E-Paper

সদরে প্রার্থী কে, চর্চা পদ্ম এবং ঘাসফুলে

সিউড়ি কেন্দ্রে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘিরে আলোচনা রয়েছেই। জগন্নাথ গত বারও প্রার্থী ছিলেন এখানে।

সৌরভ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নির্বাচন ঘোষণার আগেই সিউড়ি বিধানসভা আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। শাসক দল ও প্রধান বিরোধী শিবির, দু’পক্ষেই সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

২০১১ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস একই প্রার্থীকে টানা দু’বার টিকিট দেয়নি সিউড়িতে। ২০১১ সালে স্বপনকান্তি ঘোষ, ২০১৬ সালে অশোক চট্টোপাধ্যায় (বর্তমানে হাঁসনের বিধায়ক) এবং ২০২১ সালে বিকাশ রায়চৌধুরী প্রার্থী হন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০২৬-এ কি নতুন মুখ, জল্পনা রয়েছে দলের অন্দরে। সমাজমাধ্যমে বর্তমান বিধায়ক বিকাশ ও পুরপ্রধান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে মতামত নেওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। বিকাশ ও উজ্জ্বলের ছবি দিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মানুষ কাকে সিউড়ির বিধায়ক হিসেবে দেখতে চান। অনেকে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। আলোচনায় উঠে এসেছে ‘ভূমিপুত্র’ প্রসঙ্গ।

ওই দু’জনের পাশাপাশি সিউড়ি ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি নুরুল ইসলাম ও জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়ের নাম নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। তবে নুরুল ও মলয় এই জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, কিছু উৎসাহী সমর্থক সমাজমাধ্যমে নানা প্রচার চালালেও প্রার্থী ঠিক করবেন উচ্চ নেতৃত্ব। যাঁকে টিকিট দেওয়া হবে, তাঁকেই জেতাতে একযোগে কাজ করবেন সকলে।

অন্য দিকে, সিউড়ি কেন্দ্রে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘিরে আলোচনা রয়েছেই। জগন্নাথ গত বারও প্রার্থী ছিলেন এখানে। বিজেপি সূত্রের খবর, এ বার প্রার্থী হওয়ার আবেদন করেছেন দলের নেতা কালোসোনা মণ্ডল। ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত জেলায় বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কালোসোনা। পরে জেলা নেতৃত্বে পরিবর্তনের পরে তাঁর ঘনিষ্ঠদের সংগঠনের বিভিন্ন পদ থেকে সরানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ২০২০ সালে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কালোসোনাকে বহিষ্কার করা হয়। প্রায় দেড় বছর পরে দলে ফেরেন। তবে, প্রত্যাবর্তনের পর থেকে দলীয় কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়েনি বলেই বিজেপি সূত্রের দাবি।

কালোসোনার দাবি, দলের পুরনো কর্মীদের অনুরোধেই তিনি সিউড়ির প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘দলের নিয়ম মেনে যেখানে যেখানে জানানোর, জানিয়েছি৷ ২০২১-এর নির্বাচনের পরে দলের কর্মীরা নেতাদের চেয়েও পায়নি। সেই পালিয়ে যাওয়া নেতাদের পরিবর্তে পুরনো নেতাদেরই প্রার্থী হিসাবে চাইছেন কর্মীদের বড় অংশ। বাকিটা দলের সিদ্ধান্ত।’’

তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই ঘটনায় প্রমাণিত সিউড়িতে আদি ও নব্য বিজেপির দ্বন্দ্ব রয়েছে।” বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি একটা গণতান্ত্রিক দল। এখানে প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার আছে। কেউ প্রার্থী হতে চাইতেই পারেন৷ তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Suri TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy