×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

চড়া দাম, ভিড় নেই সোনার দোকানে

শুভদীপ পাল 
সিউড়ি১০ জানুয়ারি ২০২০ ০২:৪৪
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

সামনেই মাঘ মাস। বিয়ের মরসুম। কিন্তু সোনার অত্যধিক দামের জন্য বিয়ের মরসুমেও কেমন ব্যবসা হবে তা দুশ্চিন্তায় সিউড়ির স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। বিয়ের মরসুমকে মাথায় রেখে গয়না মজুত রাখবেন কি না সেই নিয়েও ধন্দে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের থেকে জানা গিয়েছে, ধনতেরসে আশানুরূপ ব্যবসা হয়নি সোনার দোকানগুলিতে। বিশেষ করে ধাক্কা খেয়ে ছিলেন ছোট ব্যবসায়ীরা। তারপর ভরসা ছিল বিয়ের মরসুম। কিন্তু অগ্রহায়ণ মাসেও সেইভাবে ক্রেতার মুখ দেখেননি সোনা ব্যবসায়ীরা। এখন ভরসা মাঘ ও ফাল্গুন মাস। কিন্তু গত একমাসে সোনার দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে আরও চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম কিছুটা কমলে ক্রেতারা দোকানমুখী হবেন। আর না কমলে আরও বিপাকে পড়বেন তাঁরা। এ নিয়ে সোনা ব্যবসায়ী কৃশানু ধারা বলেন, ‘‘আমাদের মতো ছোট সোনার কারিগরেরা কী ভাবে টিকে থাকব? সামনেই বিয়ের মরসুম কিন্তু একটাও বরাত পাই নি। গত এক বছর ধরে সোনার আগুন ছোঁয়া দামের কারণে কাজের কোনও চাপ নেই বললেই চলে।’’ ব্যবসায়ীদের থেকে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে সোনার দর ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার, জিএসটি ছাড়া ১০ গ্রাম পাকা সোনার দাম ছিল ৪১৪৩৫ টাকা, ১০ গ্রাম গয়না সোনার দাম ছিল ৩৯৩১০ টাকা এবং হলমার্ক গয়না ছিল ৩৯৯০০ টাকা। এই অবস্থায় সোনার ব্যবসা করা দায় উঠেছে ব্যবসায়ীদের পক্ষে।

সোনার ব্যবসায়ীরা জানান, পৌষ মাসে সেইভাবে সোনার বিকিকিনি না হলেও, মাসের মাঝখান থেকে বিয়ের অর্ডার আসতে শুরু করে তাঁদের কাছে। কারণ মাঘ আর ফাল্গুন মাস হল বিয়ের মরসুম। কিন্তু পৌষ মাস শেষ হতে শুরু চলল কিন্তু কোনও অর্ডার আসেনি। তাছাড়া এই সময় গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে সোনার গয়না কেনার একটু আগ্রহ থাকে। কারণ এই সময় ধান বিক্রি করে গ্রামাঞ্চলের মানুষের হাতে কিছু টাকা আসে। কিন্তু এখন দোকানে কোনও ক্রেতা নেই বললেই চলে।

Advertisement

স্বর্ণ ব্যবসায়ী তরুণকুমার সেন বলেন, ‘‘এ বছর এখন একটাও বিয়ের অর্ডার পাইনি। ক্রেতারা দাম কমার জন্য অপেক্ষা করছেন। দাম কমলেই তাঁরা দোকানে আসবেন।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমরা তো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ক্রেতার অর্ডার মত আমরা গয়না তৈরি করি। কিন্তু দাম না কমলে বড় দোকানে থেকে রেডিমেড গয়না কিনবেন। কারণ বিয়ের জন্য অল্প হলেও সোনার গয়না কিনবেন ক্রেতারা।’’

একই অবস্থা বড় দোকানেও। কলকাতার একটি বড় দোকানের সিউড়ি ও দুবরাজপুরের শাখার কর্ণধার মহম্মদ সেলিম ও শেখ মুজিবর বলেন, ‘‘এখনও কেউ সোনার দোকানে পা দিচ্ছেন না। গত কয়েকদিন আগেই হলমার্ক সোনার দাম ৪১ হাজার টাকা ছাড়িয়েছিল। বৃহস্পতিবার তাও দাম একটু কমে ৩৯৯০০ টাকা হয়েছে। কিন্তু দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা নেই।’’

Advertisement