পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো সরকারি মেডিক্যাল কলেজের হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলে পথে নামল তৃণমূল। বুধবার পুরুলিয়া ২ ব্লকের রাঘবপুর পঞ্চায়েত এলাকার কিছু তৃণমূলকর্মী বোঙাবাড়ি মোড় থেকে মেডিক্যালের হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসের গেট পর্যন্ত মিছিল করেন। হাতে ছিল দলীয় পতাকা। ব্যানারে লেখা— ‘বহিরাগতদের নিয়োগ মানছি না’।
স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশে পুরুলিয়ার হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে চতুর্থ শ্রেণির কিছু পদে একটি বেসরকারি সংস্থা কর্মী নিয়োগ করছে। তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। রবিবার মেডিক্যালের রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকেও নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন সমিতির এক সদস্য। তৃণমূলের রাঘবপুর অঞ্চলের সহসভাপতি সুরজিৎ দুবের নেতৃত্বে এ দিন বোঙাবাড়িতে মিছিলটি হয়েছে। সুরজিৎ বলেন, ‘‘এলাকায় মেডিক্যাল কলেজ গড়ে উঠেছে। চতুর্থ শ্রেণির পদে কেন বহিরাগতদের নিয়োগ করা হবে? স্থানীয় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি নিয়েই সরব হয়েছি। উপেক্ষা করা হলে, পরবর্তী কালে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।’’
এই নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে প্রথম মুখ খুলেছিলেন জেলা পরিষদের কো-মেন্টর জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নিয়োগে দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণ চলছে। রাজ্য নেতৃত্বের কাছে স্থানীয় স্তরে ওঠা অভিযোগের কথা রাজ্য নেতৃত্বকেও জানিয়েছিলেন বলে দাবি জয়বাবুর। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘বহিরাগতদের নিয়োগ করা নিয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন। মেডিক্যাল কলেজ হাতোয়াড়াতে গড়ে উঠেছে বলে শুধু স্থানীয় কর্মীদেরই নিয়োগ করা হবে, এমন দাবির কোনও বাস্তবতা নেই। তবে নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, তার সঙ্গে আমিও সহমত পোষণ করছি।’’
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তৃণমূলের সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে যখন অভিযোগ উঠেছে তখন রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানেরই উচিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া। পাশাপাশি, আমি দলের জেলা সভাপতি গুরুপদ টুডুর কাছেও এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন করব।’’ মেডিক্যালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো বলেন, ‘‘বিষয়টি সবে শুনলাম। কী হয়েছে খোঁজ নেব।’’ জেলা তৃণমূলের সভাপতি গুরুপদ টুডু বলেন, ‘‘খোঁজ নিয়ে দেখব।’’