Advertisement
E-Paper

নিজেদের সাইট খুলছে রাষ্ট্রপতির স্কুল

সেটা ছিল ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির বছর। এক স্বাধীনতা সংগ্রামী তাঁর ছেলে পল্টুকে নিয়ে এসে কীর্ণাহার স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করেছিলেন। সেই ছেলেই এখন স্বাধীন ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি। আর সেই কীর্ণাহার শিবচন্দ্র হাইস্কুলের ওয়েবসাইটে এ বার থেকে মিলবে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্কুল জীবনের নানা কথা।

অর্ঘ্য ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৪৯

সেটা ছিল ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির বছর। এক স্বাধীনতা সংগ্রামী তাঁর ছেলে পল্টুকে নিয়ে এসে কীর্ণাহার স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করেছিলেন। সেই ছেলেই এখন স্বাধীন ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি। আর সেই কীর্ণাহার শিবচন্দ্র হাইস্কুলের ওয়েবসাইটে এ বার থেকে মিলবে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্কুল জীবনের নানা কথা।

স্কুলের নথি থেকে জানা যায়, প্রণববাবুর বাবা স্বাধীনতা সংগ্রামী কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় তাঁকে এই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করেন। ভর্তির খাতায় অভিভাবক হিসাবে সই রয়েছে তাঁর। ১৯৫১ সালে কীর্ণাহার শিবচন্দ্র হাইস্কুল থেকে স্কুল ফাইনাল পাশ করেন রাষ্ট্রপতি। স্কুলে এখনও যত্ন করে তুলে রাখা আছে তাঁর যাবতীয় সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট। সেই সমস্ত নথি তুলে দেওয়া হবে স্কুলের তৈরি হতে চলা ওয়েবসাইটে।

পরবর্তী কালে স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসেছেন প্রণববাবু। বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া বেশকিছু স্মারকও ছেলেবেলার স্কুলকে উপহার দিয়েছেন। ২০১২ সালে তা দিয়ে স্কুলে একটি সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হয়। ওয়েবসাইটে থাকতে চলেছে সেই সমস্ত অনুষ্ঠানের ছবি। ২০০১ সালে স্কুলের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে এসেছিলেন কেন্দ্রের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণববাবু। সেই সময় বক্তৃতায় নিজেই বলেছিলেন, এই স্কুলটি গড়ে না উঠলে কীর্ণাহারের ছেলেটিকে ভারত হয়ত অর্থমন্ত্রী হিসাবে পেতই না। ওয়েবসাইটে শোনা যাবে সেই বক্তৃতাও। এ রকম নানা স্মৃতিচারণায় তাঁর মুখ থেকেই শোনা যাবে স্কুলের বিতর্কসভায় যোগ দেওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে ইংরাজিতে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রসঙ্গ।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নীলকমল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে তাঁরা রাষ্ট্রপতির স্কুল জীবনের ছবি এবং তথ্য জোগাড় করা শুরু করে দিয়েছেন। তবে শুধু প্রণববাবুই নন, প্রাক্তন কৃতী ছাত্র হিসাবে ওয়েবসাইটে থাকছে কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আব্দুল হালিম, বিধানসভার প্রাক্তন সচিব প্রয়াত শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতার প্রাক্তন শেরিফ সুনীল ঠাকুর, গবেষক মৃণাল ঠাকুর, সাংবাদিক দেবব্রত ঠাকুর, সাহিত্যকর্মী নাসিম এ আলম-সহ বেশ কয়েকজনের কথাও। স্কুলের শিক্ষক অরুণ রায় জানান, স্কুলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পরিচালন সমিতির সভাপতি এবং সম্পাদকের নামও থাকবে ওয়েবসাইটে। এত দিন পর্যন্ত প্রকাশিত সমস্ত স্কুল ম্যাগাজিনও পাওয়া যাবে ওয়েবসাইট থেকে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মূলত জমিদার শিবচন্দ্র সরকারের পরিবারের সহায়তায় গড়ে উঠেছিল এই স্কুলটি। তার বিশদ খতিয়ান-সহ মিলবে স্কুল তৈরির প্রধান উদ্যোক্তাদের পরিচিতিও। এই খবরে খুশি সরকার পরিবারের বর্তমান সদস্যরা।

স্বেচ্ছাশ্রমে স্কুলের ওয়েবসাইট তৈরি করছেন দুই প্রাক্তন ছাত্র চিরঞ্জিৎ ঘোষ এবং সৌমেশ মণ্ডল। দু’জনেই বর্তমানে বর্ধমানের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্র। তাঁরা জানালেন, কলেজের প্রজেক্ট হিসাবে তাঁদের একটি মৌলিক ওয়েবসাইট তৈরি করতে হতো। তাঁরা বলেন, ‘‘এই সুযোগে গুরুদক্ষিণাটা সেরে ফেলার কথা মাথায় আসে।’’

এ বার থেকে ওয়েবসাইটেই পাওয়া যাবে স্কুলে ভর্তির ফর্ম থেকে শুরু করে পরীক্ষার ফল পর্যন্ত যাবতীয় কিছু। পাশাপাশি পড়াশোনার জন্য দরকারি পরামর্শও পাওয়া যাবে ওয়েবসাইট থেকে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে নতুন বছরের শুরুতেই চালু হবে ওয়েবসাইটটি। রাইসিনা হিলস থেকে অনলাইনে প্রণববাবুর হাত দিয়ে ওয়েবসাইট উদ্বোধন করানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি নাসিম এ আলম এবং সম্পাদক শুভাশিস দত্ত জানান, এ ব্যাপারে স্কুলের তরফে প্রণববাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy