E-Paper

গজিয়ে উঠছে হোটেল-লজ, নজরদারিতে প্রশ্ন

বিষ্ণুপুরে বছভর দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা আসেন। শহরে কমবেশি ৪০টি ছোট-বড় হোটেল রয়েছে। তার মধ্যে বেশির ভাগ কয়েক দশকের পুরনো।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৫ ০৮:১৭
বিষ্ণুপুরের এক হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র।

বিষ্ণুপুরের এক হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। নিজস্ব চিত্র।

কোথাও ঘিঞ্জি এলাকার মধ্যেই রয়েছে হোটেল-লজ। কোথাও আবার হোটেলে-লজে আগুন লাগলে তা নেভানোর জন্য সেখানে জলের ভান্ডার তৈরি করা হয়নি। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে একের পর এক হোটেল-লজ তৈরি হলেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কেমন, তা নিয়ে সংশয়ে বিভিন্ন মহল। কলকাতার বড়বাজারের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যুর পরে জেলার হোটেল-লজগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর
দাবি উঠেছে।

বিষ্ণুপুরে বছভর দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা আসেন। শহরে কমবেশি ৪০টি ছোট-বড় হোটেল রয়েছে। তার মধ্যে বেশির ভাগ কয়েক দশকের পুরনো। শাঁখারিবাজার, শেখপাড়া, রানারপুকুর ইত্যাদি এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি হোটেল ও কমিউনিটি হল ঘিঞ্জি গলিপথে রয়েছে। তার ফলে সেখানে দমকলের ইঞ্জিন কোনও ভাবেই ঢুকতে পারবে না।

বিষ্ণুপুর লজ ও হোটেল মালিক কল্যাণ সমিতির সম্পাদক অসিত চন্দ্র বলেন, ‘‘১৮টি লজ ও হোটেল সমিতির অন্তর্ভুক্ত আছে। তাদের নিয়মিত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে সচেতন করা হয়।’’ তবে দমকল বিভাগের বিরুদ্ধে নিয়মিত পরিদর্শনে না আসার অভিযোগ তুলছেন বিষ্ণুপুরের হোটেল মালিকদের একাংশ। এক লজ মালিক বলেন, ‘‘দমকল থেকে অগ্নি নির্বাপক রিজার্ভার গড়তে বলা হয়েছিল। কিন্তু তা করা সম্ভব হয়নি।’’ তবে নিয়মিত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ‘লাইসেন্স’ ও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের নবীকরণ করা হয় বলে তাঁরা জানাচ্ছেন। এক হোটেল মালিকের দাবি, ‘‘আগুন লাগলে কী ভাবে মোকাবিলা করা যাবে, সে প্রশিক্ষণ দিতে আমরা দমকলকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু তা হয়নি।’’

যদিও বিষ্ণুপুরের দমকল কেন্দ্রের এক আধিকারিক ফোনে মন্তব্য করতে চাননি। মহকুমাশাসক (বিষ্ণুপুর) প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, ‘‘পর্যটকদের স্বার্থরক্ষা করা আমাদের উদ্দেশ্য। শহরের হোটেল ও লজগুলির বাৎসরিক অডিট ও পরিকাঠামো ঠিকঠাক আছে কি না তা দমকল নজর রাখে।’’

মুকুটমণিপুর, শুশুনিয়া, বিহারীনাথ থেকে বাঁকুড়া শহরের হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করেছেন হোটেল মালিকেরা। বাঁকুড়া দমকল বিভাগও জানিয়েছে, প্রতি মাসে রুটিন মাফিক শহরের হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপক পরিকাঠামো পরিদর্শন করা হয়। হোটেলের মধ্যে থাকা অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রগুলি মেয়াদ উত্তীর্ণ কি না তা-ও নজর রাখা হয়। বাঁকুড়া দমকলের এক কর্তা বলেন, ‘‘প্রতিটি হোটেলে পরিকাঠামো অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ডের সময় জল সংরক্ষণের জন্য রিজার্ভার ও পাইপলাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে হোটেলের তরফে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ
করা সম্ভব হবে।’’

পুরুলিয়াতে অযোধ্যা পাহাড় ঘিরেই হিলটপ ও নিচে অন্তত একশো লজ-হোটেল আছে। বড়ন্তি, গড়পঞ্চকোটের মতো পর্যটনস্থলেও হোটেলের সংখ্যা কম নয়।
পুরুলিয়ার হোটেল অ্যান্ড লজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মোহিত লাটা বলেন, ‘‘বড় হোটেলের ক্ষেত্রে অন্যান লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করাতে গেলেই ফায়ার লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। তাই বড় হোটেলগুলি সমস্ত নিয়মই মেনে চলে।’’ যদিও ছোট ও মাঝারি হোটেলগুলিতে কতখানি নিয়ম মানা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।

দমকলের ব্যাখ্যা, পুরুলিয়া জেলায় অসংখ্য ছোট, মাঝারি হোটেল, লজ রয়েছে। সেখানে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ আছে কি না, কর্মীর অভাবে তা খতিয়ে দেখা সম্ভব হয় না। এক আধিকারিক বলেন, ‘‘১৪-২০ এপ্রিল ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহে পুরুলিয়া শহরের হোটেল, লজগুলি পরিদর্শন করা হয়েছে। সে ভাবে খামতি দেখা যায়নি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

bankura

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy