পুরুলিয়ার জনসভায় এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জেলার প্রথম মহিলা বিধায়ক লাবণ্যপ্রভা ঘোষ থেকে মানভুমের ভাষা আন্দোলনের কথা তুলে ধরেছিলেন। অথচ ওই সভার পরের দিন সোমবার (২০ এপ্রিল) ছিল পুরুলিয়া তথা সাবেক মানভূম জেলার ঐতিহাসিক পদযাত্রার সূচনার দিন। জেলার বাসিন্দাদের একাংশের আক্ষেপ, নির্বাচনী আবহে এই বিশেষ দিনটি উপেক্ষিতই থেকে গেল।
জেলার ইতিহাস গবেষক প্রদীপ মণ্ডল জানান, পুরুলিয়া তথা তৎকালীন মানভূম জেলার ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস অনেক লম্বা। দীর্ঘ আন্দোলনের চাপে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের রায় অনুযায়ী ভারত সরকার বাংলা ভাষা অধ্যুষিত মানভূম জেলার খণ্ডিত অংশকে পশ্চিমবঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সায় দেয়। ওই অংশে মানভূমের চান্ডিল, ইচাগড়, পটমদা, ধানবাদ, চাষ ও চন্দনকিয়ারীর মতো বাংলাভাষী অঞ্চল ছিল না। দুই রাজ্য সরকারের তরফে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যের একত্রীকরণের প্রস্তাব ছিল। অখণ্ড মানভূম জেলার দাবি এবং বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ একত্রীকরণ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে লোকসেবক সঙ্ঘ ১৯৫৬ সালের ২০ এপ্রিল পুঞ্চার পাকবিড়রা ময়দান থেকে ১০২৫ জন পুরুষ ও মহিলাকে নিয়ে ১৭ দিন ধরে পদযাত্ৰা করে ৭মে কলকাতায় পৌঁছন। বঙ্গ সত্যাগ্রহীদের আন্দোলনের চাপে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ একত্রীকরণের প্রস্তাব ফিরিয়ে নেওয়া হলেও অখণ্ড মানভূম জেলা ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। সেই হিসাবে ২০ এপ্রিল পুরুলিয়া জেলার পক্ষে এক ঐতিহাসিক দিন।
জেলার প্রথম সাংসদ তথা ভাষা সেনানী ভজহরি মাহাতো স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক দেবরাজ মাহাতো বলেন, ‘‘জেলার কোথাও ঐতিহাসিক পদযাত্রা স্মরণে এ দিন কোনও অনুষ্ঠানের কথা শোনা যায়নি। তবে সামাজিকমাধ্যমে দিনটি স্মরণ করে কিছু পোস্ট হয়েছে।’’
মানভূম কালচারাল আকাডেমির চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের জেলা নেতা হংসেশ্বর মাহাতো বলেন, ‘‘এই বিশেষ দিনটির স্মরণেবিগত বছরে নানা অনুষ্ঠান আমরা করেছিল। আসলে এ বার নির্বাচনী ব্যস্ততায় আমরা সবাই এই বিশেষ দিনের কথা ভুলে গিয়েছি। আমরা ভুল স্বীকার করছি।’’
পুঞ্চার বাসিন্দা বিজেপির জেলা সহ সভাপতি জনপ্রিয় ঘোষও স্বীকার করেন, ‘‘ভোটের চাপে আমরা সকলেই এই বিশেষ দিনটির কথা ভুলে গিয়েছি। এটা আমাদের স্মরণে রাখা উচিত ছিল।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)