E-Paper

দশক আগে তৈরি স্কুল বন্ধই

এলাকাবাসীর দাবি, স্কুল ভবন তৈরির কাজ দেখে তাঁদের মনে আশা জেগেছিল, এ বার হয়তো তাঁদের ছেলেমেয়েদের আর দূরে পড়াশোনা করতে যেতে হবে না।

অমিতকুমার মাহাতো

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৪
আগাছায় ভরেছে বান্দোয়ানের কুচিয়ার খড়বন জুনিয়র হাই স্কুল চত্বর।

আগাছায় ভরেছে বান্দোয়ানের কুচিয়ার খড়বন জুনিয়র হাই স্কুল চত্বর। নিজস্ব চিত্র।

বছরের পর বছর ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্কুলভবন। অথচ শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। নেই পড়ুয়াও। বান্দোয়ানের কুচিয়ার খড়বন জুনিয়র হাই স্কুলের এমনই অবস্থায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রের খবর, জঙ্গলমহলের‌ প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের সুবিধার্থে ২০১৪ সালে এই স্কুল ভবন তৈরি করা হয়। তবে ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও এক দিনের জন্যও ওই স্কুলে পঠনপাঠন হয়নি। স্কুল কার্যত গরু, ছাগল ও পাখিদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। ভেঙে পড়ছে চাঙর, ফাটল ধরেছে দেওয়ালে। ফলে বাধ্য হয়ে এলাকার পড়ুয়াদের ৫-১২ কিলোমিটার দূরে কুচিয়া ও বান্দোয়ান-সহ অন্যান্য এলাকার স্কুলে পড়তে যেতে হচ্ছে। কেউ কেউ আবার ঝাড়খণ্ড রাজ্যে কিংবা বাঁকুড়া জেলায় হস্টেলে থেকেও পড়াশোনা করছে।

এলাকাবাসীর দাবি, স্কুল ভবন তৈরির কাজ দেখে তাঁদের মনে আশা জেগেছিল, এ বার হয়তো তাঁদের ছেলেমেয়েদের আর দূরে পড়াশোনা করতে যেতে হবে না। তবে ভবন তৈরির পরে দশক পেরিয়েও স্কুলে পঠনপাঠন শুরু হওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা বলহরি সরেন ও গুরুচরণ সরেনের পরিবারের লোকেরা এখন আক্ষেপ করছেন। বলহরির ছেলে মহাদেব সরেন বলেন, ‘‘এলাকার ছেলেমেয়েরা যাতে বাড়ির কাছেই পড়াশোনা করতে পারে, সেই আশায় বাবা স্কুল ভবন তৈরির জন্য জমি দান করেছে। অথচ আজ আমাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে পড়ার সুযোগই পাচ্ছে না।আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে বাইরে হস্টেলে রেখে পড়াশোনা করাতে হচ্ছে। স্কুল চালু থাকলে ছেলেমেয়েকে নিজেদের কাছে রেখেই পড়াতে পারতাম।’’

আর এক জমিদাতা গুরুচরণ সরেনের নাতনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাঠরত রেখা সরেন বলে, ‘‘মা-বাবাকে ছেড়ে বাঁকুড়ার ফুলকুসমার একটি হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছি। বাবা-মাকে ছেড়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে।’’

গ্রামের বাসিন্দা মোহন সরেন বলেন, ‘‘স্কুল থাকার পরেও শিক্ষক নিয়োগের অভাবে পড়াশোনাই শুরু করা যায়নি, এমন স্কুল রাজ্যে আর কোথাও আছে না কি? আমাদের স্কুল থেকেই কি লাভ?’’ স্কুলে দ্রুত পঠন-পাঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পুরুলিয়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক মহুয়া বসাক বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এই সমস্যা হয়েছে। তবে অতিথি শিক্ষকের আবেদন পেলে আমরা শিক্ষক পাঠানোর ব্যবস্থা করব।’’

বিধানসভা ভোটের আগে এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির বান্দোয়ান মণ্ডল ৬ সভাপতি ধ্রুবপদ মাহাতোর কটাক্ষ, ‘‘শুধু খড়বন জুনিয়র হাইস্কুল কেন? জেলার বিভিন্ন এলাকায় কত স্কুলের এমনই অবস্থা।সরকারি টাকায় স্কুলভবন তৈরি হচ্ছে আর তার কাটমানি ঢুকছে তৃণমূল নেতাদের পকেটে। তারপরে স্কুল চালু হল কি, হল না সে খবর শাসক-নেতারা নেবেন কেন? জঙ্গলমহলের স্কুলগুলির শিক্ষকদের মোটা টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বদলি করা হচ্ছে। এ ভাবেই রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে তৃণমূল‌ সরকার।’’

অভিযোগ মানতে চাননি তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্য তৃণমূলের এসটি সেলের সাধারণ সম্পাদক কলেন্দ্রনাথ মান্ডির পাল্টা দাবি, ‘‘শিক্ষকের অভাবের কারণে ওই স্কুল চালুকরা যাচ্ছে না। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে আমরা তেমন হলে অতিথি শিক্ষক দিয়েই ওই স্কুলে পঠন-পাঠন শুরুর ব্যবস্থা করব।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Banduan

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy