E-Paper

লিঙ্গ-বর্ণের বৈষম্য সরিয়ে পুজো স্কুলে

শিবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে আবার কোনও বিশেষ কারণে নয়, প্রথম থেকেই ঠিক হয় মোনালিসাই পুজো করবেন।

দেবাশিস পাল

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩২
আলপনা দিচ্ছেন শিক্ষিকা মোনালিসা রায়। বৃহস্পতিবার কীর্ণাহার শিবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে।

আলপনা দিচ্ছেন শিক্ষিকা মোনালিসা রায়। বৃহস্পতিবার কীর্ণাহার শিবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে। ছবি: কল্যাণ আচার্য।

প্রথাগত নিয়ম মেনে ব্রাহ্মণ পুরুষ পুরোহিত নন। কীর্ণাহার শিবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে এ বছর সরস্বতী পুজোর পৌরোহিত্য করছেন সংস্কৃত ভাষার শিক্ষিকা মোনালিসা রায়। তিনি অব্রাহ্মণ, কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই বর্ণ ও লিঙ্গ বৈষম্যকে দূরে সরিয়ে সরস্বতী পুজোর আয়োজন হচ্ছে শতাব্দী প্রাচীন এই ছেলেদের স্কুলে।

বছর চারেক আগে ২০২২ সালে বীরভূমের লাভপুর সত্যনারায়ণ শিক্ষা নিকেতন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে একই ভাবে শারীরশিক্ষা বিভাগের শিক্ষিকা অদিতি নায়ক সরস্বতী পুজো করেছিলেন। সে বার স্কুলের পুরোহিতের অশৌচ দশা পড়ে যাওয়ায় সকলের অনুরোধে অদিতি সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রচলিত নিয়ম অনুসারে, মেয়েদের গায়ত্রী মন্ত্র উচ্চারণ করতে নেই। দীক্ষামন্ত্রের পরেই গায়ত্রী মন্ত্র উচ্চারণের অনুমতি মেলে। দীক্ষার পড়ে বাড়িতেই পুজো করতেন অদিতি, সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগে সেদিন।

শিবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে আবার কোনও বিশেষ কারণে নয়, প্রথম থেকেই ঠিক হয় মোনালিসাই পুজো করবেন। প্রস্তুতি পর্বের আলপনা দেওয়া, মণ্ডপসজ্জা এমনকী, ছাত্র ও সহকর্মীদের পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ানোর দায়িত্বও পালন করবেন তিনি। পুজো পদ্ধতি আয়ত্ত করতে তাঁকে সহায়তা করেছেন স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক অরুণ রায়।

মোনালিসার কথায়, “ব্রাহ্মণ পরিবারের না হলেও আমাদের মহাপ্রভু ও দুর্গামন্দির আছে। ছোট থেকেই পুজো দেখে আসছি, পরে সংস্কৃত সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনার সুবাদে পুজোর মন্ত্র ও শ্লোক সম্পর্কে সামান্য হলেও জ্ঞান হয়েছে। আমার পুজো করার বিষয়ে স্কুলের সকলেই উৎসাহ ও সাহস জুগিয়েছেন।”

দশম-একাদশ শ্রেণির ছাত্র অরিত্র রায়, অপরাজেয় মুখোপাধ্যায়‌, কিরণ পাল উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে জানায়, তাদের সংস্কৃতের শিক্ষিকার নির্দেশমতোই এবার পুষ্পাঞ্জলি দেবে তারা। ছেলেদের এই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অভিনন্দা বৈরাগী বলেন, “আমরা সকলেই সমান, সমাজে সব রকমের বৈষম্য দূর হোক। সেই বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ।” স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি মনোজ ঘোষ বলেন, “বিদ্যালয় জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে, এখানে যেমন সরস্বতী পুজো হচ্ছে, তেমনই নমাজ পড়ারও কক্ষ আছে। লিঙ্গ, জাতি, বর্ণ সব দূরে সরানোর লক্ষ্যেই কাজ করছি আমরা।”

সমাজে বৈষম্য দূরীকরণে কাজ করা ‘ইক্যুই ডাইভার্সিটি ফাউন্ডেশন’ সংগঠনের নানুর ও লাভপুর এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ঝুমা গঙ্গোপাধ্যায় হাজরা বলেন, “সমাজে বৈষম্য দূর করতে এই পদক্ষেপগুলি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশাবাদী, এ ভাবেই ধীরে ধীরে বর্ণ-লিঙ্গ বৈষম্য দূর হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

kirnahar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy