দলে থেকেই ‘ফেসবুক’-এ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলে ‘সাসপেন্ড’ হয়েছিলেন। এ বার সরাসরি কলকাতায় গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন বড়জোড়ার মালিয়াড়া পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য বাপ্পা চন্দ্রাধূর্য। মঙ্গলবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলবদল করেন বাপ্পা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র উপস্থিতিতেই ওই দলে যোগ দেন তিনি।
বাপ্পার দাবি, তিনি একা নন। তাঁর সঙ্গে মালিয়াড়া পঞ্চায়েতের আরও চার জন তৃণমূল সদস্য, বড়জোড়া পঞ্চায়েত সমিতির এক তৃণমূল সদস্য-সহ মোট ১২৭ জন তৃণমূল কর্মী এ দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। তবে সে জন্য মালিয়াড়া পঞ্চায়েতে ক্ষমতার কোনও রদবদল হচ্ছে না।
ঘটনা হল, গত বিধানসভা নির্বাচনে মালিয়াড়ার একটি বুথের রিটার্নিং অফিসারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল বাপ্পার বিরুদ্ধে। সে মামলা এখনও চলছে।
এ দিন সে স্মৃতি উস্কে দিয়ে বড়জোড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি অলক মুখোপাধ্যায় বলেন, “বাপ্পা শৃঙ্খলাপরায়ণ নন। ওঁর বিরুদ্ধে ভোটে সরকারি বুথ-কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ রয়েছে। দল থেকেও ‘সাসপেন্ড’ করা হয়েছিল তাঁকে। এমন এক জনের দল থেকে সরে যাওয়ায় কিছু যায় আসে না।”
জেলার বাসিন্দা রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা দাবি করেন, “বিজেপির মত বিশৃঙ্খল দলেই বাপ্পাকে মানায়। তৃণমূলে এমন লোকের কোনও জায়গা নেই।”
বাপ্পাকে নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের কটাক্ষের প্রেক্ষিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের মারপিট আটকানোর জন্য আমাদের এমন ছেলেই দরকার। ছোটোখাটো দলীয় কর্মসূচিতে গিয়েও আমাদের কর্মীরা ওদের হামলার মুখে পড়ছেন। ভদ্রভাবে রাজনীতি তৃণমূল বোঝে না। এ বার আমরাও এমন ছেলেদের দিয়েই উত্তর দেব।”
তাঁর সংযোজন, “লোকসভা নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে বাঁকুড়ার মানুষ আমাদের পাশে আছেন। আসন্ন বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল শূন্য হবে।”
মালিয়াড়া পঞ্চায়েতে মোট ১৫টি আসন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সব ক’টি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল জেতে। বড়জোড়া পঞ্চায়েত সমিতিও বিরোধীশূন্য ভাবে দখলে রাখে তৃণমূল। বাপ্পার দাবি, “এ দিন দলবদলের ফলে, মালিয়াড়া পঞ্চায়েতের পাঁচটি আসন ও বড়জোড়া পঞ্চায়েত সমিতির একটি আসন বিজেপির হাতে এল। আগামী দিনে আরও বহু জনপ্রতিনিধি ও তৃণমূল কর্মীই বিজেপিতে যোগ দেবেন।’’
মালিয়াড়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৃণমূলের শান্তনু তিওয়ারি অবশ্য বাপ্পার দাবিকে অস্বীকার করে বলেন, “বাপ্পা-সহ তিন জন পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপিতে গিয়েছেন। এতে পঞ্চায়েতের বোর্ডে কোনও প্রভাব পড়বে না।”
এ দিন বিজেপিতে যোগ দেওয়া বড়জোড়া পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য কাঞ্চন বাউরি অভিযোগ করেন, “পঞ্চায়েত সমিতিতে একনায়কতন্ত্র চলছে। সদস্যদের একাংশ নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ কারছেন। রাজ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বিজেপিতে যোগ দিলাম।”
তৃণমূলে থাকাকালীন বাপ্পা বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁর অনুগামী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। লোকসভা ভোটের মুখে সৌমিত্র দল বদলে বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই বাপ্পার দলবদলের জল্পনা শুরু হয়।
কয়েকমাস আগে ‘ফেসবুক’-এ রাজ্যের মন্ত্রী তথা কোতুলপুরের বিধায়ক শ্যামল সাঁতরা এবং বড়জোড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি অলক মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন বাপ্পা। তার পরেই তৃণমূল তাঁকে ‘সাসপেন্ড’ করে।