ভারত-পাকিস্তান পাসপোর্ট! এসআইআরের শুনানিতে বাবার নামে থাকা এমন পাসপোর্ট নথি হিসাবে এনেছিলেন ছেলে। অনেকেই তেমন পাসপোর্ট দেখেননি। মিলত বলেও শোনেননি। তাই বীরভূমের সিউড়ি ১ ব্লকের শুনানিকেন্দ্রে সেই পাসপোর্ট দেখতে ভিড় জমে যায়। এক টুকরো ইতিহাসকে ছুঁয়েও দেখেন অনেকে।
সিউড়ির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মলয় গুহ ও তাঁর ছেলে অভিনয় গুহকে এসআইআরের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। মলয়ের নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল না। মলয়ের কাছে তাঁর বাবা অনুকূলচন্দ্র গুহের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে কোনও নথিই ছিল না৷ হঠাৎ মনে পড়ে, বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে যত্নে রাখা অনুকূলচন্দ্রের ভারত-পাকিস্তান পাসপোর্টের কথা৷ মঙ্গলবার তাই সিউড়ি ১ ব্লকের শুনানিকেন্দ্রে নিজের নথির পাশাপাশি, বাবার নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে পাসপোর্টও নিয়ে যান মলয়। তাঁর হাতে ওই পাসপোর্ট দেখে কৌতূহলী অনেকেই এগিয়ে আসেন। জানতে চান, পাসপোর্টের ইতিহাস। অনেকেই মজা করে বলেন, এসআইআর না হলে এমন পাসপোর্টের অস্তিত্বের কথা জানাই যেত না!
মলয় জানান, অনুকূলচন্দ্রের জন্ম পূর্ববঙ্গের বরিশাল জেলার স্বরূপকাঠি গ্রামে৷ সেখান থেকে ১৯৪০ সাল নাগাদ সপরিবার কলকাতার টালিগঞ্জ এলাকায় চলে আসেন। অশোকনগর হাই স্কুলে শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন অনুকূলচন্দ্র। তবে পূর্ববঙ্গে জমিজমা ও অন্যান্য সম্পত্তির সূত্রে যাতায়াত লেগেই থাকত। এরই মাঝে হল দেশভাগ। অনুকূলচন্দ্র রইলেন পশ্চিমবঙ্গে। তাঁর জমি ও সম্পত্তি পূর্ব পাকিস্তানে৷ তখনই এই পাসপোর্ট করান অনুকূল। বার দুয়েক পূর্ব পাকিস্তানেও (তখনও স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়নি) যান৷
মলয়ের কথায়, “বাবার এই দ্বৈত পাসপোর্ট দীর্ঘদিন ধরে যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করেছি৷ এসআইআরে বাবার নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে আমার ধারণা, এর থেকে জোরালো আর কিছু নেই। তাই শুনানিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। এত মানুষ এই পাসপোর্ট দেখতে চেয়েছেন দেখে ভাল লাগছে।”
সিউড়ির বাসিন্দা, ত্রিপুরার একটি স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক সোমনাথ নন্দী বলেন, “১৯৫৩ সালে ভারত-পাকিস্তানের একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে এই যৌথ পাসপোর্টের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ১৯৬৭ পর্যন্ত এই পাসপোর্ট দেওয়া হত বলে জানা যায়৷ তবে হাতে গোনা কিছু মানুষ এই পাসপোর্ট পেয়েছিলেন। এটি নিঃসন্দেহে এক টুকরো ইতিহাস!”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)