দু’দিন ও তিন রাত বিদ্যুৎ নেই চাতরা পশ্চিম বাজারে। বিষয়টি বিদ্যুৎ দফতরে জানিয়ে কোনও সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রবিবার সন্ধ্যায়ও এলাকায় বিদ্যুৎ আসেনি।
বাসিন্দাদের একাংশ জানান, শুক্রবার রাত থেকে দুর্ভোগ শুরু হয়। চাতরা গোডাউন মোড়ের কাছে একটি ট্রান্সফর্মার রয়েছে। সেখান থেকে পূর্ব বাজার ও পশ্চিম বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। পশ্চিম বাজার বিদ্যুতের এগারো হাজার ভোল্টের কেব্ল রেল লাইনের নীচ দিয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এই কেব্ল লাইনে কোথাও ছিঁড়ে যাওয়ার বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে দুই বাজারেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পূর্ব বাজারের বাসিন্দারা বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের পশ্চিম বাজারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পূর্ব বাজারে বিদ্যুৎ চালু করার দাবি তোলেন। তাঁদের মতে, পশ্চিম বাজারের কেব্ল লাইন ঠিক হওয়ার জন্য তাঁরা কেন অপেক্ষা করবেন? এর পরে পূর্ব বাজারে বিদ্যুৎ এলেও পশ্চিম বাজারের দু’দিনেও বিদ্যুৎ আসেনি। পশ্চিম বাজারের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই গরমে যেখানে এক ঘন্টা বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা যায় না, সেখানে ৫০ ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুৎ নেই। কয়েক'শো পরিবার সমস্যায় রয়েছেন। বয়স্ক, শিশু ও রোগীদের প্রচণ্ড কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়েছে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বভাবিক না হওয়ায় ক্ষোভ বেড়েছে এলাকায়।
চাতরার বাসিন্দা ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান বঙ্কিমবিহারী সাহা বলেন, " এই সমস্যা বহু বছর ধরে চলে আসছে। রেল লাইনের নীচে দিয়ে বিদ্যুতের কেব্ল যাওয়ার ফলে এই ঘটনা। রেল দফতরের সঙ্গে বিদ্যুৎ দফতর যোগাযোগ করে এই সমস্যা সমাধানে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জলের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। জল কিনে ব্যবহার করছেন অনেকেই।"
এলাকার বাসিন্দা জাহির হাসনাইন, দেবু বিশ্বাসরা বলেন, "এই গরমে বিদ্যুৎবিহীন ভাবে এত ঘণ্টা যে কী ভাবে কাটছে বলে বোঝানো যাবে না। শিশুরা ঘুমোতে পারছে না। বয়স্কদের একই অবস্থা। এ ভাবে চলতে থাকলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়বেন। আন্দোলন করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।"
চাতরা পঞ্চায়েতে সদস্য ও এলাকার বাসিন্দা অসিতকুমার দাস বলেন, "এই সমস্যা নিয়ে মুরারই বিদ্যুৎ দফতরে অফিসে গিয়েছিলাম শনিবার। এক আধিকারিক দ্রুত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রেলের নীচে দিয়ে কেব্ল যাওয়ায় দীর্ঘদিনের সমস্যা। অন্য জায়গায় কেব্ল নিতে আবেদন করা হয়েছে।" রবিবার মুরারই ও রামপুরহাট মহকুমার বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বহু বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)