E-Paper

সিন্ডিকেট-রাজে ডুবছে শিল্প: মোদী

তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এলাকায় জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী গড়ার কথা ঘোষণার পরে এক শিল্প সংস্থা ইস্পাত কারখানা গড়েছে।

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩২
মোদির সভায় ভিড়। রায়বাঘিনী মাঠে।

মোদির সভায় ভিড়। রায়বাঘিনী মাঠে।

রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার রঘুনাথপুরের জঙ্গলসুন্দরী শিল্পনগরীর কথা তুলে ধরেন। পুরুলিয়ায় ভোটের প্রচারে এসে রঘুনাথপুরের শিল্প নিয়েই তৃণমূল সরকারকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাঁকুড়ায় দাবি করেন, তৃণমূলের ‘সিন্ডিকেট-রাজ’ শেষ না হলে শিল্পের বিস্তার হবে না।

পুরুলিয়ার রায়বাঘিনী ময়দানের সভায় রবিবার প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, রঘুনাথপুরে শিল্প করিডরের স্বপ্ন বিক্রি করা হয়েছিল। তার কী হল? সেই স্বপ্নও এই সিন্ডিকেটের লুটে ডুবে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘কারখানা এমনি এমনি আসে না। কারখানা ভরসা থেকে আসে। কারখানা চলে ভরসায়। বিনিয়োগ ভয় থেকে আসে না, ভরসা থেকে আসে। যেখানে রাস্তা বেহাল, বিদ্যুতের ঠিক নেই, সেখানে শিল্প আসতেই পারে না।’’

বামফ্রন্ট সরকারের আমলে রঘুনাথপুরে শিল্পায়নের সলতে পাকানো শুরু হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ডিভিসি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়লেও কিছু বেসরকারি সংস্থা জমি নিয়েও কারখানা আর করেনি। তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এলাকায় জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী গড়ার কথা ঘোষণার পরে এক শিল্প সংস্থা ইস্পাত কারখানা গড়েছে। আরও পাঁচটি শিল্প সংস্থা জমি পেয়েছে। সব মিলিয়ে ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে। পাল্টা বিজেপি দাবি করছে, একমাত্র ডিভিসি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেই দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এসেছে। যার শিলান্যাস করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীই।

অন্য দিকে, বাঁকুড়ায় তৃণমূল শাসনে শিল্পের বেহাল দশাকে এ বার নির্বাচনী প্রচারে হাতিয়ার করেছে বিজেপি। জেলায় সভা করতে এসে বিষ্ণুপুরে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট’ গড়ার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ দিন বড়জোড়ার ফুলবেড়িয়ার সভায় মোদী বলেন, “যতক্ষণ সিন্ডিকেটের লুটতরাজ চলবে, এখানে শিল্পের বিস্তার হবে না। আপনারা পদ্মফুল ফোটান, বিজেপি এই সিন্ডিকেট প্রথার স্থায়ী সমাধান করবে।”

অতীতে বড়জোড়া, মেজিয়া, গঙ্গাজলঘাটি শিল্পাঞ্চলের নানা কারখানায় শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে পছন্দের লোকজনকে কাজ দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো, কারখানায় গাড়ি ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইদানীং সেরকম অভিযোগ বিশেষ না উঠলেও নির্বাচনের মুখে বিষয়টিকে উস্কে দিয়ে শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট-রাজ নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী।

যদিও বড়জোড়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অলক মুখোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূলের আমলে বড়জোড়ার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ নেই, কারখানার মালিকেরাও শান্তিতে রয়েছেন।’’

যে এলাকায় প্রধানমন্ত্রী সভা করেন, তা বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ওই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিষ্ণুপুর, কোতুলপুর, ইন্দাস, সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্রগুলির উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বারকেশ্বর ও দামোদর নদ থেকে বালি চুরির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পাশেই শালতোড়া, মেজিয়া ব্লকে পাথর, কয়লা পাচার নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিষ্ণুপুরের মাফিয়ারা— বালি, পাথর ও কয়লার অবৈধ খননের সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূলের সিন্ডিকেট কান খুলে শুনে রাখো— এ সব আর চলবে না! তৃণমূলের সব গুন্ডা, সব সিন্ডিকেট ও সব দুর্নীতিবাজদের শেষ সুযোগ দিচ্ছি। ২৯ এপ্রিলের আগে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন। তার চেয়ে ভাল হয়, যদি ২৩ তারিখের আগেই করে নেন। কারণ, ৪ মে-র পরে আর কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।’’

যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর কটাক্ষ, “মোদীজি জেনে রাখুন, এত মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া বিজেপিকে রাজ্যবাসী রেহাই দেবে না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Narendra Modi BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy