Advertisement
E-Paper

ছাত্রের মৃত্যুতে রহস্য বাঁকুড়ায়

কীটনাশক খাওয়া এক পলিটেকনিক ছাত্রকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করিয়ে দিয়ে উধাও হয়ে গেলেন তরুণী। পরে সেই ছাত্রের মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবার এক তরুণীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ তুললেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৭ ০১:১৯
শোকার্ত: ছেলের দেহ আঁকড়ে মা। বাঁকুড়া মেডিক্যালে। নিজস্ব চিত্র

শোকার্ত: ছেলের দেহ আঁকড়ে মা। বাঁকুড়া মেডিক্যালে। নিজস্ব চিত্র

কীটনাশক খাওয়া এক পলিটেকনিক ছাত্রকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করিয়ে দিয়ে উধাও হয়ে গেলেন তরুণী। পরে সেই ছাত্রের মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবার এক তরুণীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ তুললেন। অভিযুক্ত তরুণীই কি ছাত্রটিকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে এসেছিলেন? ধন্দ কাটেনি পুলিশের। মঙ্গলকোটের তরুণের মৃত্যুতে রহস্য দানা বেঁধেছে বাঁকুড়ায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই ছাত্র শাহিন সেখ (১৮) পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট থানার গোতিষ্ঠা এলাকার বাসিন্দা। শনিবার রাত আটটা নাগাদ তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাঁকুড়া মেডিক্যালে ভর্তি করে দিয়ে যান এক তরুণী। সেই সময়ে কোনওরকমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহিনের কাছ থেকে তাঁর বাড়ির নম্বর জোগাড় করে রাতেই ফোনে খবর দেন। গভীর রাতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় এক তরুণীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ তুলছেন শাহিনের পরিবার। তাঁদের দাবি, বাঁকুড়ার এক তরুণীর সঙ্গে শাহিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মনোমালিন্য হওয়াতেই শাহিন কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার বাঁকুড়া মেডিক্যালে ওই যুবকের দেহের ময়না-তদন্ত করে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দেহ নিয়ে যাওয়ার সময় মৃতের পরিবার তরুণীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পুরো ঘটনাটি লিখিত ভাবে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশকে জানান। পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত তারা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করছেন। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে এসেছিল, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এ দিন বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে মৃত ছাত্রের বাবা ফজু সেখ জানান, তাঁর ছেলে আল আমিন মিশনের হাওড়ার একটি কেন্দ্র থেকে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়। তারপরে পুরুলিয়ার একটি পলিটেকনিক কলেজে ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে পড়ছিলেন। এখন তিনি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পেশায় কৃষক ফজু সেখের দাবি, ‘‘আল আমিন মিশন থেকেই বাঁকুড়া শহরের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে শাহিনের। ঘটনাটি শাহিন তার মাকে জানিয়েছিল। পুজোর ছুটিতে বাড়ি গিয়ে শাহিন তার মাকে জানিয়েছিল, ইদানীং তাদের প্রেমের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। আমরা দুঃস্থ হওয়ায় মেয়েটির বাবা-মা ওদের সম্পর্ক মেনে নিতে চাইছেন না। মেয়েটিও এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল।’’

তিনি জানান, পুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পরে গত অক্টোবরের শেষ দিকে বাড়ি থেকে পুরুলিয়ায় ফিরে যান শাহিন। শনিবার দুপুরে তাঁর মা আলিয়া বিবির সঙ্গে শাহিনের শেষবারের মতো কথা হয়। তখন শাহিন জানিয়েছিল, সে কলেজে রয়েছে। তারপর থেকে ছেলের সঙ্গে আর কথা হয়নি তাঁদের। তাঁর কথায়, ‘‘তাই রাত ১০টা নাগাদ বাঁকুড়া মেডিক্যাল থেকে ছেলে অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়েছে বলে ফোনে খবর পেয়ে চমকে গিয়েছিলাম।’’

রাতেই তিনি গাড়ি ভাড়া করে স্ত্রী ও কয়েকজন পড়শিকে নিয়ে বাঁকুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। রাত দুটো নাগাদ তাঁরা বাঁকুড়া মেডিক্যালে ঢোকেন। ফজু সেখ বলেন, “হাসপাতালে ঢুকেই দেখি ছেলে হেঁচকি তুলছে ও বমি করছে। ঘণ্টাখানেক ধরে এ ভাবে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত ছেলেটা মারা গেল।’’ রবিবার বাঁকুড়া মেডিক্যালে গিয়ে দেখা গেল, ছেলের দেহের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আলিয়া বিবি। ছেলের মৃত্যুর বিচার চাইছেন তিনি। ফজু সেখ অভিযোগ করেন, “আমার ছেলের মৃত্যুর পিছনে ওই তরুণীর হাত রয়েছে। আমরা চাই পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত করুক।”

তিনি জানান, শাহিনের পকেট থেকে প্লাস্টিক ও কাগজে মোড়া কীটনাশক মিলেছে। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, শাহিন শনিবার তাঁর প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে বাঁকুড়ায় এসেছিলেন। কোনও কারণে মতান্তর হওয়ায় তিনি কীটনাশক খান। তারপরে হয়তো সেই তরুণীই ওঁকে মেডিক্যালে ভর্তি করে যান। অন্য কোনও সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Death Mystery Student Poison Bankura Medical College
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy