Advertisement
২৯ জানুয়ারি ২০২৩

বীরভূমে জলের তোড়ে ভেসে গেলেন ৪ জন

জলের তোড়ে তলিয়ে গেলেন দুই স্কুল ছাত্র-সহ চার জন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বীরভূমে। এ দিন জলের তোড়ে লাভপুর, খয়রাশোল আর মারগ্রামে চার জন তলিয়ে যান। ক্ষতিগ্রস্ত হল দ্বারকা নদের উপরে সেতুর একাংশ। এ দিন লাভপুরের লা’ঘাটায় কুঁয়ে নদীতে দুই স্কুল ছাত্র তলিয়ে যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
ময়ুরেশ্বর শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৫ ১৫:৫৭
Share: Save:

জলের তোড়ে তলিয়ে গেলেন দুই স্কুল ছাত্র-সহ চার জন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বীরভূমে।

Advertisement

এ দিন জলের তোড়ে লাভপুর, খয়রাশোল আর মারগ্রামে চার জন তলিয়ে যান। ক্ষতিগ্রস্ত হল দ্বারকা নদের উপরে সেতুর একাংশ। এ দিন লাভপুরের লা’ঘাটায় কুঁয়ে নদীতে দুই স্কুল ছাত্র তলিয়ে যায়। তবে এক ছাত্রকে প্রবল স্রোতের মুখ থেকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০০৭-এও ওই এলাকায় নৌকা ডুবিতে মারা যান অনিমা থান্দার। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকাল থেকেই কুঁয়ে নদীর জলে তলিয়ে যায় সিউড়ি-কাটোয়া সড়কের লা’ঘাটা সেতু। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। দেখতে ভিড় জমান এলাকার বাসিন্দারা। যায় যাদবলাল হাইস্কুলের তিন ছাত্র, একাদশ শ্রেণির সৌমিক পাত্র, দশম শ্রেণির ছাত্র প্রকাশ পাত্র এবং দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শুভদীপ পাত্র। শুভদীপ এবং সৌমিকের বাড়ি লাভপুর সাহা পাড়া। প্রকাশের বাড়ি লাগোয়া পাঁইফলার পাড়। উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা সৌমিককে উদ্ধার করলেও দীর্ঘ ক্ষণ বাকি দু’জনের কোনও খোঁজ মেলেনি।

ঘটনার দীর্ঘ ক্ষণ পরেও আতঙ্কের রেশ কাটেনি সৌমিকের। সে জানায়, সেতুর গার্ডওয়ালের স্তম্ভ ধরে পায়ে পায়ে নদীর জল মাপছিলাম। হঠাৎ প্রবল স্রোতে পা হড়কে যায়। স্তম্ভ থেকে হাত সরে যায়। তারই মধ্যে একটি পাক খেঁয়ে সৌমিক অন্য একটি স্তম্ভ ধরে ফেললেও, ওরা দু’জন তলিয়ে যায়। বাসিন্দারা জানান, গামছা ছুড়ে কোনরকমে সৌমিককে টেনে তোলা হয়।

ওই খবর পৌঁছতেই কান্নার রোল শুরু হয় প্রকাশ এবং শুভদীপের বাড়িতে। কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না শুভদীপের বাবা সেলাই দোকানের কর্মী অরুণবাবু এবং প্রকাশের বাবা গয়নার দোকানের কারিগর প্রশান্তবাবু।

Advertisement

লা’ঘাটায় নদী পারপারের এই দুর্ভোগ দীর্ঘ দিনের। কুঁয়ে নদীতে জল বাড়লেই প্রতি বছর তলিয়ে যায় বেশ কিছু সেতু। তখন বন্ধ হয়ে যায় সিউড়ি-কাটোয়া, লাভপুর-বোলপুর সড়কের যান চলাচল। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে অবশ্য নদী পারাপারের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সব সময় সেই নৌকাও মেলে না। আবার গাদাগাদি করে পার হতে গিয়েও নৌকাডুবিও হয়। পাশাপাশি ডুবে যাওয়া সেতুর উপর দিয়েই চড়া ভাড়ার বিনিময়ে গরুর গাড়ি , ভুটভুটিতে লোক, মোটরবাইক পার করানো হয় বলেও অভিযোগ। লাগোয়া রেলসেতুর স্লিপারের উপর দিয়ে সাইকেল ঘাড়ে যাতায়াত করতেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

লা’ঘাটায় একটি উন্নত মানের সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওই সেতুর শিলান্যাসও করেন তদানীন্তন পূর্তমন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী। কিন্তু সেতু তৈরির কোন উদ্যোগ আজও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ।

অন্য দিকে, খয়রাশোলে হিংলো নদীর কজওয়েতে পার হতে গিয়ে তলিয়ে গেলেন সাইকেল আরোহী লোটন দাস। লোটনবাবুর এক সঙ্গীও জল পড়ে গিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের তৎপরতায় তিনি কোনওক্রমে বেঁচে গিয়েছেন। লোটনবাবু ও তাঁর সঙ্গীকে সাবধান করেছিলেন সিভিক ভলান্টিয়ার্সরা। কিন্তু নিষেধ মানতে চাননি লোটনবাবু।.জলে নেমে ফুট ১৫ যেতে না যেতেই ভেসে যান তিনি। মারগ্রামেও জলের তোড়ে ভেসে গেল এক বালক। শুক্রবার দুপুরে মারগ্রাম থানার মাদারতলায় জলের তোড়ে ভেসে যায় রাসুল সেখ। রামপুরহাটের এসডিও উমাশঙ্কর এস জানান, রাসুলের খোঁজে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপন দফতরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে একটি টিম পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হল তারাপীঠের দ্বারকা নদের উপর সেতুর একাংশ। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতি করার জন্য পূর্ত বিভাগের (সড়ক) কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছেন। পূর্ত বিভাগের (সড়ক) বীরভূম জেলা নির্বাহী বাস্তুকার আসরাফ আলি জানান, এলাকায় দফতরের রামপুরহাট বিভাগীয় বাস্তুকার কাজ করছেন। আশা করা যায় রাতের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতি করা হয়ে যাবে। তবে কাজ চলার সময়ে সেতুর উপরে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.