Advertisement
E-Paper

ঝাড়গ্রামে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে মার খেয়েছিলেন, শেষমেশ মারাই গেলেন কেশিয়াড়ির ইঞ্জিনিয়ার যুবক!

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ঝাড়গ্রামের বেশ কিছু এলাকায় লোকমুখে এবং সমাজমাধ্যমে রটে যায়, রাত হলেই নাকি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বাড়ির দরজায় টোকা দিচ্ছেন। দরজা খুললে তাঁরা ভোটার কার্ড, আধার কার্ড চাইছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৩
Engineer Death Case

সৌম্যদীপ চন্দ। —নিজস্ব ছবি।

গ্রামে ছড়িয়ে পড়া গুজবের জেরে প্রাণ হারালেন পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির এক ইঞ্জিনিয়ার। পরিবারের অভিযোগ, গণপিটুনিতে জখম হয়েছিলেন তিনি। প্রায় ১১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসার পরে মৃত্যু হয়েছে ৩৩ বছরের সৌম্যদীপ চন্দের। শুক্রবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ঝাড়গ্রামের বেশ কিছু এলাকায় লোকমুখে এবং সমাজমাধ্যমে রটে যায়, রাত হলেই নাকি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বাড়ির দরজায় টোকা দিচ্ছেন। দরজা খুললে তাঁরা ভোটার কার্ড, আধার কার্ড চাইছেন। ওই ভাবে কয়েকটি জায়গায় নগদ টাকা ও সোনার গয়না লুট হয়েছে বলে দাবি করা হয়। জেলার বিভিন্ন গ্রামে ওই গুজবে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। মাঠে নামতে হয় পুলিশকে। অন্য দিকে, ঝাড়গ্রামের জায়গায় জায়গায় রাতপাহারা দিতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা।

এরই মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি, রবিবার রাতে বাইক নিয়ে খড়্গপুরে নিজের কর্মস্থল (কারখানায়) যাচ্ছিলেন পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সৌম্যদীপ। সে দিন ‘নাইট ডিউটি’ ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির গিলেগেড়িয়া এলাকার বাসিন্দার। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ শুধুমাত্র গুজবের কারণে চোর সন্দেহে যুবককে কয়েক জন ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। ওই ঘটনাটি ঘটে খড়্গপুর লোকাল থানা এলাকার ভেটিয়া সংলগ্ন আনরকলি এলাকায়। পরে পুলিশ সৌম্যদীপকে উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেই রাতেই পরিবারের লোকজন ওড়িশার ভুবনেশ্বরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁকে।

পরিবারের দাবি, স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর আঘাত লেগেছিল সৌম্যদীপের। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ওই হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার দুপুরে সৌম্যদীপের কাকা, হোমিয়োপ্যাথি চিকিৎসক রিন্টু চন্দ বলেন, ‘‘এমন ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে। রটনার বশবর্তী হয়ে আর কোনও মায়ের কোল যেন খালি না করেন কেউ।’’ ওই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘‘এমন মারধর করা হয়েছিল যে ছেলেটি বেঘোরে মারা গেল। পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছিল সে দিনই।’’

অন্য দিকে, ভেটিয়া এলাকার মানুষেরা ওই ঘটনার পরের দিন দাবি করেছিলেন, সৌম্যদীপকে মারধর করা হয়নি। তাঁকে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল। কিন্তু জোরে বাইক চালাতে গিয়ে তিনি পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছিলেন। স্থানীয়দের কয়েক জনই তাঁকে উদ্ধার করেন।

ওই ঘটনায় কেউ আটক বা গ্রেফতার হননি। শনিবার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিকের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘‘ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’’

Death Case Kharagpur Engineer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy