লাভপুর-কাণ্ডের ক্ষত এখনও টাটকা। এরই মধ্যে ফের এক আদিবাসী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ বারের ঘটনাস্থল সিউড়ি। ইতিমধ্যে দুই অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, “ধৃত বিনোদ হাঁসদা ও বিজয় মুর্মুকে আজ, মঙ্গলবার সিউড়ি আদালতে তোলা হবে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথা অনুযায়ী দোলের দিন সরস্বতী প্রতিমা বিসর্জন হয় ওই গ্রামের। সেই মতো রবিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ গ্রামের পশ্চিমপাড়া থেকে পূর্ব পাড়ায় শোভাযাত্রা যাচ্ছিল। স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীও শোভাযাত্রায় হাঁটছিল। ওই সময় তার মুখে কেউ রং লাগিয়ে দেয়। রং ধোওয়ার জন্য রাস্তার ধারে থাকা নলকূপে গেলে, দুই যুবক তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। হারাইপুর মাঠে ওই কিশোরীকে পড়ে থাকতে দেখে গ্রামেরই কিছু লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেন। এর পরে সোমবার সকালে কিশোরীটি সিউড়ি মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এ দিনই তার ডাক্তারি পরীক্ষা হয়।
ভোটের মুখে এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং লেগেছে। তৃণমূলের সিউড়ি ২ ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলামের দাবি, “অভিযুক্তরা সকলেই সিপিএম করে। তাই সালিশি সভা বসিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন স্থানীয় সিপিএম নেতা শ্যাম বেসরা।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল করার অপরাধে কিশোরীটির এক আত্মীয়ার উপরে অত্যাচার করেছে সিপিএম। এ বার তাঁর ভাইঝির উপর অত্যাচার হল। শ্যাম বেসরা অবশ্য বলেন, “এর মধ্যে রাজনীতি নেই। সালিশি সভা বসানোর চেষ্টার অভিযোগ মিথ্যা।” সিপিএমের সিউড়ি জোনাল সম্পাদক দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, “ভোটে ফায়দা তুলতে তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনায় আমাদের জড়িয়ে জড়িয়েছে।”
অন্য দিকে, বীরভূমের লাভপুর থানা এলাকার একটি গ্রামের মূক ও বধির তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে কালু শেখ নামে ওই থানার ঠাকুরপাড়া গ্রামের এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার বিকেলের ঘটনা। ওই তরুণী বাড়ি গিয়ে অভিযুক্তকে চিনিয়ে দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।