Advertisement
E-Paper

স্বামীকে নিয়ে অশান্তি, শাশুড়ি-খুনের নালিশ

তদন্তকারীরা জানান, বছর ছ’য়েক আগে সাঁইথিয়ার ছোটসিজা গ্রামের আকুডিহিপাড়ার নাসিরার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আদিরাপাড়ার শেখ হান্নানের। তাঁদের সাড়ে চার বছরের এক মেয়ে রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৮ ০১:৫৩
হেফাজত: খুনে অভিযুক্ত নাসিরা। সিউড়ি কোর্টে শুক্রবার। নিজস্ব চিত্র

হেফাজত: খুনে অভিযুক্ত নাসিরা। সিউড়ি কোর্টে শুক্রবার। নিজস্ব চিত্র

স্বামীকে নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকতে চেয়েছিলেন মহিলা। তাতে আপত্তি ছিল বৃদ্ধা শাশুড়ির। অভিযোগ, ‘পথের কাঁটা’ সরাতে ধারালো অস্ত্রে বৃদ্ধার গলা কেটে খুন করল পুত্রবধূ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে সাঁইথিয়ার আদিরাপাড়া গ্রামে। ওই মহিলাকে ধরে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তদন্তকারীরা জানান, বছর ছ’য়েক আগে সাঁইথিয়ার ছোটসিজা গ্রামের আকুডিহিপাড়ার নাসিরার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আদিরাপাড়ার শেখ হান্নানের। তাঁদের সাড়ে চার বছরের এক মেয়ে রয়েছে। ছেলের পরিবারেই থাকতেন হান্নানের মা, বছর ষাটের কেরিমাবিবি। বাতাসপুর স্টেশনে হান্নানের ফলের দোকান রয়েছে। সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, হান্নানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল নাসিরা। মাসপাঁচেক ধরে তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। নাসিরা চেয়েছিলেন, জমিজমা বিক্রি করে হান্নান তার বাপের বাড়িতে গিয়ে থাকুক। মাকে ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে যেতে চাননি হান্নান। এতে আপত্তি ছিল কেরিমাবিবিরও। অভিযোগ, সেই আক্রোশেই নাসিরা শ্বাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় নাসিরার মেয়ে ঘুমিয়েছিল। ফলের দোকানে ছিল হান্নান। ঘরে নমাজ পড়ছিলেন বৃদ্ধা। তখনই পিছন থেকে তাঁর মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করে নাসিরা। তার পরে কাটারি দিয়ে বৃদ্ধার গলায়, কপালে আঘাত করে। শুক্রবার হান্নান বলেন, ‘‘সন্ধ্যায় সবে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে যাচ্ছিলাম। ফোনে খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে দেখি, ঘরের ভিতরে পড়ে রয়েছে মায়ের রক্তাক্ত দেহ। কী ভাবে এমন হল প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি স্ত্রী।’’ হান্নানের অভিযোগ, মাকে ফেলে ঘরজামাই হয়ে থাকতে চাননি বলেই তাঁর স্ত্রীই ওই কাণ্ড করেছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে জেরা করে লুকিয়ে রাখা রক্তমাখা কাপড়, শাবল, গলা কাটার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে এ দিন সিউড়ি আদালতে পেশ করা হলে বিচারক চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে নাসিরাবিবি। জানিয়েছে, ধারালো অস্ত্র ঝুড়ির মধ্যে আর শাবল সিন্দুকের পাশে লুকানো রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ নিজাউল বলেন, ‘‘বাড়িতে টিভি দেখছিলাম। চিৎকার শুনে বাইরে বেরিয়ে দেখি, অনেকে ভিড় করেছে। হান্নানের বাড়িতে ঢুকে দেখি, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওঁর মা। নাসিরাকে জিজ্ঞাসা করলে বলে, তিন জন এসে খুন করেছে। নাসিরার শাড়িতে রক্ত লেগেছিল। আগে অনেক বার শাশুড়িকে মারধর করেছে। ও-ই খুন করেছে।’’

Crime Murder Daughter In Law Mother In Law
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy