দলের কর্মীদের হাতেই আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুললেন এক বিজেপি কর্মী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের বালসী গ্রামের ঘটনা। আহত ওই নেতা বুদ্ধদেব পাল এক সময় বালসী পঞ্চায়েতে তৃণমূলের প্রধান ছিলেন। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।
এই ঘটনাকে বিজেপির ‘আদি বনাম নব্য’র লড়াই বলে কটাক্ষ করেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তথা বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি শ্যামল সাঁতরা। যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের দিকেই তাঁদের কর্মীর উপরে হামলার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত অগস্তি।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, আহত বুদ্ধদেববাবুকে চিকিৎসার জন্য বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার সকালে সেখান থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেননি। এসডিপিও (বিষ্ণুপুর) কুতুবউদ্দিন খান বলেন, ‘‘লিখিত অভিযোগ করলে, ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।’’
বুদ্ধদেববাবু জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বালসী মোড়ে তিনি নিজের দোকানে বসেছিলেন। সেই সময়ে তাঁর উপরে হামলা করা হয়। তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ‘‘আমি দোকানে বসেছিলাম। সেই সময়ে সিপিএমের এক সময়কার ‘হার্মাদ’ হিসেবে পরিচিত ও বর্তমানে বিজেপিতে নাম লেখানো কয়েকজন দুষ্কৃতী রড, টাঙ্গি, লাঠি নিয়ে চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে।’’ বুদ্ধদেববাবুর অনুগামীদের দাবি, এলাকা দখলে আনতে বিক্ষুব্ধেরা হামলা চালিয়েছে।
যদিও সিপিএমের পাত্রসায়র এরিয়া কমিটির সম্পাদক লালমোহন গোস্বামীর দাবি, ‘‘আমাদের দলে কখনই ‘হার্মাদ’ ছিল না। সিপিএমের কেউ ওই গোলমালে যুক্ত নয়।’’
বুদ্ধদেববাবু তাঁর উপরে হামলার জন্য দলের অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুললেও তা মানতে নারাজ বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আমাদের দলে কোনও গোষ্ঠী নেই। এটা তৃণমূলের সংস্কৃতি। বুদ্ধদেববাবু তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসেছিলেন। সে কারণে তৃণমূলের লোকেরাই তাঁকে মারধর করেছেন।’’ তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতির পাল্টা দাবি, ‘‘বিজেপির এখন ঘরে-ঘরে গোষ্ঠী। আদি ও নব্য বিজেপির এই অন্তর্দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষ সন্ত্রস্ত।’’