Advertisement
E-Paper

‘গর্বে’র পরিচয় উধাও বিজেপি নেতা-কর্মীদের

এ জন্য ভোট পরবর্তী হিংসা এবং দলের হতাশাজনক ফলকেই দায়ী করেছেন বিজেপি নেতা কর্মীদের একাংশ।

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২১ ০৬:০৮
ভোটের আগে এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল।

ভোটের আগে এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। ফাইল চিত্র।

বাড়ির বাইরে লাগানো নেমপ্লেট উধাও। নেই দলীয় পতাকাও। ভোটের ফল প্রকাশের পর জেলায় বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় থাকা বিজেপি বুথ সভাপতিদের একটা বড় অংশের বাড়িতে গেলেই নাকি এমন দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে হবে। তৃণমূল তো বটেই, বিজেপি নেতারাও মানছেন তথ্য ভুল নয়। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে দলের তরফে দেওয়া যে সম্মান ও স্বীকৃতিকে ঘিরে একদিন গর্ব করেছিলেন, সেই চিহ্নই মুছতে চাইছেন নীচু তলার নেতাদের অনেকেই।

কেন? এ জন্য ভোট পরবর্তী হিংসা এবং দলের হতাশাজনক ফলকেই দায়ী করেছেন বিজেপি নেতা কর্মীদের একাংশ। কেউ কেউ আবার অসময়ে দলের জেলা নেতাদের পাশে না দাঁড়ানোকে দূষে নিজেদের জাহির করার রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ানোকেই শ্রেয় মনে করেছেন। বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলছেন, ‘‘ভোট-পরবর্তী হিংসার জেরে চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের কর্মীরা। যাঁরা মার খেয়েছেন, যাঁদের ঘর লুট হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে নীচুতলার নেতাদের কেউ নেমপ্লেট বা দলীয় পতাকা খুলে রাখবেন আশ্চর্য কী!’’

নির্বাচনের আগে দলের তরফে সংগঠন মজবুত করতে দলের তরফে জেলা জুড়ে সমস্ত বুথ সভাপতিদের সম্মানীত করা ও স্বীকৃতি দেওয়ার কৌশল নিয়েছিল বিজেপি। লক্ষ্যের অংশ হিসেবে জেলার প্রত্যেক বুথ সভাপতির বাড়িতে নেমপ্লেট লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছিল দল। সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল মাস্ক, স্যানিটাইজার, বই, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, দলের প্রচার পত্র। দলের তরফে সম্মান খুশি করেছিল বুথ সভাপতিদের।

ভোট মিটতেই অন্য ছবি! সিউড়ি ১ বিধানসভা এলাকায় অন্তর্গত রাজনগর ব্লকে মোট ৬৮টি বুথ রয়েছে। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায়৩০ জন সভাপতির বাড়ির সামনে থেকেউ উধাও হয়ে গিয়েছে দলীয় পতাকা সম্মানস্বরূপ দেওয়া নেমপ্লেটটি। একই ছবি সিউড়ির ভূরকুনা বোলপুর, নানুর, সাঁইথিয়ার সিউড়ি ২ ব্লক এবং বিজেপির জয়করা আসন দুবরাজপুর বিধানসভার বহু এলাকায়। বুথ সভাপতিদের একাংশ জানাচ্ছেন, ‘‘একে তো দলের হতাশাজনক ফল, তার উপরে ভোট পরবর্তী যে হিংসা চলেছে, তারপর আর কে ঝুঁকি নেবে! আমাদের বহু কর্মী ঘর ছাড়া। এই অবস্থায় শাসক দলের কুনজরে আর কে পড়তে চায়?’’

তবে ব্যতিক্রম আছে। রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভাশিস চৌধুরী বলছেন, ‘‘আমার এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা নেই।’’ তবে কর্মীদের অনেকের অভিযোগ, দলের উঁচু তলার নেতাদের যে সমর্থন এই সময় তাঁরা আশা করেছিলেন তা মেলেনি। তাই চুপ চাপ থাকতে চান তাঁরা। পাশে না দাঁড়ানোর তত্ত্ব মানতে চাননি জেলা নেতারা। তাঁদের দাবি, শাসক দলের হুমকির ভয়েই দলীয় পতাকা ও নেমপ্লেট খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। বিজেপি জেলাসভাপতি ধ্রুব সাহার দাবি, ‘‘এখনও হিংসা অব্যাহত। শুক্রবার বোলপুরে আমাদের এক মণ্ডল সভাপতি বিকাশ মিশ্রের বাড়িতে হামলা হয়েছে।’’

তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘কোথাও কোনও হিংসা হচ্ছে না। কাউকে নেমপ্লেট নামিয়ে রাখতে বা দলীয় পাতাকা খুলতেও বলা হয়নি। আসলে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে ভেবে অনেকেই সেদিকে ঝাঁপিয়েছিলেন। তাঁরা নিজের ভুল বুঝতে পেরে দলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়েছেন।’’

BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy