বিরতি শেষে ফিরছে ওরা। ডানায় করে আনছে হাজারও গল্প। একদা আদ্রার সাহেববাঁধে ভিড় জমাত পরিযায়ী পাখিরা। তবে গত কয়েক বছরে পাখির আনাগোনা কমেছে। কিন্তু এ বছরে নতুন করে ফের রঘুনাথপুরের বারিকবাঁধে আসতে শুরু করেছে বেশ কিছু পরিযায়ী পাখির দল। বন দফতর সূত্রে খবর, রঘুনাথপুরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রান্তে থাকা রঘুনাথপুর- চেলিয়ামা রাস্তার পাশে বারিকবাঁধে চলতি মরসুমে এসেছে ভিন্ দেশি অতিথিরা।
কোন কোন পাখির দেখা মিলছে? বন দফতর জানাচ্ছে, বারিকবাঁধে দেখা মিলেছে ‘পিজেন্ট টেলড জাকান’, ‘লিটিল গ্রেব’, ‘লেজার হুইসলিং টিল’, ‘মুর হেন’ প্রজাতির পাখি। রঘুনাথপুর ১ ব্লকের বিট অফিসার শ্রীমন্ত বেলথরিয়া পাখিদের ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘বারিক বাঁধে কিছু পরিযায়ী পাখির দেখা মিলেছে, যা ইতিবাচক।’’
নতুন করে বারিক বাঁধে পরিযায়ী পাখির দেখা পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত পক্ষীপ্রেমীরা। ওই এলাকাতেই প্রাতর্ভ্রমণে যান শহরের কিছু বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে রঘুনাথপুর এমএম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আকাশ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘শীতের মাঝামাঝি সময় থেকে বারিকবাঁধে বেশকিছু অজানা প্রজাতির পাখি দেখা গেছে। ওই সমস্ত পাখি আগে কখনও এই এলাকাতে দেখিনি। স্বভাবতই কৌতুহলী হয়ে পড়েছিলাম।’’
শহরের উপকণ্ঠে প্রায় তিন একর জমির ওপরে বারিকবাঁধে পরিযায়ী পাখির দল আসার খবরে উচ্ছ্বসিত পুরপ্রধান তরণী বাউড়ি। প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাঁধ সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে পুরসভা। কাজে হাত দেওয়ার আগে বন দফতরের সঙ্গে আগাম আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছেন পুরপ্রধান।
বন দফতর সূত্রে খবর, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, আফ্রিকা, নিউগিনি থেকে বারিকবাঁধে আসছে পরিযায়ী পাখির দল। রঘুনাথপুরের রেঞ্জ অফিসার নীলাদ্রি সখা বলেন, ‘‘বারিকবাঁধে পরিযায়ী পাখিদের আসার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সমীক্ষার মাধ্যমে কোন কোন প্রজাতির পাখি কখন, কোথা থেকে আসছে সেই তথ্য সংগ্রহ করে রাখতে চাইছি আমরা।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)