Advertisement
E-Paper

TMC-BJP: সাহায্য নিয়ে বিভীষণের বাড়িতে হাজির বিজেপি-র বিধায়ক, কটাক্ষ তৃণমূলের

মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে থাকা বিভীষণের স্বপ্নভঙ্গের কথা তুলে ধরেছিল আনন্দবাজার অনলাইন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০২১ ২৩:০৯
বিভীষণ হাঁসদার বাড়িতে বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক।

বিভীষণ হাঁসদার বাড়িতে বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক।

রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতর ও স্থানীয় ব্লক প্রশাসন আগেই বিভীষণ হাঁসদার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিল অসুস্থ মেয়ের ওষুধপত্র । এ বার বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক সাহায্য নিয়ে হাজির হলেন বিভীষণের বাড়িতে । শনিবার সকালে বাঁকুড়ার বিধায়ক নিলাদ্রীশেখর দানা বিভীষণের চতুরডিহি গ্রামের বাড়িতে হাজির হয়ে তুলে দিলেন জামা, কাপড় ও কম্বল। প্রতিশ্রুতি দিলেন দ্রুত দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে মেয়ে রচনার চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও। আর এ সবের মধ্যেই শনিবার বাঁকুড়ার পুয়াবাগানে থাকা আদিবাসী মুর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিধায়ক নিলাদ্রী ফের উসকে দিলেন এক বছর আগের মুর্তি বিতর্ক।

২০২০ সালের ৫ নভেম্বর বাঁকুড়ায় রাজনৈতিক সফরে এসেছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । ওই দিন দুপুরে তিনি বাঁকুড়া শহরের অদূরে চতুরডিহি গ্রামে হাজির হয়ে স্থানীয় বিভীষণ হাঁসদার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। বিভীষণকে পাশে বসিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় অমিত শাহ বিভীষণ হাঁসদার অসুস্থ মেয়েকে দিল্লীর এইমসে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দিল্লির এইমসের উন্নত চিকিৎসায় আজন্ম কঠিন ডায়াবিটিসে আক্রান্ত মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবে, এই প্রতিশ্রুতিতে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছিলেন বিভীষণ ও তাঁর পরিবার। কিন্তু এক বছর পরও সেই প্রতিশ্রুতি পালন হয়নি । মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে থাকা বিভীষণের স্বপ্নভঙ্গের কথা তুলে ধরেছিল আনন্দবাজার অনলাইন। আর তার পরই ঘুম ভাঙে প্রশাসনের। বিভীষণের বাড়িতে পৌঁছে তড়িঘড়ি এক মাসের ওষুধ পৌঁছে দেন স্থানীয় বিডিও ও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক। আগামীতেও নিয়মিত ওষুধ সরবরাহের আশ্বাস দেন। স্থানীয় ব্লক প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের পর এ বার বিভীষণের বাড়িতে গেলেন বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক। বিভীষণের পরিবারের সকলের জন্য জামাকাপড় ও শীতের জন্য কম্বল তুলে দেন তিনি।

নিলাদ্রী বলেন, “দীর্ঘদিন লকডাউনের কারনে ট্রেন চলছিল না। হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবাও স্বাভাবিক ছিল না। সে কারণেই বিভীষণের মেয়েকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া যায়নি। এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। এর পর তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার বার্তা বিভীষণকে দিয়ে গেলাম। সঙ্গে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁকে সাহায্য তুলে দিয়ে আমাদের আত্মীক বন্ধন আরও দৃঢ় করে গেলাম।’’ বিভীষণ হাঁসদা বলেন, “ভাল লাগছে। দেরিতে হলেও বিধায়ক এখন মেয়েকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে গেলেন। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান শ্যামল সাঁতরা বলেন, “আরও একবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন বিধায়ক । প্রতিশ্রুতি পরে দেবেন আগে কাজ করে দেখান তিনি।”

শনিবার চতুরডিহি যাওয়ার পথে পুয়াবাগানে আদিবাসী মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিধায়ক নিলাদ্রী। গত বছর রাজনৈতিক সফরে এসে অমিত শাহ এই মূর্তিটিকে বিরসা মুন্ডার মুর্তি হিসাবে শ্রদ্ধা জানানোর পরই শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক চাপান উতোর। বিরসা মুন্ডা বলে এক আদিবাসী শিকারীর প্রতীকী মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে অমিত শাহ আদিবাসীদের অপমান করেছেন এই দাবি তুলে সে সময় আন্দোলনে নেমেছিল তৃণমূল । পাল্টা মূর্তিটি বিরসা মুন্ডারই দাবি করে আসরে নেমেছিল বিজেপি । মূর্তিটি শুদ্ধিকরণ ও পালটা শুদ্ধিকরনের পথে হেঁটেছিল তৃণমূল ও বিজেপি । শনিবার বিজেপি বিধায়ক নিলাদ্রী বিতর্কিত সেই মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে দাবি করেন , “ ওই মুর্তিটি আসলে বিরসা মুন্ডারই । তৃণমূল প্রমাণ করুক সেটি বিরসা মুন্ডার মুর্তি নয় । এনিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে আমার কিছু করার নেই।” প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান শ্যামল সাঁতরা বলেন , “অমিত শাহ ওই মুর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন । তাই এখন বিজেপি নেতাদের ওই শিকারী মুর্তিকেই বিরসা মুন্ডা বলতে হচ্ছে । বিজেপি কোন জায়গায় নামতে পারে এটা তারই নমুনা।”

BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy