Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৫ অক্টোবর ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

মা-হারা শিশু হনুমান কাঁদাল কীর্ণাহারকে

বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই মা হনুমানের মৃত্যু হয়। তার পরেই বিপাকে পড়েন গ্রামের মানুষ। প্রথা অনুসারে সৎকারের (সমাধির) আয়োজন করতেই বাচ্চাটি বাঁশের

নিজস্ব সংবাদদাতা
কীর্ণাহার ০৬ এপ্রিল ২০১৮ ০০:৫৫
Save
Something isn't right! Please refresh.
হনুমানকে ঘিরে গ্রামবাসী। ছবি: কল্যাণ আচার্য

হনুমানকে ঘিরে গ্রামবাসী। ছবি: কল্যাণ আচার্য

Popup Close

মায়ের দেহ আঁকড়ে মানবশিশুকে কাঁদতে দেখেছেন অনেকেই। কিন্তু, মানুষের মতোই মায়ের দেহ আঁকড়ে এক হনুমান শাবককে কাঁদতে দেখে আর নিজেদের ধরে রাখতে পারলেন না কীর্ণাহার সংলগ্ন পরোটার গৃহবধূ সীমা ঘোষ, রিয়া ঘোষ, কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন পঁচিশেক আগে পরোটা মণ্ডলপাড়ার একটি বাঁশবাগানে আশ্রয় নেয় একদল হনুমান। দলে একটি সদ্যোজাত হনুমানও ছিল। কোনও ভাবে শিশুটি বাঁশঝাড়ের মাঝে আটকে যায়। গ্রামবাসীর দাবি, সেই গাফিলতির দায়ে বাকি হনুমানেরা নাকি বাচ্চাটির মাকে খুব মারধর করে। তার পরে দলটি মা এবং শিশুটিকে ফেলে পালায়। এ দিকে, মারধরে জখম মা হনুমানটি ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাকে না পেয়ে বাঁশ ঝাড়ে আটকে থাকা শিশুটিও চিল চিৎকার শুরু করে দেয়। বিষয়টি নজরে পড়ে স্থানীয় গৃহবধূ সীমা ঘোষের। তিনিই গ্রামবাসীকে গোটা ঘটনা জানান। শিশু এবং মাকে উদ্ধার করে রাখা হয় গ্রামেরই কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে। হনুমানটির চিকিৎসাও করানো হয়। বাচ্চাটির জন্য নিয়মিত দুধের জোগান দেন রিয়া ঘোষ। শিশু-সহ মা যেন অতিথি হয়ে উঠেছিল গ্রামের। গ্রামের মানুষ পালাক্রমে তাদের পরিচর্যাও করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই মা হনুমানের মৃত্যু হয়। তার পরেই বিপাকে পড়েন গ্রামের মানুষ। প্রথা অনুসারে সৎকারের (সমাধির) আয়োজন করতেই বাচ্চাটি বাঁশের খাটে চেপে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে। তার চোখ দিয়েও নাকি জল গড়িয়ে পড়ে। শিশুটিকে কাঁদতে দেখে চোখ ভিজিয়ে ফেলেন নয়না দে, অদিতি ঘোষ, কৃষ্ণা চক্রবর্তীরা। তাঁরা বলছেন, ‘‘মায়ের দেহ জড়িয়ে মানবশিশুকে কাঁদতে দেখেছি। হনুমানের বাচ্চাটাও মাকে হারিয়ে নিজে কেঁদে আমাদেরও কাঁদিয়ে দিল।’’

Advertisement

তন্ময় নন্দ, অজিত দে, কিশোর ঘোষেরা জানান, সমাধি দেওয়ার সময় বাচ্চাটা কিছুতেই তার মায়ের গলা ছাড়তে চাইছিল না। জোর করে সরিয়ে নিয়ে আসতে হয়েছে। দেখে আমরাও কেঁদে ফেলি। বাচ্চাটিকে বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement