিলেন। পথে পড়ে ময়ূরাক্ষী নদী। বিদ্রোহীরা রানিশ্বরে ময়ূরাক্ষীর আমজোড়া ঘাটে জড়ো হন। বর্ষার ভরা ময়ূরাক্ষী সাঁতার কেটে পার হতে গিয়ে ব্রিটিশ ফৌজের মুখোমুখি হন তাঁরা।

সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক অমিয় ঘোষ জানান, সে সময়ে ব্রিটিশ সেনা বাংলার নবাবের সাহায্য নেন। এক দিকে, মুর্শিদাবাদের নবাবের হস্তীবাহিনী, অন্য দিকে, বিট্রিশ সেনার আধুনিক বন্দুক, কামানের মুখে পড়তে হয় তির-ধনুক হাতে বিদ্রোহীদের। অনেক বিদ্রোহী নিহত হন। নিহতদের দেহ নদী সংলগ্ন জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

অমিয়ের কথায়, "কথিত আছে, ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে পুকুরে মৃতদেহগুলি ভেসে উঠেছিল। চার দিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই পুকুরের ধারে মাঠেই যুদ্ধ হয়েছিল। সেটি ‘সাঁওতাল কাটা মাঠ’ নামে পরিচিত।" পরে এই পুকুরটি ‘সাঁওতাল কাটা পুকুর’ নামে পরিচিত হয়।

স্থানীয়েরা জানান, বর্তমানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর হুল দিবসে এই পুকুর পাড়ে জমায়েত হয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। অমিয় বলেন, "ওখানে কেবল সাঁওতাল নয়, পাহাড়িয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদেরও প্রাণ গিয়েছিল। সকলের নাম এখনও জানা যায়নি। সেগুলি জানা দরকার।"

দিশম আদিবাসী গাঁওতার রবীন সরেন বলেন, "ওটি ঐতিহাসিক জায়গা। ওখানে ঝাড়খণ্ড সরকার কিছু কাজ করেছে। ওটা সীমানা এলাকা। তাই বাংলা ও ঝাড়খণ্ড সরকার মিলিত ভাবে ওখানে ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র করে তুলুক।’’ যদিও এ নিয়ে চেষ্টা করেও দুমকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Adivasis

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy