জট কাটাতে বৈঠক ডেকে সমাধান সূত্র বের করেছিলেন খোদ দলের জেলা সভাপতি। তার পরেও অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশকে অগ্রাহ্য করে খয়রাশোল পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সভানেত্রী অসীমা ধীবরের বিরুদ্ধে জমা পড়ল অনাস্থা প্রস্তাব!
শুক্রবার এসডিও (সিউড়ি সদর) অরুন্ধতী ভৌমিকের কাছে জমা পড়া ওই প্রস্তাবে সমিতির ২৬ জনের মধ্যে ১৫ জন সদস্যই সই করেছেন। অরুন্ধতীদেবী বলেন, ‘‘ওই পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রীর বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়েছে। সেই প্রস্তাবের বৈধতা খতিয়ে দেখে পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।’’ শীঘ্রই আস্থা ভোটের দিন ধার্য করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূল সূত্রের খবর, দরপত্র ডাকা থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়াকে ঘিরে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের বিরাগভজন হয়েছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী অসীমাদেবী। তাঁর বিরুদ্ধে যে অনাস্থা আসতে চলছে, তা আন্দাজ করেই গত ৬ ডিসেম্বর খয়রাশোলের স্থানীয় নেতৃত্বকে ডেকে সিউড়িতে দলীয় কার্যালয়ে একটি বৈঠক করেন অনুব্রত। সেখানে একটি মীমাংসার রাস্তায় হেঁটেছিলেন তিনি। ছ’জনের একটি কমিটি অসীমাদেবীর মাথায় বাসানো হয়েছিল। কিন্তু তিন দিন যেতে না যেতেই জেলা সভাপতির নির্দেশ অগ্রাহ্য করলেন স্থানীয় নেতৃত্ব।
অনুব্রতর তৈরি করা কমিটিতে রয়েছেন খয়রাশোলের তৃণমূল ব্লক সভাপতি সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, ‘‘অসীমার নিরুদ্ধে অনাস্থা জমা হয়েছে, তা জানতাম না। দলগত ভাবে আলোচনা করে দেখছি।’’ অন্য দিকে, কমিটিতে থাকা এলাকার প্রভাবশালী নেতা দীপক ঘোষের দাবি, ‘‘অনাস্থার সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই। এটা সদস্যদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’’ নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সদস্যেরা দাবি করছেন, উপতলার নেতাদের বলে দেওয়া এই সমাধান-সূত্র তাঁদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। তাই তাঁরা অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেছেন।
খবর কানে এসেছে অসীমাদেবীরও। তাঁর বক্তব্য, ‘‘কেউ অনাস্থা আনলে কী আর করা যাবে। দলই সিদ্ধান্ত নিক।’’ এ দিন অনুব্রতর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।