Advertisement
E-Paper

ফুটবল আঁকড়ে দাঁড়াতে চায় কাজলি

স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঝাড়খণ্ড ঘেঁষা পচাপানি গ্রামে কাজলির বাড়ি। সেখান থেকে রোজ আড়াই কিলোমিটার পথ উজিয়ে স্কুলে আসে সে। গ্রামে ছেলেদের ফুটবল খেলতে দেখলেও কোনও দিনই সে ভাবে তাদের সঙ্গে খেলা হয়ে ওঠেনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ ০০:০৯
কৃতী: কাজলি টুডু। নিজস্ব চিত্র

কৃতী: কাজলি টুডু। নিজস্ব চিত্র

প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বাংলার হয়ে খেলতে গিয়ে গোল করে নজর কাড়ল বান্দোয়ানের কুচিয়া হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী কাজলি টুডু। বুধবার কাজলিকে সংবর্ধনা জানিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করলেন, তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে স্কুল সবরকম ভাবে সাহায্য করবে।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঝাড়খণ্ড ঘেঁষা পচাপানি গ্রামে কাজলির বাড়ি। সেখান থেকে রোজ আড়াই কিলোমিটার পথ উজিয়ে স্কুলে আসে সে। গ্রামে ছেলেদের ফুটবল খেলতে দেখলেও কোনও দিনই সে ভাবে তাদের সঙ্গে খেলা হয়ে ওঠেনি। স্কুলে এসেই ফুটবল খেলা শুরু করে। বছরখানেক হল স্কুলে কন্যাশ্রী ক্লাবের হয়ে ব্লক ভিত্তিক ম্যাচে তার খেলার দক্ষতা সবার নজর টানে। স্কুলের গ্রন্থাগারিক তুহিনশুভ্র পাত্র জানান, স্কুলের কর্মী আদিত্য সহিসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পড়ুয়াদের শরীরচর্চা করান। সেখানেই তাঁরা কাজলির মধ্যে প্রতিভা খুঁজে পান। তাঁর কথায়, ‘‘কাজলির বড় গুণ হল, মিডফিল্ডার হিসাবে বল নিয়ে দুরন্ত গতিতে উঠে আসতে পারে।’’

বান্দোয়ানের বাসিন্দা জেলার অন্যতম ফুটবল কোচ প্রমোদ মাহাতো স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে কাজলিদের প্রশিক্ষণ দিতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘কাজলির বল নিয়ে ক্ষিপ্রতা নজরে পড়ে। তখনই বুঝেছিলাম এই ছাত্রী নিয়মিত অনুশীলন করলে অনেক দূর যাবে।’’ ফলও মিলতে শুরু করে। সুব্রত কাপের জেলা স্তরের প্রতিযোগিতায় বান্দোয়ানের দল চ্যাম্পিয়ন হয়। বর্ধমানে রাজ্য স্তরের অনূর্ধ্ব ১৭-র খেলায় পুরুলিয়া রানার্স আপ হয়। তবে, বিচারকেরা কাজলিকে বাংলার দলের হয়ে মনোনীত করেন।

পুরুলিয়া জেলা স্কুল ক্রীড়া কমিটির সম্পাদক শান্তিগোপাল মাহাতো বলেন, ‘‘১১-১৩ ডিসেম্বর ত্রিপুরায় জাতীয়স্তরের খেলায় কোয়ার্টার ফাইনালে হরিয়ানার কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয় বাংলা। তার আগে অন্ধ্রপ্রদেশের হয়ে গোল করেছিল কাজলি। এটা কম কৃতিত্বের নয়।’’

সেই সূত্র ধরে স্কুলের প্রধানশিক্ষক শিবশঙ্কর সিং বলেন, ‘‘কাজলি আমাদের স্কুলের নাম উজ্জ্বল করেছে। সে জন্য তার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ আমরা বহন করব।’’ এ দিন মেয়ের সঙ্গে গিয়েছিলেন বাবা পাঁচু টুডুও। তিনি বলেন, ‘‘আমার মেয়ের যাবতীয় উত্তরণের মূলে এই স্কুলের শিক্ষকেরা রয়েছেন। তাঁরা পাশে না দাঁড়ালে মেয়ে বাইরে খেলতে যেতে পারত না।’’ বিডিও (বান্দোয়ান) শুভঙ্কর দাসও আশ্বাস দেন, কাজলির পড়াশোনা ও ফুটবলের অনুশীলন চালিয়ে যেতে পঞ্চায়েত সমিতি সব রকম ভাবে সহযোগিতা করবে। পাশে থাকার আশ্বাস দেন বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীব সোরেন, সহ-সভাধিপতি প্রতিমা সোরেন।

কাজলিও এগোতে চায়। কাজলি বলে, ‘‘স্বপ্নেও ফুটবল খেলি। ফুটবলই আমার চারপাশটা বদলে দিয়েছে। ফুটবলকে কখনও ছাড়ব না।’’

Football Footballer Sports
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy