Advertisement
E-Paper

সেতুর কাজ বন্ধ, সমস্যা পারাপারে

সম্প্রতি আনন্দবাজারের পাঠকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ঝালদা ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বুলু মুড়া। এলাকার বাসিন্দাদের নানা দাবি-দাওয়া, প্রাপ্তি-প্রত্যাশার বিষয় ওঠে আলোচনায়। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রশান্ত পাল। রইল বাছাই কিছু প্রশ্নোত্তর।সম্প্রতি আনন্দবাজারের পাঠকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ঝালদা ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বুলু মুড়া। এলাকার বাসিন্দাদের নানা দাবি-দাওয়া, প্রাপ্তি-প্রত্যাশার বিষয় ওঠে আলোচনায়। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রশান্ত পাল। রইল বাছাই কিছু প্রশ্নোত্তর।

শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৬ ০১:১৯
থমকে রয়েছে নির্মাণকাজ। তুলিন ও মাঘা গ্রামের মধ্যে শুকনো মরসুমে এ ভাবেই চলে যাতায়াত। —প্রদীপ মাহাতো।

থমকে রয়েছে নির্মাণকাজ। তুলিন ও মাঘা গ্রামের মধ্যে শুকনো মরসুমে এ ভাবেই চলে যাতায়াত। —প্রদীপ মাহাতো।

ব্লকের বেশ কিছু গ্রামে এখনও লো-ভোল্টেজ একটা বড় সমস্যা। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ দফতরে বারে বারে সমস্যার কথা জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। পঞ্চায়েত সমিতি কি এ ব্যাপারে কিছু করতে পারে?

রাকেশ মাহাতো, মসিনা

সভাপতি: ব্লকের বেশ কিছু এলাকায় সত্যিই লো-ভোল্টেজ এবং লোডশেডিং একটা ব়ড় সমস্যা। বিদ্যুৎ দফতরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। কিছু এলাকায় ট্রান্সফর্মার বসানো দরকার। আবার দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষজনের রোজকার জীবনযাত্রা হাতির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়। বছরের বেশ কয়েক মাস হাতির উপদ্রব লেগে থাকে। ঘরবাড়ি ভাঙে, ফসলের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। চাষ আবাদের সঙ্গে যাঁদের রুজিরুটি জড়িয়ে, সবচেয়ে সমস্যায় পড়েন তাঁরা। পঞ্চায়েত সমিতি বিষয়টি নিয়ে কী ভাবছে?

সুষেণ রজক, রাজাহেঁসলা

সভাপতি: সমস্যাটি নিয়ে বন দফতরের সঙ্গে কথা হয়েছে। এই ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া। সেখান থেকে হাতি ঢুকে পড়ে। হাতির দল ক্ষয়ক্ষতি করলে বন দফতর ক্ষতিপূরণ দেয়। তবে পরিমান নিয়ে অনেকের অভিযোগ রয়েছে। বন দফতরের সঙ্গে কথা বলে আমরা হাতির উপদ্রব থেকে ফসল এবং মানুষজনকে কী ভাবে রক্ষা করা যায়, তার উপায় বের করার চেষ্টা করছি।

ঝালদার বিভিন্ন এলাকার জলাধারগুলি দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি। কুকি, ছোটগাঁতা, পাটঝালদা, ফকিরডির মতো বেশ কিছু জলাধারের ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়েছে। গত বছর গ্রীষ্মে জল তলানিতে ঠেকেছিল। সংস্কার করা হলে হয়তো সে বারে খরার সময়ে ফসল বাঁচতে পারত। পঞ্চায়েত সমিতির কি এই ব্যাপারে কোনও পরিকল্পনা রয়েছে?

