Advertisement
E-Paper

ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ, বাস ভাঙচুর, ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক

বাসে উঠতে গেলে তাঁদের মারধর করে নামিয়ে দিয়েছে বাসের কর্মীরা— পড়ুয়াদের এই অভিযোগে বুধবার বিকালে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল সিউড়ি রামকৃষ্ণ শিল্প বিদ্যাপীঠ বা সরকারি পলিটেকনিক কলেজের সামনে রানিগঞ্জ-মোরগ্রাম ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৭ ০১:২৪
ঘটনাস্থলে: সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডে হাজির পুলিশ। নিজস্ব চিত্র

ঘটনাস্থলে: সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডে হাজির পুলিশ। নিজস্ব চিত্র

বাসে উঠতে গেলে তাঁদের মারধর করে নামিয়ে দিয়েছে বাসের কর্মীরা— পড়ুয়াদের এই অভিযোগে বুধবার বিকালে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল সিউড়ি রামকৃষ্ণ শিল্প বিদ্যাপীঠ বা সরকারি পলিটেকনিক কলেজের সামনে রানিগঞ্জ-মোরগ্রাম ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে।

কেন হেনস্থা করা হল তাঁদের, তারই প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। চলে ঘন্টা দু’য়েকেরও বেশি জাতীয় সড়ক অবরোধ। পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পড়ুয়াদের আশ্বস্ত করলে অবরোধ উঠে যায়। কিন্তু এ দিন বিকালে ফের অশান্তি ছাড়ায় দু’পক্ষের মধ্য। শুরু হয়ে রাস্তা অবরোধ। বাসমালিক সমিতির অভিযোগ, ফের পড়ুয়ারা মারধর করা জন্য এসেছিল বাসস্ট্যান্ডে। তাঁরা সেটা আটকেছেন। অন্যদিকে পড়ুয়াদের দাবি, বিকালে তাঁরা কলেজের পোশাকে থাকায় তাঁদের ১০ জনকে আটকে হেনস্থা করে বাসমালিক সমিতির লোকেরা। পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতির সামাল দেয়।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে খবর, এ দিন কলেজের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা ছিল দুটি হাফে। বিবাদের সূত্রপাত বেলা একটা নাগাদ। যখন প্রথম বর্ষের বিভিন্ন বিভাগের ওই কলেজের জনা কুড়ি পড়ুয়া সিউড়ি বাসস্ট্যাণ্ড থেকে বাসে উঠে কলেজ যাব বলে। পড়ুয়াদের দাবি, ‘‘বাসে উঠতেই চালক-খালাসি বলে ভেতরে চাপা যাবে না ছাদে যাও। খারাপ আবহাওয়ায় কেন ছাদে যেতে হবে এই নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ভাড়া নিয়েও জোর বচসা বাধে। জোর করে তখন নামিয়ে দেয়।’’

পড়ুয়ারা জানায়, এতদিন তারা সিউড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে কলেজ যেতে ২ টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছে। এ দিন সেই টাকা নিতে চায়নি। প্রথম বর্ষের মেকানিক্যালের পড়ুয়া তাপস পাল ও সৌমজিত দত্তদের অভিযোগ, ‘‘বচসার মাঝেই বাসের কর্মীরা লোকজন জুটিয়ে আমাদের লাঠি দিয়ে মারধর করে। এবং বাস থেকে নামিয়ে দেয়।’’ যদিও বাস-কর্মচারীদের দাবি, রামপুরহাটগামী ওই বাসটি কখন কলেজের ঠিক পাশ দিয়ে যাবে সেই অপেক্ষায় ছিল ছাত্ররা। বাস পৌঁছতেই হামলা হয়। শুরু হয় অবরোধ।

এ দিন তৃণমূল প্রভাবিত বাস মালিক সমিতির জেলা সম্পাদক শুভাশিস মুখোপাধ্যায় ও সম্পাদক তণ্ময় পৈতণ্ডীদের দাবি, ‘‘কলেজ ছাত্রদের মারধর করার অভিযোগ ঠিক নয়, আসলে দূরপাল্লার বাসে আগে থেকে টিকিটি বুকিং চলে। সেটা না শুনে ওরা বাসে উঠে সিট দখল করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু ছাত্রেরা ঝামেলা শুরু করলে সেটা প্রতিহত করা হয়েছিল। কিন্তু এর পর পরই বাসটিতে যে ভাবে ভাঙচুর চালানো হয়েছে তা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। কর্মীদের নিরাপত্তা না থাকলে বাস চালাব কী ভাবে।’’

প্রায় একই সুর সিউড়ি শহর তৃণমূলের সভাপতি অভিজিৎ মজুমদারের। তিনি বলছেন, বাসের তরফে অন্যায় হয়ে থাকলে সেটা জানানোর অন্য উপায় ছিল। কিছুতেই অবরোধ করা বা ভাঙচুরকে সমর্থন করা যাবে না। পুলিশকে বলেছি ব্যবস্থা নিতে। তবে ঝামেলা আর যাতে না বাড়ে সেই চেষ্টা হচ্ছে।

কলেজের ছাত্র সংসদের জিএস অরিজিৎ বৈদ্য অবশ্য বলেন, ‘‘আমাদের কোনও অভিপ্রায় ছিল না বাস ভাঙচুরের। এতগুলো ছেলের সঙ্গে ওঁরা যে অন্যায় ব্যবহার করেছেন, কলেজের সামনে বাস দাঁড় করিয়ে সেটাই শুধু জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাসের চালক খালাসি পালিয়ে গেলে উপস্থিত পড়ুয়ারা উত্তেজিত হয়ে বাস ভাঙচুর করে। জাতীয় সড়ক অবরোধ হয়েছে সমাধান সূত্র খুঁজতেই।’’ তাঁর দাবি, ‘‘কলেজের পোশাক পরিহিত পড়ুয়াদের সঙ্গে বিকালে বাসমালিক ইউনিয়ন ও কর্মীরা ঝামেলা করেছেন।’’ সন্ধেয় উভয়পক্ষ পুলিশের কাছে যায়। কলেজের অধ্যক্ষ মনীন্দ্র পাত্র বলেন, ‘‘বাস ভাঙচুর করা পড়ুয়াদের ঠিক হয়নি। তবে আমি চাইব এর জেরে পড়ুয়াদের ছাত্রজীবনে কোনও ক্ষতি না হয়। অনেকেই খুব কষ্টে লেখাপড়া করেছে। একটা সুষ্ঠ সমাধান প্রযোজন।’’ জেলা পুলিশের এক কর্তা বলছেন, পড়ুয়ারা ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলেই বিষয়টিকে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

Rental dissatisfaction Bus vandalism
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy