কোথাও ছড়ার মাধ্যমে শ্লেষ। কোথাও তীক্ষ্ণ কটাক্ষ। ভোটের ঘণ্টা বাজতেই বীরভূমের সদর সিউড়ির দেওয়ালে শুরু ‘শব্দ-যুদ্ধ’। ভোটের প্রচারে সেই যুদ্ধে যেমন একদিকে ঢালাও আশ্বাসের প্রতিশ্রুতি, অন্য দিকে প্রতিপক্ষকে ব্যঙ্গও রয়েছে। তবে সদরে এই লড়াইয়ে তৃণমূল বিজেপির থেকে অনেকটা পিছিয়ে বাম ও কংগ্রেস।
সিউড়ি শহর ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরলে এখন শুধুই রঙের কারিকুরি। এক জায়গায় চোখে পড়ল, বিজেপিকে আক্রমণ করতে তৃণমূলের নিশানায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী। জেলা সদরের দেওয়ালে ফুটে উঠেছে নরেন্দ্র মোদী ও রামচন্দ্রের আদলে ছবি। পাশে লেখা, ‘ছাড় আমায় ছাড়। আমাকে ছেড়ে একটা নির্বাচন করে দেখা।’ কোথাও আবার ছন্দের ছড়াছড়ি। সেখানে লেখা— ‘৮০ টাকার হাওয়াই চটি, ৩০০ টাকার শাড়ি; দশ লাখের স্যুটের চেয়ে অনেক বেশি ভারী।’ যা দেখে অনেকে বলছেন, মমতার সাধারণ জীবনযাপনকে সামনে রেখে গ্রাম বাংলায় নিজেদের প্রচার সারতেই এই বয়ান।
এই 'শব্দ যুদ্ধে' পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। বিজেপি-র দেওয়ালে নিশানায় দুই প্রতিপক্ষ। তৃণমূল ও বাম জমানাকে একাসনে বসিয়ে লেখা হয়েছে - ‘১৫ বছর চোরেদের দিলেন, ৩৫ বছর বাম; ৫টি বছর দিয়ে দেখুন কেমন রাখে রাম?’
রাজনীতি সচেতন মানুষরা বলছেন, দেওয়াল লিখন নির্বাচনী প্রচারের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ব্যানার বা ফেস্টুন এসেছে। ডিজিটাল প্রচারের দাপট বেড়েছে। কিন্তু দেওয়াল দখলের লড়াই আজও অমলিন। প্রযুক্তির যুগেও এই ঘরানা ব্রাত্য নয়। বরং তা এখনও সমান প্রাসঙ্গিক। সাধারণ মানুষ আজও দেওয়ালের লেখায় চোখ রাখেন, আগ্রহ পান। তাই ভোট মরসুমে প্রচারের এই মাধ্যমকেও পুরোদস্তুর ব্যবহারে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলি। তৃণমূল যেমন রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষার প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, যুবসাথীর কথা তুলে ধরছে, তেমনই বিজেপি তারা এলে কী করবে সেই আশ্বাসের কথা জানাচ্ছে।
এই নিয়ে তৃণমূলের সিউড়ির প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রতিটি দলই নিজেদের মতো দেওয়াল লিখন করবে, করেছে। আমরা আমাদের মতো করেছি।’’ বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দেওয়াল লিখন হল ভোট প্রচারের এক পরম্পরা। আমরাও আমাদের মতো প্রচার করেছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)