সকলের হাতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা। তাঁদের মুখে তৃণমূলের এক নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান। দল বেঁধে সকলে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাস্তার মোড়ে। অনুব্রত মণ্ডলের গাড়ি দেখেই হইহই করে ছুটে গেলেন সকলে। নেতার গাড়ি আটকে অনুযোগ জানালেন দলেরই আর এক নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে এমনই ঘটনা ঘটল বীরভূমের দুবরাজের জয়দেব মোড়ের কাছে। এর আগে কবে অনুব্রত এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা বলতে পারছেন না জেলা তৃণমূলেরই কেউ। অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল।
শনিবার বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রতের কনভয় আটকে দিয়ে কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল নেতা তরুণ গড়াইয়ের ‘অত্যাচারে’ তাঁরা অতিষ্ঠ। তরুণ দুবরাজপুর ব্লকের পদুমা গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি। আবার তৃণমূলের দুবরাজপুর ব্লক যুগ্ম আহ্বায়কও। কর্মীদের অভিযোগ, নানা আর্থিক দুর্নীতিতে তিনি যুক্ত। কাটমানি তোলেন নানা ভাবে। অনুব্রতের গাড়ির উইন্ডোস্ক্রিনের সামনে দাঁড়িয়ে কর্মীরা সমস্বরে বলেন, ‘‘তরুণ গড়াই পদুমা গ্রাম পঞ্চায়েতের বোধগ্রামে নানা অত্যাচার চালাচ্ছে।’’ কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ওকে সরান দাদা।’’ দৃশ্যতই অপ্রস্তুত দেখায় কেষ্টকে। তিনি হাত নেড়ে আশ্বাস দেন। সঙ্গে সঙ্গে ‘কেষ্টদা জিন্দাবাদ’, ‘অনুব্রত মণ্ডল জিন্দাবাদ’ স্লোগান ওঠে।
ক্ষুব্ধ ওই তৃণমূল কর্মীরা অনুব্রতের হাতে তরুণের বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ লেখা একটা চিঠি তুলে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
ওই ঘটনায় অনুব্রত আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে এমন ঘটনা জেলা তৃণমূলের পক্ষে মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। বস্তুত, বীরভূমে শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল বরাবরই চিন্তায় রেখেছে শীর্ষ নেতৃত্বকে। এ নিয়ে একাধিক বার বার্তা দিয়েছেন তাঁরা। শনিবারের ঘটনার প্রেক্ষিতে বীরভূম জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এটা দলের আভ্যন্তরীণ বিষয়। দলের কারও বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকতেই পারে। তা নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কেউ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এতে ভুল কিছু নেই। তবে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত। কোর কমিটির বৈঠকে নিশ্চয়ই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।’’