উমেশচন্দ্র মাহাতো, ডুমুরডি

সভাপতি: জলাধারগুলির দ্রুত সংস্কার হওয়া দরকার। তবে সেই কাজ করা পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষে সম্ভব নয়। বিষয়টি সেচ দফতরকে জানিয়েছি। জেলার উন্নয়ন বৈঠকেও ফের বিষয়টি তুলব।

পুস্তি, হেঁসলা, ডিবরিটিকর, পাটঝালদা, দুলমি, ডুড়গু-সহ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে প্রচুর সব্জি চাষ হয়। কিন্তু ফসল বিক্রির জন্য চাষিরা বড় বাজার পান না। ফসল মজুত করে রেখে যে দেবেন, হিমঘর না থাকায় সেই উপায়ও নেই। পঞ্চায়েত সমিতি কি এই সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু ভাবছে?

মহেশ্বর মাহাতো, কুদাগাড়া

সভাপতি: হিমঘর বা বাজার তৈরি পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষমতার বাইরে। এই বিষয়গুলি দেখে কৃষি বিপণন দফতর। কতদূর কী করা যাবে জানি না, তবে জেলার উন্নয়ন বৈঠকে বিষয়টি তুলব।

তোড়াং স্টেশনের কাছে আগে বড় বাজার বসত। এখন তুলে দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন এলাকার চাষিরা। বাজারটি কি ফের চালু করা যায় না?

জিতেন কুইরি, দুলমি

সভাপতি: যে জমিতে বাজার বসত সেটি পঞ্চায়েত সমিতির নয়। রেলের জমি। জমি পেলে পঞ্চায়েত সমিতি বাজার তৈরি করতে পারে। তবে আপাতত ওখানে বা পাশের কোনও জায়গায় যদি ফের বাজার বসানো যায় তার জন্য রেলের সঙ্গে কথা বলব।

তুলিন-মাঘা রাস্তায় রূপাই নদীর উপরে সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু অনেক দিন ধরে সেই কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। শুধু কয়েকটা স্তম্ভ নির্মাণ হয়েছে। সেতুটি তৈরি হলে দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু গ্রামের মানুষের উপকার হয়। দ্রুত কাজ শেষ করার ব্যাপারে পঞ্চায়েত সমিতি কি কোনও তদ্বির করছে?

মনোহর মাহাতো, নয়াডি

সভাপতি: ওই সেতু তৈরি করছে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ। কেন কাজ বন্ধ রয়েছে তা নিয়ে পর্ষদের সঙ্গে কথা বলব। দ্রুত কাজ শুরু করানোর চেষ্টাও করা হবে।

ঝালদাকে ঘিরে প্রচুর পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু উদ্যোগী হওয়া দরকার। এই ব্লকের নরাহারা জলাধারের অনেক মানুষ আসেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার কোনও ভাল রাস্তা নেই। পঞ্চায়েত সমিতি কী ভাবছে?

সঞ্জয় সিংহ দেও, মহকুদর

সভাপতি: বিষয়টি আমাদের ভাবনাতেও রয়েছে। বিডিও এবং আমি গিয়ে জায়গা দেখে এসেছি। ঠিক হয়েছে, নেহালবাঁধ, পটমাডি, বাঁধটাঁড় হয়ে জলাধারে যাওয়ার রাস্তাটি সংস্কার করা হবে। প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ মিললেই কাজ শুরু হবে।

ইচাগ-খামার রাস্তার অবস্থা বেশ খারাপ। দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি। বর্ষাকালে যাতায়াত করাই দায় হয়ে পড়ে। সংস্কারের কাজ শুরু হবে কবে?

সুজয় রায়, দুরলা

সভাপতি: রাস্তাটি কমবেশি ছ’কিলোমিটার দীর্ঘ। সংস্কারের কাজ আমরা এখনও হাতে নিতে পারিনি। জেলা পরিষদকে রাস্তা সংস্কারের জন্য বলব।

কাঁটাডি, হুসেনডি, বাগানডি এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষজন বসবাস করেন। কিন্তু কোনও হাইমাদ্রাসা নেই ওই এলাকায়। পঞ্চায়েত সমিতি কিছু করতে পারে?

