E-Paper

মাফিয়াদের উপরে বুলডোজ়ার চলবে, হুঁশিয়ারি যোগীর

ঝালদা ২ ব্লকের যেখানে সভা করেছেন যোগী, সেই এলাকায় কুম্ভকার সম্প্রদায়ের বাস। তাছাড়া, জয়পুর বিধানসভায় কুমোর সম্প্রদায়ের ৪০ শতাংশের বেশি ভোট আছে।

দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় 

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৫
কোটশিলায় বিজেপির সভায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

কোটশিলায় বিজেপির সভায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ছবি: দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আর বুলডোজ়ার কার্যত সমার্থক হয়ে উঠেছে। বাঁকুড়ায় দেখা গিয়েছে বিজেপির মিছিলে শামিল বুলডোজ়ার।সোমবার পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাহাতোর সমর্থনে জনসভা করতে এসে সেই বুলডোজ়ার প্রসঙ্গই তুললেন যোগীও।দাবি করলেন, ‘‘তৃণমূলের যত গুন্ডা হুমকি দিচ্ছে, মনে রাখবেন উত্তরপ্রদেশের মতো ওই মাফিয়াদের উপরে বুলডোজার চলবে, যেমন সেখানে রাস্তায় চলে।”

এ দিন জয়পুর বিধানসভার অন্তর্গত ঝালদা ২ ব্লকের বামনিয়া গ্রাম সংলগ্ন মাঠে সভায় বক্তৃতা করতে গিয়ে বন্দেমারতমের দেড়শো বছর পূর্তির প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যে ক্ষমতা থেকে তৃণমূলের সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানান যোগী আদিত্যনাথ। উত্তরপ্রদেশের কুম্ভকার (কুমোর) সম্প্রদায়ের উন্নয়নে তাঁর সরকারের প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।যোগী বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশে কুম্ভকার সম্প্রদায়ের জন্য এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বিনামূল্যে পুকুরের মাটির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ঝালদা ২ ব্লকের যেখানে সভা করেছেন যোগী, সেই এলাকায় কুম্ভকার সম্প্রদায়ের বাস। তাছাড়া, জয়পুর বিধানসভায় কুমোর সম্প্রদায়ের ৪০ শতাংশের বেশি ভোট আছে। এ বার বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলের কাছেই কুম্ভকারদের একাংশ তাঁদের সম্প্রদায় থেকে প্রার্থী করার আবেদনও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিজ়েপি ও তৃণমূল দুই দলই কুর্মি সম্প্রদায়ের প্রার্থী করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতির সুবিধা পেতে পারে কংগ্রেস। কারণ, জয়পুরে হাত চিহ্নে এ বারও প্রার্থী হয়েছেন কুম্ভকার সমাজের ফণিভূষণ কুমার। কুম্ভকারদের ভোট একযোগে কংগ্রেসের দিকে গেলে বিপাকে পড়তে পারে দুই ফুলই। সেই প্রেক্ষিতেই উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার কুমোর সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কী করেছে, সেই ব্যাখ্যা সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে তৃণমূলের ঝালদা ২ ব্লকের সভাপতি চিত্তরন্জন মাহাতোর মতে, ‘‘এই রাজ্যের সংস্কৃতির সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের সংস্কৃতি কোনও ভাবেই খাপ খায় না।তাই সেখানকার বুলডোজ়ার নীতিকে এ রাজ্যে যে ভাবে আনতে চাইছে বিজেপি, তাকে ভাল চোখে দেখছেন না রাজ্যবাসী।” আর কুম্ভকার সম্প্রদায়ের ভোট পেতে যোগীর বক্তব্য নিয়ে চিত্তরঞ্জনের দাবি, ‘‘বিজেপি শাসিত রাজ্যেই জাতপাত, ধর্মের ভিত্তিতে ভোটের বিভাজন হয়। আর এখানে সব সম্প্রদায়ই মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি করা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রকল্পগুলির সুযোগ পাচ্ছেন। তাই ভোট হবে উন্নয়নের স্বার্থে।” মুখ্যমন্ত্রী কুম্ভকারদের জন্য উন্নয়ন পর্ষদও ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন, মনে করাচ্ছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

এ দিন যোগীর সভায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন দলের সম্পাদক তথা সিএডিসির চেয়ারম্যান বিকাশ মাহাতো ও বলরামপুরের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সুভাষ দাস। তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলার চেয়ারপার্সন শান্তিরাম মাহাতোর অবশ্য দাবি, ‘‘ওই দু’জনই অন্য দল থেকে তৃণমূলে এসেছিলেন। দল তাঁদের যথাযথ গুরুত্বও দিয়েছিল। তাঁর মর্যাদা ওঁরা রাখতে পারলেন না। ওঁদের দলত্যাগে তৃণমূলের সাংগঠনিক ক্ষতি হবে না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

joypur Yogi Adityanath

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy