Advertisement
E-Paper

নিপার আতঙ্ক চিড় ধরাতে পারেনি মানুষ-বাদুড় সম্পর্কে! ‘প্রতিবেশী’কে তাড়াতে নারাজ বাঁকুড়াবাসী, সতর্কতা স্বাস্থ্য দফতরের

ওন্দা ব্লকের মাজডিহা গ্রামকে বাদুড়ের স্বর্গরাজ্য বললে কম বলা হবে। এই গ্রামের গাছে গাছে হাজার হাজার বাদুড়ের বাস। বছরের পর বছর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাশাপাশি থাকতে থাকতে এই গ্রামের মানুষজন মনে করেন, বাদুড়েরা তাদের প্রতিবেশী।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:১০
Bats in Bankura

বাঁকুড়ার মাজডিহা গ্রাম। গাছে গাছে এ ভাবেই থাকে হাজার হাজার বাদুড়। —নিজস্ব ছবি।

রাজ্যে নতুন আতঙ্কের নাম নিপা ভাইরাস। সতর্ক থাকার জন্য গুচ্ছ নির্দেশিকা দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। বাদুড় সম্পর্কে বিভিন্ন জায়গায় ভীতি দেখা দিচ্ছে। এমনকি, ঝপ করে খেজুর রসের দাম কমে গিয়েছে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে। তবে বাঁকুড়ার ওন্দায় সে সবের বালাই নেই। তাঁরা আছেন আগের মতোই। স্থানীয়দের মধ্যে বাদুড়কে নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। আতঙ্কও নেই। যা দেখেশুনে স্বাস্থ্য দফতরের পর্যবেক্ষণ, ‘সম্পর্ক’ আগের মতোই থাকুক। সেই সঙ্গে সতর্ক থাকাও জরুরি।

ওন্দা ব্লকের মাজডিহা গ্রামকে বাদুড়ের স্বর্গরাজ্য বললে কম বলা হবে। এই গ্রামের গাছে গাছে হাজার হাজার বাদুড়ের বাস। বছরের পর বছর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাশাপাশি থাকতে থাকতে এই গ্রামের মানুষজন মনে করেন, বাদুড়েরা তাদের প্রতিবেশী। গৃহপালিত না হয়েও এই স্তন্যপায়ীরা গৃহজীবীও বটে। বাদুড় বাহিত নিপা সংক্রমণ সংক্রান্ত তথ্য গ্রামের মানুষের অজানা নয়। কিন্তু এতে ভয়ের কিছু দেখছেন না তাঁরা।

বাঁকুড়ার মাজডিহা গ্রামে বাদুড় না কি মানুষ, কারা আগে বসবাস করতে শুরু করেছিল তা নিয়ে এখানে চায়ের দোকানে, মোড়ে তর্ক চলে। একটি বিষয়ে তাঁরা সকলে একমত, বাদুড়ের দল তাঁদের গ্রামেরই বাসিন্দা। তাদের রক্ষা করতেই হবে। বছরের পর বছর চোরাশিকারীদের হাত থেকে বাদুড়দের রক্ষা করে এসেছে এই গ্রাম। বাদুড় নিধন তো দূরের কথা, আশপাশের প্রতিবেশী গ্রাম থেকে কেউ বাদুড়কে সামান্য ‘বিরক্ত’ করতে গেলেও বাধা দেন মাজডিহার মানুষ। তাই মাজডিহা বাদুড়দের নিরাপদ আশ্রয়।

সম্প্রতি নিপা ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ মেলার পর সংক্রমণ এড়াতে বাদুড়ের দেহরস থেকে দূরে থাকার কথা বলছেন চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীরা। সে কথা মেনে চলছেন মাজডিহাবাসীরা। কিন্তু নিপার আতঙ্কে কয়েকশো বছরের সম্পর্কে ছেদ ঘটাতে নারাজ তাঁরা। সোমা ঘোষ নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘বছরের পর বছর আমরা একসঙ্গে বসবাস করছি। কখনও কোনও সমস্যা হয়নি। আমরা বাদুড়দের কোনও রকম ক্ষতি যেমন বরদাস্ত করি না, তেমনই বাদুড়ও আমাদের গ্রামের কোনও ক্ষতি করে না।’’এমনই বিশ্বাসে সোমা জোর দিয়ে আরও বলেন, ‘‘আজ নিপার সংক্রমণের ভয়ে আমরা ওদের তাড়িয়ে দিতেই পারি। কিন্তু ওরা যাবে কোথায়?’’ প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি তা-ই। তিনি বলেন, " বাদুড়ের দেহরস থেকে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে বলে শুনেছি। কিন্তু আমরা ভয় পাই না। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে আমরা যেমন তাঁকে তাড়িয়ে দিই না, তেমনই নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে আমাদের গ্রামেরই বাসিন্দা বাদুড়গুলিকে তাড়িয়ে দিতে পারি না।’’

কিন্তু মানুষ-বাদুর সম্পর্ক যতই নিবিড় হোক না কেন স্বাস্থ্য দফতর বলছে, সাবধানের মার নেই। তারা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। বাঁকুড়া স্বাস্থ্য জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সজল বিশ্বাসের মন্তব্য, ‘‘বাদুড় নিপা ভাইরাসের বাহক। বাদুড়ের দেহরসের মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। তাই এই সময় বাদুড়ের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভাল। মাজডিহা গ্রামে যেহেতু হাজার হাজার বাদুড়ের বাস, তাই সেই গ্রামের মানুষকে এই সময় আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’’

Nipah virus Bats bankura
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy