গঙ্গাসাগর মেলায় যাচ্ছে বাঁকুড়ার জঙ্গলের শালপাতার থালা ও বাটি। রাজ্যের পরিবেশ দফতর সে জন্য প্রায় দু’লক্ষ শালপাতার থালা ও চার লক্ষ বাটি তৈরির বরাত দিয়েছে রাইপুরের ডিআরএমএস ল্যাম্পস (লার্জ এরিয়া মাল্টিপারপাস সোসাইটিস) ও সারেঙ্গার সিএনজিএস ল্যাম্পসকে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় আট লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যেই থালা-বাটি তৈরির কাজ শেষ। আজ, মঙ্গলবারই গাড়িতে সেগুলি গঙ্গাসাগর-বকখালি উন্নয়ন পর্ষদের কাছে পাঠানো হবে।
রাজ্যের পরিবেশ দফতরের আর্থিক সহায়তায় এবং আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের সহযোগিতায় রাইপুর ও সারেঙ্গা ব্লকে শালপাতার থালা ও বাটি তৈরির দু’টি ইউনিট চালু করা হয়। সেখানে স্থানীয় আদিবাসী স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর বহু মহিলা ও পুরুষ শালপাতার থালা-বাটি তৈরির কাজ করে বাড়তি রোজগার করছেন।বস্তুত গত কয়েক বছর ধরেই পরিবেশ দফতরের উদ্যোগে গঙ্গাসাগর মেলায় রাইপুরের ওই ল্যাম্পস শালপাতার থালা-বাটি সরবরাহ করছে। এ বারই প্রথম বরাত পেয়েছে সারেঙ্গার ওই ল্যাম্পস।
রাইপুর ব্লকের সোনাগাড়া পঞ্চায়েতের ঝারিয়াকোচা পারসিমালা মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য অর্চনা মুর্মু বলেন, ‘‘আগে শালপাতা বিক্রি করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হত। এখন জঙ্গল থেকে শালপাতা সংগ্রহ করে সেগুলো ভাল ভাবে শুকিয়ে ল্যাম্পস-এর কাছে বিক্রি করা যায়। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে। সংসারের সুরাহা হয়েছে।’’
সারেঙ্গা ব্লকের ঝারনা মহিলা স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর সদস্য জবা মাণ্ডি, রাইপুর ব্লকের রাওতোড়া শিশির জালি মহিলা স্বয়ম্বর গোষ্ঠীর সদস্য কাপুরমনি মুর্মু জানান, তাঁরা নিয়মিত ওই ইউনিটে শালপাতার থালা ও বাটি সেলাই করেন। প্যাকেট করেন। গঙ্গাসাগর মেলায় বরাত পেয়ে তাঁরা বড় কাজের সুযোগ পেয়েছেন। তাই বাইরে আর কাজের খোঁজে যেতে হচ্ছে না। তাঁদের কথায়, ‘‘এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনই পরিবারেও স্বচ্ছলতা এসেছে।’’ ডিআরএমএস ল্যাম্পস-এর ম্যানেজার চন্দন চৌধুরী ও সিএনজিএস ল্যাম্পস্-এর ম্যানেজার দুর্গাপ্রসাদ মাণ্ডি বলেন, ‘‘রাইপুর ব্লকের প্রায় ১৫০টি আদিবাসী পরিবার ও সারেঙ্গা ব্লকের ২০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রায় ৮০টি পরিবার এখানে যুক্ত। গঙ্গাসাগর মেলার মতো বড় সরকারি অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন মেলায় যদি ভবিষ্যতেও শালপাতার থালা-বাটির বরাত পাওয়া যায়, তাহলে ল্যাম্পসগুলো আরও শক্তিশালী হবে। সেখানে যুক্ত আদিবাসী মানুষজনের জীবনের মানোন্নয়নও ঘটবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)