Advertisement
E-Paper

লোবায় গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা ডিএমের

প্রস্তাবিত খনি এলাকার মধ্যে থাকা ফকিরবেড়া, কোটা, লোবা কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকা, দেবীপুর, পলাশডাঙার মতো মৌজা ঘুরে দেখে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন জেলাশাসক।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০১:১০
পরিদর্শন: প্রস্তাবিত খোলামুখ কয়লাখনির জায়গা ঘুরে দেখলেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু। শনিবার লোবায়। নিজস্ব চিত্র

পরিদর্শন: প্রস্তাবিত খোলামুখ কয়লাখনির জায়গা ঘুরে দেখলেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু। শনিবার লোবায়। নিজস্ব চিত্র

লোবায় প্রস্তাবিত খোলামুখ কয়লাখনি গড়ার জন্য জমি সংক্রান্ত নথি তৈরির কাজ অনেকখানি এগিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে এমনই জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত খোলামুখ খনির ভৌগোলিক অবস্থান কী, সেখানে কৃষিজমির পরিমাণ, বসতবাড়ির সংখ্যা, এলাকাবাসীর জীবিকা, স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের অবস্থান, প্রকল্প ও পুর্নবাসন নিয়ে এলাকাবাসীর মনোভাব কী— সে সব খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখলেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু। শনিবার সকালে এলাকা পরিদর্শনে জেলাশাসকের সঙ্গী ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) পূর্ণেন্দু মাজি।

প্রস্তাবিত খনি এলাকার মধ্যে থাকা ফকিরবেড়া, কোটা, লোবা কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকা, দেবীপুর, পলাশডাঙার মতো মৌজা ঘুরে দেখে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন জেলাশাসক। লোবায় জমি আন্দোলনের প্রতীক মাটি কাটার যন্ত্র, যেটি আটকে রেখে আন্দোলনে নেমেছিলেন কৃষিজমি রক্ষা কমিটি ও এলাকাবাসী— সেটিও দেখেন জেলাশাসক। খনি তৈরির পরে বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে যেখানে পুর্নবাসন দেওয়া হবে, ১৪ নম্বর রাজ্য সড়ক ঘেঁষে থাকা সেই চিহ্নিত জায়গার অবস্থান দেখেন মৌমিতাদেবী। পরে সংবাদমাধ্যমকে ডিএম জানান, এলাকার মানুষের মনোভাব ইতিবাচক। তবে দু’দফায় পুর্নবাসনের জন্য যে ৫০০ একর এলাকা দেখা হয়েছে, সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা আদৌ যেতে চান কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন এলাকাবাসীরই।

লোবায় খোলামুখ কয়লাখনি তৈরির চেষ্টা চলছে বহুদিন ধরেই। অতীতে এ কাজে যৌথ ভাবে দায়িত্ব পেয়েছিলে ডিভিসি ও এমটা। কিন্তু জমিজটে সে কাজ এগোয়নি। কৃষিজমি রক্ষা কমিটির আন্দোলনের জেরে ২০১২ সালে থমকে গিয়েছিল প্রস্তাবিত কয়লাখনি গড়ার কাজ। আপত্তি তোলা হয়েছিল জমি কেনার পদ্ধতি নিয়েও। খনির জন্য প্রস্তাবিত ৩ হাজার ৩৫৩ একরের জমির মধ্যে প্রায় ৭০০ একর জমি কিনে নিলেও, কাজ থেকে হাত গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয় ডিভিসি-এমটা। পরে সুপ্রিমকোর্ট যে ক’টি কোল-ব্লক বণ্টন অবৈধ বলে ঘোষণা করে, সেই তালিকায় ছিল লোবায় খাগড়া জয়দেব প্রস্তাবিত খোলামুখ কয়লাখনি।

গত বছর মাটির নীচে কয়লা তোলার বরাত পায় দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন। পরের বছর মার্চের মধ্যেই কাজ শুরু করার কথা ছিল। সে জন্য গঠিত হয় কমিটিও। কিন্তু পুর্নবাসন, ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ কী হবে সে প্রশ্ন দূরে, এলাকার জমির প্রকৃত মালিক কারা সেই সমীক্ষার প্রাথমিক কাজ শেষ হওয়া নিয়েই ধোঁয়াশা ছিল। জমি সমীক্ষার ক্ষেত্রে ‘মাঠ খসড়া’ নিয়ে ধোঁয়াশা ছড়িয়েছিল। পরে নিঃশব্দে স্ট্যাটাস রিপোর্ট তৈরি করা হয়।

শনিবার লোবা এলাকা পরিদর্শনে এসে জেলাশাসক জানান, ‘‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট তৈরি হওয়া মানে পেপার ওয়ার্কসের কাজ অনেক এগিয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত ও প্রস্তাবিত খনি এলাকার গ্রামগুলিতে ওই রিপোর্ট টাঙিয়ে দিয়ে কোনও প্লটের মালিকানা নিয়ে দাবি বা আপত্তি তুলতে ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হবে।’’

প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কৃষিজমি রক্ষা কমিটির সম্পাদক জয়দীপ মজুমদার। তিনি বলছেন, ‘‘শিল্প হোক আমরা চাই। তবে সকলের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে। যে ভাবে প্রশাসন এখন উদ্যোগ নিচ্ছে সেটা অতীতে নেওয়া হয়নি।’’

Coal Mine District Magistrate Villagers
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy