Advertisement
E-Paper

জমি হাতাতেই ছক, দাবি তদন্তে

বাসিন্দারা জানান, প্রাথমিক ভাবে চুরিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টায় বলে মনে হলেও আক্রমণের পিছনে রহস্য বা অভিসন্ধি রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০১৭ ০০:৫৯

নিজের নামে দু’ বিঘা জমি রাখাই কাল হয়েছিল। ঘুমের মধ্যেই আক্রান্ত হয়ে খুন হতে হয় বৃদ্ধকে! রবিবার সিউড়ি ২ ব্লকের সেই বৃদ্ধ খুনের ঘটনায়, নিহতের পুত্রবধূ-সহ মোট ২জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তারা জানিয়েছে, পুত্রবধূর নাম মীরা সাধু। অপরজন ওই গ্রামেরই বাসিন্দা শেখ আজিত। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, খুনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে সন্দেহে শনিবারই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পরে উভয়কেই রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।

চলতি মাসের ৩ তারিখ রাতে সিউড়ি ২ ব্লকের দমদমা গ্রামে রাতের অন্ধকারে বাড়িতে ঢুকে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বৃদ্ধ নির্মল সাধুর বাড়িতে। হামলায় মারত্মক জখম হন গ্রামের বাসিন্দা বছর পঁচাত্তরের নির্মলবাবু ও তাঁর বিধবা মেয়ে ঝর্ণা বণিক। ধারালো অস্ত্রে জখম উভয়কে সিউড়ি হাসপতালে ভর্তি করানো হয়। মেয়ে বেঁচে গেলেও মৃত্যু হয় নির্মলবাবুর। জখম ঝর্ণা দেবীর দাবি ছিল, বাড়িতে রাতের বেলায় চোর ঢুকে ছিল বাধা দেওয়ায় তাঁদের উপর হামলা চালায় তাঁরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দমদমা গ্রামের ঘোষ পাড়ায়, একতলা পাকা বাড়িতেই থাকতেন বৃদ্ধ নির্মলবাবু ও ঝর্ণা দেবী। ঝর্ণাদেবী স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী। ওই বাড়িতে একটু তফাতে আলাদা থাকেন নির্মলবাবুর ছেলে পরশমানিক সাধুর পরিবার। ঝর্ণাদেবী জানিয়েছিলেন, ‘‘সেই রাতে আচমকাই মুখ ঢাকা চোরেরা ঢুকে পড়েছিল ঘরের মধ্যে। গ্যাস জাতীয় কিছু দিয়েছিল হয়তো। কানের দুল টানার পরেই ঘুম ভাঙে আমার। আর কী আছে জানতে চাইলে বলি, আমাদের কিছু নেই। তারপরই ছুরি দিয়ে আঘাত করে আমাকে। এবং বাবার ঘরের দিকে যায়।’’

ঘটনা হল, এলাকাবাসী ঝর্ণাদেবীর দাবির সঙ্গে একমত ছিলেন না।

বাসিন্দারা জানান, প্রাথমিক ভাবে চুরিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টায় বলে মনে হলেও আক্রমণের পিছনে রহস্য বা অভিসন্ধি রয়েছে। এমন চিন্তার পিছনে স্থানীয় বাসিন্দাদের যুক্তি ছিল, এমনিতে কারও সঙ্গে বিবাদ ছিল না। বৃদ্ধ বহু কাল আগেই তাঁর ২০ বিঘা সম্পত্তির ১৮ বিঘা ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন। স্থানীয়রা বলেন, ‘‘সামান্য জমি আর অঙ্গনওয়াড়ির কর্মী হিসাবে কাজ করে কতো টাকা জমিয়েছেন যে ওদের বাড়িতে চুরি হবে। সামান্য কানের দুলের জন্য এত মারাত্মক আক্রমণ হবে কেন। অতএব ওই বাড়িতে শুধু চুরি নয় খুনের উদ্দেশ্যই ঢুকেছিল চোর।’’

তাঁরা দাবি তুলেছিলেন পুলিশ কুকুরের। বুধবার কুকুর এসে নির্মলবাবুদের ঘরে, ছাদে, পাশের পুকুরে যাওয়ার পাশাপাশি পুত্র পরশমানিকদের বাড়িতেও যায়। আততায়ীর সঙ্গে ওই বাড়িরে সম্পর্কের ইঙ্গিত পুলিশ কুকুই দিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে প্রথম সন্দেহ যায় পুত্রবধূ মীরা সাধুর উপরেই। এবং পুলিশ জানতে পেরেছিল, মীরা দেবীর সঙ্গে শেখ আজিতের একটা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এর সঙ্গে শ্বশুর ননদের উপর হামলার কারণ স্পষ্ট ছিল না।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, আজিতের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে ধোঁয়াশা থাকেলও সম্পত্তিই এখানে মূল বিষয়। বাকি দুই বিঘা জমি এবং প্রয়াত শাশুড়ির নামে একটি বসত ভিটেও নিজেদের নামে লিখিয়ে নেওয়া চক্রান্ত করেছিলেন মীরা দেবী। সেখানেই পরিচিত আজিতেকে কাজে লাগান তিনি। হয়ত টাকা পয়সার বিনিময়ে। জেরায় প্রথামিকভাবে তেমনটাই জানিয়েছেন অভিযুক্তরা। বাবা ও দিদির উপর হামলায় ঘটনায় স্ত্রীর জড়িত থাকার বিষয় মানতে পারেননি পরশমানিক সাধু। তাঁর দাবি, স্ত্রী নির্দোষ। গ্রামবাসীরা অবশ্য পুলিশের তদন্তকেই সঠিক ভাবছে। আজ সোমবার ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে সিউড়ি আদালতে তুলবে পুলিশ।

Arrest Murder
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy