ভোটে জেতালেই পুরসভা পাবে খাতড়া। সোমবার খাতড়ায় প্রচারে এসে এমনই শর্তই দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে কটাক্ষ করছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
রানিবাঁধ কেন্দ্রের খড়বন ফুটবল ময়দানের সভায় অভিষেক বলেন, “খাতড়ায় পুরসভা করার দাবি অনেক দিনের। আমাকে অরূপ চক্রবর্তীও (বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ) বলছেন, পুরসভা করতে হবে। খাতড়া ব্লকের সাতটি অঞ্চলের প্রতিটিতে তৃণমূলকে জেতান। তিন মাসের মধ্যে খাতড়া পুরসভা হবে। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি।” দাবি করেন, রাজ্য সরকারের বাজেটে ২৫টি নতুন ‘আর্বান লোকাল বডি’ করার কথা জানানো হয়েছে। তার মধ্যে খাতড়া অন্যতম হবে। এরপরেই তিনি বলেন, “যদি সাতটি অঞ্চলে তৃণমূলকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় আপনারা জেতান।’’
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘১৫ বছর রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায়। পাঁচ বছর এই কেন্দ্রের বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। তখন পুরসভা না গড়ে এখন ভোটে জেতানোর শর্ত রাখছেন! খাতড়ার মানুষকে উনি কি ভাবেন। ওঁর এই ঔদ্ধত্যের জবাব গণদেবতা দেবে।’’
তৃণমূল আমলে খাতড়ায় যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, অভিষেক তা এ দিন তুলে ধরেন। হিমঘর গড়ারও আশ্বাস দেন। বিজেপি এলাকায় টাকা বিলি করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। রানিবাঁধে বার বার হেরে যাওয়া প্রার্থীকেই বিজেপি প্রার্থী করেছে বলে অভিষেক কটাক্ষ করেন। আবার বলরামপুরের সভায় গিয়ে বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক বাণেশ্বর মাহাতকো প্রার্থী না করার জন্য তাঁর অনুগামীদের ক্ষোভ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বলরামপুর কলেজ ময়দানে অভিষেক বলেন, ‘‘এখানে বাণেশ্বর মাহাতোকে প্রার্থী করা হল না। প্রার্থী করা হয়েছে বিজেপি সাংসদের আপ্ত-সহায়ককে। তাঁকে আপনারা মানবেন?’’ তাঁর কটাক্ষ, বাণেশ্বর প্রার্থী হলে ৫০ হাজার ভোটে হারত। বিজেপির এ বারের প্রার্থী আরও পাঁচ হাজার বেশি ভোটে হারবেন। গত বিধানসভা ভোটে বলরামপুরে তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতো ৪২৩ ভোটে হারেন। তবে লোকসভা ভোটে প্রার্থী শান্তিরাম এখানে ১১০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই এখানে শান্তিরামের জয় সময়ের অপেক্ষা বলে অভিষেক দাবি করেন।
এ দিন বলরামপুরের সভায় ফের পুরুলিয়া-হাওড়ার মধ্যে ট্রেনের অস্বাভাবিক দেরিতে চলার জন্য তিনি বিজেপি সাংসদকে কটাক্ষ করেন। দাবি করেন, জলজীবন মিশন প্রকল্পের টাকা কেন্দ্র আটকে রাখলেও বলরামপুরে বহু এলাকায় জলের ট্যাঙ্ক রাজ্যের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, ‘‘শান্তিরাম মাহাতোকে জেতান। আগামী পাঁচ বছরে লাক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের জীবন তৃণমূল পাল্টে দেবে।”
বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতোর দাবি, ‘‘রাজ্যে পরিবর্তন হচ্ছে বুঝতে পেরে ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলেছেন অভিষেক।’’
আজ, মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে গঙ্গাজলঘাটিতে সভা করার কথা রয়েছে অভিষেকের। বড়জোড়ার দলীয় প্রার্থী গৌতম মিশ্রের সমর্থনে তিনি সভা করবেন। কিছু দিন আগে এই কেন্দ্রে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করেছেন। রবিবার এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)