রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দেওয়া প্রতিটি শর্তই তো প্রায় পূরণ করা হয়েছে। তাহলে কোথায় অসুবিধে। কেন লাইসেন্স পাচ্ছে না বীরভূম কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্ক। এমন নানা প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর জানতে ব্যাঙ্কের সিইওকে স্মারকলিপি দিলেন ব্যাঙ্কের স্থায়ী অস্থায়ী ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শতাধিক কর্মী। বুধবার ব্যাঙ্কের কাজ শেষে বিকাল পাঁচটার পর ওই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
ঘটনা হল, জুন মাসে এসে একই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়কেও। কেন লাইসেন্স দিচ্ছে না রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সেটা খতিয়ে দেখবেন কথাও দিয়েছিলেন নতুন সমবায় মন্ত্রী। তবে সেবার প্রশ্ন এসেছিল সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে।
প্রসঙ্গত বিপুল খেলাপি ঋণ অনাদায়ী থাকায়, গত ২০১৪-র মে মাসের ১৫ তারিখ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করার পর থেকেই জেলার ১৭টি শাখায় লেনদেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দেড় বছর বন্ধ থাকার পর, গত অক্টোবরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে খুলেছে সমবায় ব্যাঙ্ক। কোর ব্যঙ্কিং সিস্টেম চালু করা, ঋণ আদায়ে জোর দিয়ে ব্যাঙ্কের আর্থিক স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনার মতো বেশ কয়েকটি শর্তপূরণ করলে তাবেই মিলবে ছাড়পত্র জানিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ফলে, ব্যাঙ্ক খুললেও স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করতে পারেছিল না ব্যাঙ্ক। তা সত্বেও গত মার্চ থেকে আমানতকারিদের কিছু টাকা প্রতিমাসে ফেরাতে শুরু করেছে ব্যাঙ্ক। তবুও মেলেনি লাইসেন্স। কবে দেবে স্পষ্ট নয় সেটাও।
সিইও অজয় গিরি বলেন, ‘‘বাস্তবিকই প্রায় সব শর্ত পূরণ হয়েছে। ব্যাঙ্কের লিক্যুইডিটি সীমিত থাকায় গ্রাহকেরা ইচ্ছে মতো টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। একটি বিষয়ে কিছু জটিলতা থাকায় লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে সমস্যা ছিল। সেটাও কেটেছে। আশাকরি খুব দ্রুত লাইসেন্স পাবে। তবে খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’’