কারও দৃষ্টি ক্ষীণ, কেউ বা পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তিহীন। অথচ ওদের নাচ দেখে এতটুকুও বোঝার উপায় নেই! শনিবার মানবাজার থানার মাঝিহিড়া আশ্রম বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এই সব বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু কিশোরের নাচ উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে গেল।
শনিবার বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে পুরুলিয়া জেলার মুখ্য অনুষ্ঠানটি ছিল মাঝিহিড়া আশ্রম বিদ্যালয়ে। মাঝিহিড়া ন্যাশনাল বুনিয়াদি এডুকেশন ইনস্টিটিউশনের কার্যকরী সম্পাদক প্রসাদ দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘আমরা এক দশক আগে থেকে এখানে প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের সন্ধান করে তাদের তালিকা তৈরি এবং জীবিকা উপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আপাতত মানবাজার ১ ও ২ এবং বরাবাজার ব্লক এলাকার মধ্যে আমরা কাজ করছি। এখানকার শিক্ষার্থীরা নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানেও যোগ দেয়।’’
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো বলেন, ‘‘প্রশিক্ষনের মাধ্যমে বিশেষ শিশুদের স্বাবলম্বী হিসাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মাঝিহিড়া আশ্রম পথ দেখিয়েছে। আগামী দিনে জেলার অন্য ব্লক থেকেও এই ধরনের শিশু-কিশোরদের সন্ধান করে এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’’ মহকুমাশাসক (পুরুলিয়া সদর) সন্দীপ টুডু জানান, এই আশ্রমের আবাসিকদের হাতের কাজ বাজারজাত করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ২০১৫ থেকে এই কেন্দ্রের তৈরি খাতা, ফাইল, খাম প্রভৃতি বিভিন্ন স্কুল ও অফিস ব্যবহার করছে। ওই প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ ছাড়াও হিসাব রাখতে শেখা কিংবা চিঠিপত্র লেখা শেখানো হয়। পাশাপাশি ছবি আঁকা, নাচ, খেলাধুলাতেও তারা যোগ দেয়। আপাতত ৩০ জন শিক্ষার্থী এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।