Advertisement
E-Paper

ভাসছে সেতু, প্লাবিত গ্রাম

শুক্রবার রাত এবং শনিবার সকালের টানা বৃষ্টির জেরে বোলপুর মহকুমার একাধিক থানা এলাকা কার্যত জলের তলে। বহু গ্রামের মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। গ্রামে এবং ঘরে জল ঢোকার কারণে বহু মানুষ রাস্তার ওপরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০১৫ ০০:৫০
বৃষ্টিতে ভাঙা পড়েছে ঘর। আশ্রয়হীন শিশুর মুখে খাবার মায়ের। —নিজস্ব চিত্র।

বৃষ্টিতে ভাঙা পড়েছে ঘর। আশ্রয়হীন শিশুর মুখে খাবার মায়ের। —নিজস্ব চিত্র।

শুক্রবার রাত এবং শনিবার সকালের টানা বৃষ্টির জেরে বোলপুর মহকুমার একাধিক থানা এলাকা কার্যত জলের তলে। বহু গ্রামের মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। গ্রামে এবং ঘরে জল ঢোকার কারণে বহু মানুষ রাস্তার ওপরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। স্থানীয় ব্লক প্রশাসন অবশ্য পঞ্চায়েতের মাধ্যমে আশেপাশের স্কুলগুলিতে স্থানীয়দের আশ্রয়ের ব্যাবস্থা করেছে। তবে ওই সমস্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ সামগ্রী এখনও না যাওয়ায় ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ বোলপুর শহরের মানুষও।

দিন পনেরো আগে টানা বৃষ্টিতে বোলপুর পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে জল জমে প্রায় ২৪ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে ভোগান্তি হয়েছিল পুরবাসিন্দাদের। অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থার দাবিতে বোলপুর-সিউড়ি মুখ্য সড়কের উপর জামবুনি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথ অবরোধে নেমেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আশেপাশের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলার থেকে শুরু করে পুরপ্রধান সুশান্ত ভকত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু, নিকাশির কোনও ব্যবস্থাই যে নেয়নি পুরসভা তা পরিষ্কার হয়ে গেল শনিবার সকালে। ছয় নম্বর ওয়ার্ডের উদয়ন পল্লি, বাস স্ট্যান্ড, ফুটপাথ এমনকী রবীন্দ্র বীথি বাইপাস ও শ্রীনিকেতন রাস্তার উপরও হাঁটু জল জমেছে। শনিবার সকালে তাই বোলপুর শহরের জামবুনি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফের বিক্ষোভ ও পথ অবরোধে নামেন বাসিন্দারা। বোলপুরের পুরপ্রধান সুশান্ত ভকত বলেন, “পরিস্থিতি সরজমিনে দেখে আপাতত অস্থায়ী ভাবে জল গড়িয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। জল না কমলে কিছু ভাবতে পারছি না। শহরের নিকাশি নালার ব্যাবস্থা পরিকল্পনা মাফিক দ্রুত হবে।”

এ দিকে বোলপুর থানার কঙ্কালিতলা পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামে জল ঢোকার কারণে বহু মানুষ ঘর ছাড়া। ওই পঞ্চায়েতের উপ প্রধান মহম্মদ অহিদউদ্দিন এবং আশেপাশের সদস্যদের নিয়ে শনিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে অস্থায়ী ভাবে শিবির করে আশ্রয় নেওয়ার জন্য পরামর্শও দিয়েছেন। ওই পঞ্চায়েতের রাওতারা, মহুলা, বকডোগরা, সাঙ্গড়ি, কঙ্কালি গ্রামে জল ঢুকেছে। রাওতারার বাসিন্দা সোমনাথ বাগদী, নিত্যানন্দ বাগদী, সুধীর বাগদিরা বলেন, ‘‘শুক্রবার রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছে আবার শালনদীর জল বেড়েছে। ফলে একাধিক গ্রামে জল ঢুকেছে। মাঝ রাত থেকে মানুষজন রাস্তায় এবং আশেপাশের উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। কঙ্কালিতলা মন্দিরে জল ঢোকায় লাগোয়ে মহাদেব মন্দির পাশের জায়গায় মা কঙ্কালির পূজো করেছেন ঠাকুর মশাইরা। কঙ্কালিতলা, আদিত্যপুর-সহ আশেপাশের সংলগ্ন বহু গ্রামের শতাধিক মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য দিকে, পাড়ুই থানা ও পঞ্চায়েতের বুধুরা গ্রামে শতাধিক মাটির বাড়ি ভেঙ্গেছে। তপসিলি জাতি ও অনুন্নত সম্প্রদায়ের ওই গ্রামের বাসিন্দা বাদল কোঁড়া, মহাদেব কোঁড়া, সিধু কোঁড়া, জানান, মাঠের জল আর ক্যানেলের জল গ্রামে ঢোকায় বাড়িগুলি জলের তলায় চলে যায়। মাঝ রাতে যে যেমন পেরেছে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। অনেকের বাড়ির সামগ্রী ভেসেও গিয়েছে। এ দিন সকালে বুধুরা গ্রামের বাসিন্দা গুণধর মুখোপাধ্যায়ের উপর মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে। গুণধরবাবুর মামা কানাই চট্টোপাধ্যায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

জল ঢুকে প্রবল ক্ষতি হয়েছে, পাড়ুই থানার লাগোয়া বাঁধেরপাড়াতেও। শতাধিক মাটির বাড়ি ভেঙ্গেছে। বাঁধেরপাড়া আদাবসী পাড়ার বাসিন্দা বিনোদ কিস্কু, সুমি কিস্কু, লক্ষ্মী হাঁসদা, শুকল মুরমু, বিনোদ কিস্কু, লখু হাঁসদারা জানান, রাত বারোটা নাগাদ জল ঢুকতে শুরু করে গ্রামে। জল বাড়ছে দেখে আমরা সকলে রাস্তার উপর চলে আসি। একদিকে বৃষ্টির জল অন্যদিকে ক্যানেল এবং মাঠের জল মিশে যাওয়া জলের স্তর বেড়ে যায়। একই জলছবি ইলামবাজার থানা মঙ্গলডিহি পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামে জল ঢুকেছে। ভেঙ্গেছে শতাধিক মাটির বাড়ি।

বোলপুরের বিডিও শমীক পাণিগ্রাহী বলেন, “কঙ্কালিতলা, সাত্তোর, কসবা পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামে জল জমেছে। বাসিন্দাদের আপাতত স্থানীয় বিদ্যালয়ে অস্থায়ী ভাবে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। সহায়তার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত দফতর এবং ব্লক কার্যালয় সারারাত খোলা থাকছে।”

Bolpur Situation jambuni
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy