Advertisement
E-Paper

‘ফর্ম-৭’ বোঝাই গাড়ি আটককাণ্ড: ধৃত বিজেপির ৩ কর্মীর জামিন মঞ্জুর, মালা গলায় আদালত চত্বর থেকেই মিছিল

মঙ্গলবার দুপুরে বাঁকুড়ায় হাজার তিনেক ‘ফর্ম-৭’ বোঝাই গাড়ি আটক করেন তৃণমূলের কয়েক জন কর্মী। মুখ্যমন্ত্রী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছিলেন। এর পর বিজেপির তিন কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:১১
Form-7 Row in Bankura

গলায় মালা পরিয়ে জামিনে ছাড়া পাওয়া কর্মীদের নিয়ে মিছিল বিজেপির। —নিজস্ব ছবি।

ফর্ম-৭’ বোঝাই গাড়ি আটকের পর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন বিজেপির তিন কর্মী। বুধবার ধৃতদের বাঁকুড়ার খাতড়া মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। তিন জনেরই জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। খাতড়াকাণ্ডে বিজেপির অভিযোগ, রাজ্য সরকার এবং পুলিশ স্রেফ হয়রানি করার জন্য তাদের কর্মীদের ফাঁসিয়েছে। পাল্টা তৃণমূলের কটাক্ষ, জামিন দেওয়া হয়েছে মানেই অভিযুক্তেরা নির্দোষ, এমনটা যেন কেউ না ‌ভাবেন। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর অব্যাহত।

মঙ্গলবার খাতড়ার সিনেমা রোড এলাকায় ‘ফর্ম-৭’ বোঝাই একটি গাড়িকে আটকান তৃণমূল কর্মীরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছিল বিজেপি। পরে গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করার সঙ্গে সঙ্গে দুই বিজেপি কর্মীকে আটক করে খাতড়া থানার পুলিশ।

ওই গাড়িতে ছিলেন তালড্যাংরা থানার বিবড়দা গ্রামের বাসিন্দা প্রবীর ঘোষ। তিনিই সাদা রঙের গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। গাড়িতে বসেছিলেন বিজেপি কর্মী প্রবীর ঘোষ এবং সিমলাপাল ব্লকের বিক্রমপুর গ্রামের বাসিন্দা, বিজেপি নেতা শরদিন্দু পাত্র। বিজেপির দু’জনকেই পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার রাতে সিমলাপাল এলাকার বিজেপি নেতা দুঃখরঞ্জন সৎপতিকে গ্রেফতার করা হয। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৩১৮(২), ৩১৯ (২), ৩৩৬(২), ৩৩৮, ৩৩৯,৩৪০(২) এবং ৬১(২) নম্বর ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। এর মধ্যে ৩৩৮ নম্বর ধারা জামিন অযোগ্য।

আদালত সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, বেআইনি ভাবে সরকারি নথি নিয়ে যাওয়া, সরকারি নথি জালিয়াতি ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় নথি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার ধৃতদের অবশ্য জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। তিন জনকে ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তাঁদের নিয়ে খাতড়া মহকুমা আদালত চত্বরে মিছিল করে বিজেপি। জামিনে মুক্ত বিজেপি কর্মী শরদিন্দুর দাবি, ‘‘এসআইআরের ‘ফর্ম-৭’ আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দেওয়ার সময়সীমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই মঙ্গলবার নিয়ম মেনে আমরা কয়েক জন বিজেপি কর্মী খাতড়া মহকুমাশাসকের দফতরে এইআরও-র কাছে ওই ফর্ম জমা করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু রাস্তায় আমাদের উপর হামলা চালায় তৃণমূলের জনা চল্লিশ দুষ্কৃতী। আমাদের শারিরীক ভাবে হেনস্থা করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আদালত বিষয়টি বুঝেছে। আমরা খুশি।’’

যদিও জামিন মেলার পরেও তৃণমূল-বিজেপির তরজা শেষ হচ্ছে না। ভোটার তালিকায় কোনও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করা বা মৃত বা স্থানান্তর হওয়া ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে ব্যবহৃত হয় ‘ফর্ম-৭’। সেগুলো গাড়িতে বহন করার ‘অপরাধে’ দলীয় কর্মীদের গ্রেফতারিতে ফুঁসছে বিজেপি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, ‘‘তৃণমূল ও পুলিশ প্রশাসন পরিকল্পিত ভাবে বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল। সম্পূর্ণ ভাবে রাজনৈতিক উদ্যেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা। আদালত তা বুঝতে পেরে ৩ জনের জামিন মঞ্জুর করেছে।’’ তিনি জানান, বাজেয়াপ্ত করে রাখা ‘ফর্ম-৭’-সহ গাড়িটি যাতে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, সে জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরুপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আদালতে জামিন হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাঁরা নির্দোষ। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। কে বা কারা ‘ফর্ম-৭’ পূরণ করে জমা দেওয়ার চেষ্টা করছিল তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। তারপর এর বিচার হবে।’’

Form 7 SIR West Bengal SIR TMC BJP bankura
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy