আজ, বৃহস্পতিবার, ভিবিজি-রামজি প্রকল্পে জুড়ে যাচ্ছে বীরভূম জেলা। এমনই জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। জেলার প্রতিটি ব্লকের একটি করে কাজে হাত পড়বে বলে জানা গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের মতে, যে কাজ মানুষের উপকারে লাগে এবং যাতে স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি এমন কাজই বেছে নেওয়া হয়েছে। এ বার ১০০ দিনের বদলে কমপক্ষে ১২৫ দিনের কাজের ব্যবস্থা করা হবে এবং দিনপিছু মজুরি মিলবে ৩০০ টাকা করে। তবে উপভোক্তা বাছাইয়ে ক্ষেত্রে কড়া ঝাড়াইবাছাই করবে প্রশাসন।
নানা অভিযোগে প্রায় চার বছর ধরে রাজ্যে বন্ধ রয়েছে ১০০ দিন কাজের প্রকল্প ‘মহত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম’ (মনরেগা)। যা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বার বার সরব হয়েছে তৎকালীন তৃণমূল সরকার। কিন্তু তৃণমূল আমলে সে অর্থ মেলেনি। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্পের (ভিবিজি-রামজি) আইন পাশ করেছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে এ বার রাজ্যে শুরু হচ্ছে সেই ভিবিজি-রামজি প্রকল্প। পয়লা জুলাই, বুধবার, থেকেই রাজ্যে এ প্রকল্পরে পথ চলা শুরু হল। যার সঙ্গে এ বার জুড়ে যাবে জেলা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যে পালাবদলের পরে জুনে ‘মনরেগা-র’ কাজ শুরু হয়েছিল জেলায়। জেলায় এখন এমন ৫৩টি কাজ চলছে। সে প্রকল্পগুলিই ১২৫ দিনের কাজে যুক্ত হয়ে যাবে। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘এ দিনই সকাল ৮টা থেকে মনরেগা-র পোর্টাল বদলে ভিবিজি-রামজি পোর্টাল চালু হয়েছে। আগে থেকেই পঞ্চায়েতগুলিতে চিহ্নিত কাজের মাস্টার রোল জেনারেট হচ্ছে। এ প্রকল্পের বিশেষ অনুষ্ঠানে আজ, বৃহস্পতিবার, কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে জুড়বে জেলা বীরভূমও। প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি করে কাজে হাত পড়বে, যে কাজ এলাকার মানুষের উপকারে লাগে এবং সম্পদ সৃষ্টি হয়।’’
তবে প্রশাসন সূত্রে খবর, ১০০ দিনের কাজের উপভোক্তা বা জবকার্ডধারীদের প্রযুক্তি নির্ভর অস্তিত্ব যাচাই পর্ব শুরু হয়েছিল গত বছরের পুজোর সময় থেকে। উদ্দেশ্য ছিল, যাতে উপভোক্তাদের তালিকা স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করা যায়। জবকার্ডধারীদের প্রত্যেকের ছবি তোলা, আধার কার্ডের তথ্যও মিলিয়ে দেখা বা ই-কেওয়াইসির কাজ চলছিল। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ জবকার্ড রয়েছে। ই-কেওয়াইসি হলে উপভোক্তাদের প্রকৃত সংখ্যা বোঝা যাবে। উপভোক্তার মৃত্যু, চোখের মণির ছবি তোলার মতো সমস্যা ছাড়া যাচাই পর্ব প্রায় শেষের পথে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানান, ‘মনরেগার’ তুলনায় এই প্রকল্প স্বচ্ছতায় বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মিলিত প্রকল্পের প্রতি ধাপে ডিজিটাল নজরদারি, সামাজিক নিরীক্ষা চলবে। এখানে অনেক ধরনের কাজ হবে। সম্পদ সৃষ্টি, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়নের কাজ হবে। মজুরিও বেড়ে হয়েছে ৩০০ টাকা। তবে এই প্রকল্পে জেলার জন্য শ্রম বাজেটে কত ধরা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)