ওয়াসিম আহমেদ, কাঁটাডি

সভাপতি: এ বিষয়ে কিছু করা পঞ্চায়েত সমিতির এক্তিয়ারের বাইরে। জেলা সংখ্যালঘু সেলে বিষয়টি জানাবো।

তুলিন-বান্দুলহর রাস্তায় সাপাই নদীর উপরে কোনও সেতু নেই। নদীতে জল থাকলে ওপারের ডুমুরডি, গুড়িডি, মাহাতোমারা, রায়ডি, বান্দুলহর, কচাজারা-সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষজন গোলা রাস্তা দিয়ে অনেকটাই ঘুরপথে ঝালদা যান। কাজের জন্য ঝাড়খণ্ডের মুরি যেতে হলে ঝালদা হয়ে কমবেশি কুড়ি কিলোমিটার ঘুরতে হয়। সেতু থাকলে সেই দূরত্বটাই মেরেকেটে পাঁচ কিলোমিটারে নেমে আসত। পঞ্চায়েত সমিতির এ বিষয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

দেবাশিস মাহাতো, ডুমুরডি

সভাপতি: জেলার উন্নয়ন বৈঠকে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলাম। ফের প্রসঙ্গটি তুলব।

ঝালদা-দঁড়দা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কাঁটাডি থেকে তানাসি যাওয়ার প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। গাড়ি ঢুকতে পারে না। কবে সংস্কার হবে?

পঞ্চানন মাহাতো, নতুনডি

সভাপতি: রাস্তাটির অবস্থা আমরা জানি। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেটি দেখে আসা হয়েছে। শীঘ্রই সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হবে।

ব্লকের একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব কোনও বাড়ি নেই। কোথাও গাছের তলায়, কোথাও স্কুলের বারান্দায় কেন্দ্র চলে। ঝড়-বৃষ্টি বা রোদে খুবই সমস্যা হয়। যে উদ্দেশ্য নিয়ে কেন্দ্রগুলি গড়ে তোলা হয়েছে তা অনেকটাই হোঁচট খাচ্ছে এই সমস্যার জন্য। কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি?

কণিকা মাহাতো, ডুমুরডি

সভাপতি: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পঞ্চায়েত সমিতি তৈরি করতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে জমি পাওয়া নিয়ে। এই ব্লকে কমবেশি শ’দেড়েক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। বেশ কয়েকটিরই বাড়ি নেই। জমি পেলেই সেই সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাড়ি গড়ে দেওয়া হবে।

কলমা ও হেঁসাহাতু গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকায় মাহাতোমারা-সেঁওয়াতি পাহাড় রাস্তাটি রয়েছে। রাস্তাটি দীর্ঘ দিন ধরে বেহাল। দু’পাশের পাটু, গরিয়া, বকত-সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা খুবই সমস্যায় পড়েন। সংস্কারের জন্য পঞ্চায়েত সমিতি কি উদ্যোগী হচ্ছে?

নিমাই মাহাতো, পাটু

সভাপতি: ওই রাস্তাটি সংস্কারের কাজ এখনও হাতে নেওয়া হয়নি। তবে কাজ হবে।

জারগো মেড়া থেকে ইলু স্টেশন পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থাও বেশ খারাপ। দীর্ঘ দিন সংস্কার হয়নি। ডিবরিটিকর, চাঁদাই, নওয়াডি, রতিয়াডি, মহুলটাঁড়, কেন্দুয়াডি-সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষজন এর ফলে খুবই সমস্যায় পড়েন। এই রাস্তার ব্যাপারে পঞ্চায়েত সমিতির কী পরিকল্পনা রয়েছে?

ধনঞ্জয় কুইরি, ডিবরিটিকর

সভাপতি: রাস্তাটির কিছু অংশ বেহাল। সংস্কার করা হবে।

Bridge construction stopped trouble
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy