Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৬ জুলাই ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

ডেথ-সার্টিফিকেট বিতর্ক

মৃত্যু হল সদ্যোজাত কন্যারও

গত বুধবার বিকেলে এই কন্যা শিশুটিরই মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়ে পরিজনদের হাতে ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্কে জড়িয়েছে হাসপাতাল। এ বার শিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা
পুরুলিয়া ০৪ মার্চ ২০১৮ ০০:৪৬
Save
Something isn't right! Please refresh.
হাসপাতাল সুপারের কাছে পরিজনেরা। নিজস্ব চিত্র

হাসপাতাল সুপারের কাছে পরিজনেরা। নিজস্ব চিত্র

Popup Close

‘ডেথ সার্টিফিকেট’ পাওয়ার পরেও সেই শিশু কন্যাকে দুধ খাইয়েছিলেন মা। কিন্তু বাঁচানো গেল না তাকেও। মারা গেল সদ্যোজাত সেই কন্যাটিও। শুক্রবার রাতে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো হাসপাতালে আড়শার সোদপুয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা ফুলচাঁদ মাহাতোর ওই শিশু কন্যাটির মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।

গত বুধবার বিকেলে এই কন্যা শিশুটিরই মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়ে পরিজনদের হাতে ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্কে জড়িয়েছে হাসপাতাল। এ বার শিশু কন্যাটির মৃত্যুর কারণ জানতে চেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ফুলচাঁদ।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ফুলচাঁদ তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে এই হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেই রাতেই তাঁর স্ত্রী সুলেখা প্রথমে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। আধ ঘণ্টা পরে একটি পুত্র সন্তানেরও জন্ম দেন। দু’টি শিশুরই ওজন কম থাকায় তাঁদের নবজাত শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। ফুলচাঁদের কথায়, ‘‘বুধবার দুপুরের দিকে জানানো হয়েছিল, শিশু কন্যাটির অবস্থা খারাপ। বিকেলের দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল আমাদের জানায়। এমনকী তার ডেথ সার্টিফিকেটও দিয়েছিল।

Advertisement

পরের দিন স্ত্রী ওই ওয়ার্ডে পুত্র সন্তানটিকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে দেখেন, বেডে ছেলের বদলে মেয়ে রয়েছে। খোঁজ করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, মেয়েটির কিছু হয়নি। ছেলেটিই মারা গিয়েছে। ভুল করে মেয়ের নামে ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে ফেলেছিলেন তাঁরা।’’ তাঁরা দাবি তোলেন, ছেলেটি উধাও হয়ে গিয়েছে। মৃত সদ্যোজাত ছেলেটি যে তাঁরই সন্তান, তা প্রমাণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার দাবি তোলেন ফুলচাঁদ। ভুল সার্টিফিকেট কী করে বেরোল, সে জন্য বিভাগীয় তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছিলেন হাসপাতালের সুপার শিবাশিস দাস।

এই পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার রাতেই শিশু কন্যাটির মৃত্যু হওয়ায় ভেঙে পড়েছে পরিবারটি। ফুলচাঁদ বলেন, ‘‘আগের দিনও আমার স্ত্রী মেয়েটিকে দুধ খাইয়েছে। কোনও সমস্যা ছিল না। রাতে আচমকাই জানানো হয়, শিশুটির অবস্থা ভাল নয়। কিছুক্ষণ পরে খবর আসে, শিশুটি মারা গিয়েছে। প্রথমবারের সন্তানদের মৃত্যুতে সে ভেঙে পড়েছে।’’ সুলেখা শনিবারই হাসপাতাল থেকে বাড়ি চলে গিয়েছেন। তাঁদের এক আত্মীয় পরিতোষ মাহাতো বলেন, ‘‘আগের দিন যা কাণ্ড ঘটেছে, তারপরে কন্যা শিশুটির মৃত্যু মানা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রেও তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’’

এ দিন হাসপাতালে এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি-র পুরুলিয়া শহর মণ্ডল সভাপতি সত্যজিৎ অধিকারী বলেন, ‘‘আমরাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনতে হবে।’’ ফুলচাঁদ দাবি করেন, ‘‘আমার মেয়ের কী ভাবে মৃত্যু হল, তার ময়না-তদন্তের রিপোর্ট চাই।’’

এ দিন এই মৃত্যুর ঘটনা ঘিরেও হাসপাতালে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। হাসপাতালের সুপার বলেন, ‘‘শিশু কন্যাটির ওজন অত্যন্ত কম ছিল। তবে তার আত্মীয়েরা ময়না-তদন্ত দাবি করেছেন। পুলিশ চাইলে ময়না-তদন্ত হবে।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement